১২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন হবে সরকার বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সেতুমন্ত্রী জামায়াতকে রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিলেন ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, চার নদী বিপৎসীমার ওপর সাংসদে অসুস্থ এমপি রবিউল বাশারের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রকে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সরকারি সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে সোমবার (২৯ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, হাওরাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সরকার সহায়তা দেবে। সংসদ অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় শুরু হয়; প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সংসদে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওরের ব্যাপক বৃষ্টিতে ধানক্ষয়ের মতো পরিস্থিতির বিবরণ তুলে ধরা হয়। 이에 প্রধানমন্ত্রী জানান, তিন দিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীকে নিয়ে পরামর্শ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চল ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় তীব্র বর্ষণে ক্ষতি হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লোকেশনভিত্তিকভাবে শনাক্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঢাকার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিস্তারিতভাবে বক্তব্য দেন। ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ রূপে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাপ্তাহিক জনসচেতনতা কার্যক্রম, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে; ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতিসহ পরিবেশসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে কোরিয়া-ভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে মিলিয়ে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে শূন্য বর্জ্য (জিরো ওয়েস্ট) লক্ষ্য করা হবে।

ঢাকার সবুজায়নের পরিকল্পনায় রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও খাল পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, মেট্রোরেলের নিচের ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অংশগুলোতে বৃক্ষরোপণ এবং ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ আ-type নগর বনায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়াও জাতীয় প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বয়ে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কালো ধোঁয়া বের করা যানবাহন, নির্মাণকাজ ও কনস্ট্রাকশন সামগ্রীর কারণে হওয়া দূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে, আর ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে—এমন পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। নদী-খাল ও জলাশয় দূষণরোধে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করে ২৪৮ প্রতিষ্ঠানে সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে; রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ইটিপিতে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগসহ নদনদীর দূষণের উৎস ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে এবং মহানগরীর ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎসও চিহ্নিত করেছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমানের তীব্র আপত্তির জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, চলতি অতিবর্ষণে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা দ্রুত সমাধান করা সহজ নয়। তিনি চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে বলেও জানান। বার্ষিকভাবে খাল খননের মাধ্যমে পানির রিজার্ভার তৈরি এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলার কাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, বর্তমান সরকারও এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নগরাঞ্চলে প্লাস্টিক, পলিথিন ও বোতল ফেলার কারণে খাল, ড্রেন ও নর্দমাগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; সরকার খাল খনন ও ড্রেন পরিষ্কার করছে, কিন্তু ৭-১০ দিনের মধ্যে আবার ময়লা ফেললে আগের অৱস্থা ফিরে আসে। তাই কেবল সরকার নয়, জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অন্য একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষণা করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে; ধীরে ধীরে চার কোটি পরিবারের লক্ষ্যে বাড়ানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে স্থানীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং এটি একটি বিনিয়োগ যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে উপকার করবে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘোষণা ও পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট যে, বর্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলা, শহর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সবুজায়ন—এসব ক্ষেত্রেই সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো হচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ না বাড়লে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে—এ কথাই বারবার সংসদে উল্লিখিত হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সরকারি সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে সোমবার (২৯ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, হাওরাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সরকার সহায়তা দেবে। সংসদ অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় শুরু হয়; প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সংসদে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওরের ব্যাপক বৃষ্টিতে ধানক্ষয়ের মতো পরিস্থিতির বিবরণ তুলে ধরা হয়। 이에 প্রধানমন্ত্রী জানান, তিন দিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীকে নিয়ে পরামর্শ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চল ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় তীব্র বর্ষণে ক্ষতি হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লোকেশনভিত্তিকভাবে শনাক্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঢাকার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিস্তারিতভাবে বক্তব্য দেন। ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ রূপে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাপ্তাহিক জনসচেতনতা কার্যক্রম, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে; ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতিসহ পরিবেশসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে কোরিয়া-ভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে মিলিয়ে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে শূন্য বর্জ্য (জিরো ওয়েস্ট) লক্ষ্য করা হবে।

ঢাকার সবুজায়নের পরিকল্পনায় রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও খাল পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, মেট্রোরেলের নিচের ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অংশগুলোতে বৃক্ষরোপণ এবং ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ আ-type নগর বনায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়াও জাতীয় প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বয়ে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কালো ধোঁয়া বের করা যানবাহন, নির্মাণকাজ ও কনস্ট্রাকশন সামগ্রীর কারণে হওয়া দূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে, আর ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে—এমন পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। নদী-খাল ও জলাশয় দূষণরোধে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করে ২৪৮ প্রতিষ্ঠানে সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে; রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ইটিপিতে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগসহ নদনদীর দূষণের উৎস ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে এবং মহানগরীর ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎসও চিহ্নিত করেছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমানের তীব্র আপত্তির জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, চলতি অতিবর্ষণে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা দ্রুত সমাধান করা সহজ নয়। তিনি চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে বলেও জানান। বার্ষিকভাবে খাল খননের মাধ্যমে পানির রিজার্ভার তৈরি এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলার কাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, বর্তমান সরকারও এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নগরাঞ্চলে প্লাস্টিক, পলিথিন ও বোতল ফেলার কারণে খাল, ড্রেন ও নর্দমাগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; সরকার খাল খনন ও ড্রেন পরিষ্কার করছে, কিন্তু ৭-১০ দিনের মধ্যে আবার ময়লা ফেললে আগের অৱস্থা ফিরে আসে। তাই কেবল সরকার নয়, জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অন্য একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষণা করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে; ধীরে ধীরে চার কোটি পরিবারের লক্ষ্যে বাড়ানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে স্থানীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং এটি একটি বিনিয়োগ যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে উপকার করবে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘোষণা ও পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট যে, বর্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলা, শহর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সবুজায়ন—এসব ক্ষেত্রেই সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো হচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ না বাড়লে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে—এ কথাই বারবার সংসদে উল্লিখিত হয়েছে।