১২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন হবে সরকার বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সেতুমন্ত্রী জামায়াতকে রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিলেন ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, চার নদী বিপৎসীমার ওপর সাংসদে অসুস্থ এমপি রবিউল বাশারের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

৩০ হটস্পট উপজেলায় টিকাদানে হামের সংক্রমণ সীমিত হচ্ছে

দেশে হামের (মিজেলস) প্রাদুর্ভাব বাড়ার মধ্যেই টিকাদান কার্যক্রমে আগের তুলনায় ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর পর শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই অভিযান দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করা হয় এবং তার পরে নতুন রোগী সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা দেখতে সাধারণত দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩০টি হটস্পট উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান শুরু করার পর নতুন আক্রান্তদের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে এবং বিশেষত ১৭ এপ্রিলের পর থেকে এই এলাকাগুলোতে রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই ধরণের প্রবণতা কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে শিগগিরই দেশের অন্যান্য অংশেও টিকার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে।

ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে দীর্ঘমেয়াদে হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা—যেখানে শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে। তিনি বলেন, জাতীয় ভাবে টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত হলে আলাদা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজনই পড়বে না।

ডা. রিয়াদ আরও বলেন, অন্যান্য অনেক টিকার ক্ষেত্রে শেষ ডোজ দেওয়া তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়, কিন্তু হামের জন্য এমআর টিকা প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে হওয়ায় অনেক পিতা-মাতারা দ্বিতীয় ডোজটি ভুলে যান। তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান, মা-বাবারা যেন সন্তানদের দুই ডোজই সম্পূর্ণ করেন—এভাবে জাতীয় কভারেজ ৯৫ শতাংশে পৌঁছালে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলায় ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে যুক্ত করা হয়। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা লক্ষ্যভিত্তিক মোট সংখ্যানের প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পেইন করা এলাকায় সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে তিনি আবারও নিশ্চিত করেন। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের জন্যও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখা আছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান পৌঁছানোর কথা তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যকর্তারা একসাথে সবাইকে সচেতন থাকতে এবং ক্যাম্পেইন ও রুটিন টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, ধারাবাহিক টিকাদান এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদারের ফলে খুব শিগগিরই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৩০ হটস্পট উপজেলায় টিকাদানে হামের সংক্রমণ সীমিত হচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের (মিজেলস) প্রাদুর্ভাব বাড়ার মধ্যেই টিকাদান কার্যক্রমে আগের তুলনায় ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর পর শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই অভিযান দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করা হয় এবং তার পরে নতুন রোগী সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা দেখতে সাধারণত দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩০টি হটস্পট উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান শুরু করার পর নতুন আক্রান্তদের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে এবং বিশেষত ১৭ এপ্রিলের পর থেকে এই এলাকাগুলোতে রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই ধরণের প্রবণতা কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে শিগগিরই দেশের অন্যান্য অংশেও টিকার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে।

ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে দীর্ঘমেয়াদে হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা—যেখানে শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে। তিনি বলেন, জাতীয় ভাবে টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত হলে আলাদা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজনই পড়বে না।

ডা. রিয়াদ আরও বলেন, অন্যান্য অনেক টিকার ক্ষেত্রে শেষ ডোজ দেওয়া তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়, কিন্তু হামের জন্য এমআর টিকা প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে হওয়ায় অনেক পিতা-মাতারা দ্বিতীয় ডোজটি ভুলে যান। তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান, মা-বাবারা যেন সন্তানদের দুই ডোজই সম্পূর্ণ করেন—এভাবে জাতীয় কভারেজ ৯৫ শতাংশে পৌঁছালে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলায় ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে যুক্ত করা হয়। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা লক্ষ্যভিত্তিক মোট সংখ্যানের প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পেইন করা এলাকায় সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে তিনি আবারও নিশ্চিত করেন। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের জন্যও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখা আছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান পৌঁছানোর কথা তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যকর্তারা একসাথে সবাইকে সচেতন থাকতে এবং ক্যাম্পেইন ও রুটিন টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, ধারাবাহিক টিকাদান এবং রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদারের ফলে খুব শিগগিরই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।