০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

দোহাজারী ৩১ শয্যা হাসপাতাল অন্ধকারে, মোবাইলের আলোয় চলছে চিকিৎসা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ে ভুগছে। গত মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী বিদ্যুৎ 공급 বন্ধ থাকায় হাসপাতাল পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায় এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অনেকাংশেই মোবাইল ফোনের টর্চলাইটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং চলতি মুহূর্তেও সেটি কার্যকর ছিল না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের সর্বত্র অন্ধকার নেমে আসে এবং জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে নোট নেওয়া বা রোগী পর্যবেক্ষণ করাও একই আলোতে করতে হয়, যা চিকিৎসা সেবার মান ও সুবিধা দুটোই নেমে আসে বলে তারা জানান।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎবিহীনতার কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে ও তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা বদিউল আলম বলেন, এখানে জেনারেটর নেই, আইপিএসও প্রায়ই নষ্ট থাকে। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং—বাধ্য হয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যায় না।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে রাউন্ড দিতে হচ্ছে। কষ্টের হলেও রোগীদের সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।’’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে সেগুলো চালু রাখা যাচ্ছেনা। জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের উদ্বেগ, হাসপাতালে জরুরি ও ভর্তিভিত্তিক সেবায় বিঘ্ন এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সেবার অভাব—এসব বিষয় দ্রুত সমাধান না হলে রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও সমাধান দাবি করে স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

দোহাজারী ৩১ শয্যা হাসপাতাল অন্ধকারে, মোবাইলের আলোয় চলছে চিকিৎসা

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ে ভুগছে। গত মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী বিদ্যুৎ 공급 বন্ধ থাকায় হাসপাতাল পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায় এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অনেকাংশেই মোবাইল ফোনের টর্চলাইটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং চলতি মুহূর্তেও সেটি কার্যকর ছিল না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের সর্বত্র অন্ধকার নেমে আসে এবং জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে নোট নেওয়া বা রোগী পর্যবেক্ষণ করাও একই আলোতে করতে হয়, যা চিকিৎসা সেবার মান ও সুবিধা দুটোই নেমে আসে বলে তারা জানান।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎবিহীনতার কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে ও তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা বদিউল আলম বলেন, এখানে জেনারেটর নেই, আইপিএসও প্রায়ই নষ্ট থাকে। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং—বাধ্য হয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যায় না।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে রাউন্ড দিতে হচ্ছে। কষ্টের হলেও রোগীদের সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।’’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে সেগুলো চালু রাখা যাচ্ছেনা। জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের উদ্বেগ, হাসপাতালে জরুরি ও ভর্তিভিত্তিক সেবায় বিঘ্ন এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সেবার অভাব—এসব বিষয় দ্রুত সমাধান না হলে রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও সমাধান দাবি করে স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।