প্রায় ৮০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধায় ভুগছে দক্ষিণ সুদানে — এমনই সতর্কতা জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত এবং সরবরাহ অবরোধের প্রভাবে দেশটিতে খাদ্যসংকট তীব্র হয়েছে বলে অভিমত জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যে দেখা যায়, দেশটির প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। খাদ্যসংকট মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি অনিবার্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) ও ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে জরুরি সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে চিকিৎসা, পুষ্টি ও জরুরি খাদ্য সহায়তা দ্রুত না পৌঁছালে বিশেষত শিশু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে মৃত্যুর হার বাড়তে পারে।
সংস্থাগুলোর বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি শিশু নতুন করে তীব্র পুষ্টিহীনতার তালিকায় যোগ করেছে। এতে মোট পুষ্টিহীন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ লাখে; এদের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ শিশু জীবনঝুঁকিতে রয়েছে। অনলাইন আল জাজিরার রিপোর্ট বলছে, অনেক শিশু নিয়ে এতটাই সংকট যে তারা ঠিকমতো খাবারও পাচ্ছে না এবং উপযুক্ত চিকিৎসাও বাধ্যতামূলকভাবে যাচ্ছে না।
দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও প্রতিবেশি সুদানের সঙ্গে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দুর্বল শাসন ব্যবস্থার কারণে দেশে আবারও বড়পরিসরে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বে ২০১৮ সালে সাত বছরব্যাপি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ বন্ধ হয়; ওই সংঘাতের সময় প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
এই নতুন উত্তেজনার পেছনে বর্তমানে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সালভা কির মায়ারদিত এবং বরখাস্ত করা উপ-প্রেসিডেন্ট রিক মাচারের মধ্যে বিরোধকে নিয়েই দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য ও শান্তি উদ্যোগ দ্রুত না বাড়ালে দক্ষিণ সুদান এই মানবিক সংকট থেকে বেরোতে পারবে না—বিশ্ব সম্প্রদায়ের তৎপরতা এখন সময়ের দাবি।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























