১২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের রিজভী: দিল্লিকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে হামে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারকে পরিবারপ্রতি ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট রিজভী: দিল্লিকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সড়ক, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ’ প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দিল ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি শিল্পমন্ত্রী: বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল দ্রুত পুনঃচালুর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

শেষ বলের নাটকে আরসিবি জিতল, আইপিএল থেকে বিদায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্তে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২ উইকেটে হেরে আইপিএল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শেষ বল পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উত্তেজনা চললেও জয়ের হাসি হেসেছে আরসিবিরা, ফলে মুম্বাইয়ের প্লে-অফে যাওয়ার সব গাণিতিক সম্ভাবনা শূন্যে নেমে এসেছে।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মুম্বাই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি শেষ ওভার পর্যন্ত কড়ায় পড়ে থাকলেও শেষ ওভারে বেঙ্গালুরু যেতে হয়েছিল ১৫ রানের প্রয়োজনীয়তার মুখে। মুম্বাই অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব শেষ ওভার বোলিংয়ের দায়িত্ব দেন তরুণ বোলার রাজ বাওয়ার উপর।

চাপের মুহূর্তে রাজ বাওয়ার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ঢলে পড়ে—ওই ওভারে তিনি শুরুতেই একটি ওয়াইড এবং একটি নো-বলসহ মোট চারটি ওয়াইডসহ ৫টি অতিরিক্ত রান দেন। শেষ বলে আরসিবির জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দুই রান। স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকা রসিক সালাম দার একটি শট সরাসরি বোলারের দিকে গিয়েছে, তবু রাজ বাওয়া সেটি ধরতে পারেননি এবং বেঙ্গালুরু দুই রান নিয়ে উল্লাসে ভাসে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। কেউ কেউ ফিল্ডিং পর্যায়ে ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন—ফিল্ডার যদি উইকেটরক্ষকের বদলে বোলারের প্রান্তে (বোলিং এন্ডে) বল ছুঁড়তেন, তাহলে নন-স্ট্রাইকারকে রান আউট করার সুযোগ থাকত এবং ম্যাচটি সুপার ওভারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ফিল্ডিং মিস ও বোলারের পজিশনে বল ফিরে না থাকায় মুম্বাই সেই সুযোগ নষ্ট করে।

ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রানে মুম্বাইয়ের চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন এবং তার এই দুর্দান্ত বোলিং স্পেলের জন্য ম্যাচ শেষে তিনি প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

এই পরাজয়ের পর ১১ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ পয়েন্টে। হাতে থাকা বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হবে ১২ পয়েন্ট, যা ইতোমধ্যে শীর্ষ চার দলের অর্জিত পয়েন্টের চেয়ে কম—ফলে প্লে-অফের সব অনিশ্চয়তা মিটে গেছে।

পরাজয়ের পর দলের সতীর্থ ও সমর্থকদের সমালোচনার ঝড়ের মাঝেও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রাজ বাওয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ বাওয়া পুরো মরসুম ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং শেষ ওভারের ভুলকে এককভাবে দাবির মুখে আনা ঠিক নয়। দলের জন্য হতাশার মুহূর্ত হলেও সূর্যকুমারের এই সমর্থন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে সামলে উঠতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

শেষ বলের নাটকে আরসিবি জিতল, আইপিএল থেকে বিদায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্তে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২ উইকেটে হেরে আইপিএল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শেষ বল পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উত্তেজনা চললেও জয়ের হাসি হেসেছে আরসিবিরা, ফলে মুম্বাইয়ের প্লে-অফে যাওয়ার সব গাণিতিক সম্ভাবনা শূন্যে নেমে এসেছে।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মুম্বাই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি শেষ ওভার পর্যন্ত কড়ায় পড়ে থাকলেও শেষ ওভারে বেঙ্গালুরু যেতে হয়েছিল ১৫ রানের প্রয়োজনীয়তার মুখে। মুম্বাই অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব শেষ ওভার বোলিংয়ের দায়িত্ব দেন তরুণ বোলার রাজ বাওয়ার উপর।

চাপের মুহূর্তে রাজ বাওয়ার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ঢলে পড়ে—ওই ওভারে তিনি শুরুতেই একটি ওয়াইড এবং একটি নো-বলসহ মোট চারটি ওয়াইডসহ ৫টি অতিরিক্ত রান দেন। শেষ বলে আরসিবির জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দুই রান। স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকা রসিক সালাম দার একটি শট সরাসরি বোলারের দিকে গিয়েছে, তবু রাজ বাওয়া সেটি ধরতে পারেননি এবং বেঙ্গালুরু দুই রান নিয়ে উল্লাসে ভাসে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। কেউ কেউ ফিল্ডিং পর্যায়ে ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন—ফিল্ডার যদি উইকেটরক্ষকের বদলে বোলারের প্রান্তে (বোলিং এন্ডে) বল ছুঁড়তেন, তাহলে নন-স্ট্রাইকারকে রান আউট করার সুযোগ থাকত এবং ম্যাচটি সুপার ওভারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ফিল্ডিং মিস ও বোলারের পজিশনে বল ফিরে না থাকায় মুম্বাই সেই সুযোগ নষ্ট করে।

ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রানে মুম্বাইয়ের চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন এবং তার এই দুর্দান্ত বোলিং স্পেলের জন্য ম্যাচ শেষে তিনি প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

এই পরাজয়ের পর ১১ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ পয়েন্টে। হাতে থাকা বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হবে ১২ পয়েন্ট, যা ইতোমধ্যে শীর্ষ চার দলের অর্জিত পয়েন্টের চেয়ে কম—ফলে প্লে-অফের সব অনিশ্চয়তা মিটে গেছে।

পরাজয়ের পর দলের সতীর্থ ও সমর্থকদের সমালোচনার ঝড়ের মাঝেও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রাজ বাওয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ বাওয়া পুরো মরসুম ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং শেষ ওভারের ভুলকে এককভাবে দাবির মুখে আনা ঠিক নয়। দলের জন্য হতাশার মুহূর্ত হলেও সূর্যকুমারের এই সমর্থন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে সামলে উঠতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।