১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরেণ্য নাট্যশিল্পী আতাউর রহমান আর নেই

বাংলাদেশের মঞ্চনাট্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য নাট্যশিল্পী আতাউর রহমান আর নেই। রবিবার থেকে সোমবারের মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান। দীর্ঘদিন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর টানা দশ দিন সংগ্রামের অবসান ঘটে গুণী এই শিল্পীর। তাঁর প্রয়াণ সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার নিজ বাসায় অসাবধানতাবশত পড়ে গুরুতর আহত হন আতাউর রহমান। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানে আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতায় দ্রুত ধানমন্ডির অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢুকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়; মাঝের সময়ে শারীরিক কিছু উন্নতি হলে একবার লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু পুনরায় অবস্থা খারাপ হলে তাকে আবার কৃত্রিম শ্বাসপ্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। সর্বশেষ চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আতাউর রহমান ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি; দেশীয় থিয়েটার চর্চাকে আধুনিক আঙ্গিকে গড়ে তুলতে এবং সমৃদ্ধ করতে তার অবদান অগ্রণীয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার সৃজনশীলতা ও শিল্পদর্শন বাংলা নাট্যাঙ্গনকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্র ও সংস্কৃতিসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বাংলাদেশ সরকার একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে।

ব্যক্তিগত জীবন হিসাবে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে দেশের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর আদর্শ ও সৃষ্টিশীল কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—পরিবারও দেশবাসীর কাছে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বরেণ্য নাট্যশিল্পী আতাউর রহমান আর নেই

প্রকাশিতঃ ০২:২১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের মঞ্চনাট্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য নাট্যশিল্পী আতাউর রহমান আর নেই। রবিবার থেকে সোমবারের মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান। দীর্ঘদিন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর টানা দশ দিন সংগ্রামের অবসান ঘটে গুণী এই শিল্পীর। তাঁর প্রয়াণ সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার নিজ বাসায় অসাবধানতাবশত পড়ে গুরুতর আহত হন আতাউর রহমান। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানে আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতায় দ্রুত ধানমন্ডির অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢুকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়; মাঝের সময়ে শারীরিক কিছু উন্নতি হলে একবার লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু পুনরায় অবস্থা খারাপ হলে তাকে আবার কৃত্রিম শ্বাসপ্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। সর্বশেষ চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আতাউর রহমান ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি; দেশীয় থিয়েটার চর্চাকে আধুনিক আঙ্গিকে গড়ে তুলতে এবং সমৃদ্ধ করতে তার অবদান অগ্রণীয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার সৃজনশীলতা ও শিল্পদর্শন বাংলা নাট্যাঙ্গনকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্র ও সংস্কৃতিসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বাংলাদেশ সরকার একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে।

ব্যক্তিগত জীবন হিসাবে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে দেশের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর আদর্শ ও সৃষ্টিশীল কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—পরিবারও দেশবাসীর কাছে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।