মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর রাজপথ শ্রমজীবীদের পদভারে মুখরোচক হয়ে ওঠে। তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন গড়ে তোলা র্যালি ও সমাবেশে যোগ দিয়ে গানে, স্লোগান ও মিছিলে তাদের বিশেষভাবে উপস্থিতি রাখে। কর্মজীবীরা শ্রমিক মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি মুখরোচকভাবে জানায়।
সমাবেশে শ্রমজীবীদের সাধারণ দাবি হিসেবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কমানো, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ গড়ার অনুরোধ জোরদারভাবে উঠেছে। রানা প্লাজা ও তাজরিন ট্র্যাজেডির মতো পরিবহন ও কারখানা দুর্ঘটনার ন্যায়সঙ্গত বিচার, নিয়োগপত্র প্রদান, অবাধভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার এবং নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে জীবনযাত্রা সহজ করার মতো জীবনঘনিষ্ঠ দাবি भी প্রদেশে উঠে আসে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের স্থানীয় নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামনে সরকারকে অভিমুখ দেখাতে বলেন, নতুন সরকারের কাছে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করা হয় যেন বারবার রাস্তায় নামতে না হয়। তাদের দাবি—গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ছাড়া শ্রমজীবীদের মুক্তি নেই।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতৃবৃন্দ ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা উচিত; তা না হলে কাজের স্থানগুলোতে আধুনিক দাসপ্রথার সঙ্গে মেলায় চলবে। তারা আরও বলেন, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ক্যাম্পে বক্তারা মালিকপক্ষের এমন আচরণকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন, যেখানে শ্রমিকদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া রোধ করার চেষ্টা করা হয়। তারা বলেন, শ্রমিকদের বিভক্ত করে রাখার উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে; শ্রমিকদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার সংগ্রাম করতে হবে।
পেশাভিত্তিক কিছু দাবি-মতও সামনে এসেছে। বিড়ি শ্রমিকরা আগামী বাজেটে শুল্ক বাড়ানো বন্ধ ও রেশন সুবিধা চালুর দাবি জানান। ট্যাক্সি ও অটোরিকশা চালক ইউনিয়ন ন্যূনতম বেতনের জন্য অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ) সাম্রাজ্যবাদী ও কট্টর কুটনৈতিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে করা কিছু চুক্তি বাতিল এবং বিদেশি মাটিতে সামরিক সামরিক হামলার নিন্দা জানায়।
এই বৃহৎ আয়োজনেও কর্মজীবী নারী, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টসহ আরও বহু সংগঠন অংশ নেয় এবং একাত্মতা প্রকাশ করে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা নিয়মিত আন্দোলন ও সংলাপের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো আদায়ে অনড় থাকবেন। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রেখে শ্রমজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁরা ভবিষ্যতেও সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে উজ্জ্বল প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

















