দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও চলমান টিকাদান কর্মসূচির ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমেই কমছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে বলা হয়, বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার প্রথম পর্যায়ে (৫ এপ্রিল) যে এলাকায় টিকাদান চালানো হয়েছে সেখানে পাঁচ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে হামের নতুন কেস উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই তথ্য বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস সাংবাদিকদের জানান, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মাঠে দেখা যেতে সাধারণত ২–৩ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ এপ্রিল থেকে চালু করা টিকাদান কর্মসূচির ফলে হটস্পটে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে; বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। তিনি এ ফলকে টিকাদানের কার্যকারিতার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই ধারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায়ও।
ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ সন্তোষজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিন ইপিআই কর্মসূচিকে জোরদার করা। এই রুটিনের আওতায় শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে। তিনি আরও বলেন, জাতীয়ভাবে টিকার কাভারেজ ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আলাদা বড় ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন পড়বে না।
ডা. রিয়াদ সতর্ক করে বলেন যে এমআর (মীজেলস-রুবেলা) টিকার ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ শুরু হয় ৯ মাস থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে হওয়ায় অনেক সময় অভিভাবকরা এই টিকা দেওয়া ভুলে যান। তিনি পরিবারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, শিশুদের যথাযথ দুই ডোজ টিকা দিলে জাতিগতভাবে হামের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলায় ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।
মহাপরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ। তিনি বলেছে যে প্রাথমিকভাবে টিকাদান চালানো এলাকায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে যে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়েছে এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের টিকাও পর্যাপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান পৌঁছে যাওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অবশ্যই বিশেষ ক্যাম্পেইনগুলোতে অগ্রগতি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য রুটিন টিকাদান ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া, স্থানীয় স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য—এমনই বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























