১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অক্সিজেন মাস্ক খুলে মারা গেলো ৭ মাসের শিশু মিনহাজ; দালাল আটক একনেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পানিসমপদ প্রতিমন্ত্রী: প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও ঢাবি ক্যাম্পাসে হেঁটেই এসেছিলেন স্পিকার: আন্দোলনকারীদের হত্যা ও পরে হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক ও বাস্তবমুখী করছে: প্রধানমন্ত্রী পলকের ঘাড় ও কোমরের হাড় সরে গেছে: দাবি আইনজীবীর ভেজাল প্রসাধনী ছড়াচ্ছে বাজারে, ত্বক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি নাম ও পদ নিশ্চিত করা প্রয়োজন — ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ সম্পর্কে নির্দেশ দিন ধুঁকে চলা কারখানা বাঁচাতে সরকার দেবে প্রণোদনা গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪১৫

অক্সিজেন মাস্ক খুলে মারা গেলো ৭ মাসের শিশু মিনহাজ; দালাল আটক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ থাকার পরও এক দালাল শিশুর মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলার পর রংপুর থেকে আনা সাত মাসের শিশু মিনহাজের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পরিবারের তথ্যমতে, মিনহাজ কিডনি জটিলতায় ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে রংপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। হাসপাতালে শয্যা খালি হলে ভর্তি আনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এনায়েত করিম নামের এক লোক। তবে এর আগেই তিনি কাঁটাবন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকায় রাখার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীকে বের করে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এনায়েত মিনহাজের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। মাস্ক ছাড়াই প্রায় ২০ মিনিট হাসপাতালের ভিতরে শিশুটিকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তিনি। পরে ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিশুটি বাবার কোলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় বলে স্বজনরা দেখতে পান।

পর ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তে পুলিশ অভিযুক্ত এনায়েত করিমকে আটক করেছে। এনায়েত ঢামেকের একজন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অফিস সহকারী বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। একই সূত্রে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অভিযোগ ছিল—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে অর্থ দাবি।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ কাজে লাগিয়ে ঢামেকের মতো বড় হাসপাতালে প্রায় অর্ধশত দালাল সক্রিয় থাকে। তারা আইসিইউ প্রয়োজন এমন মুমূর্ষু রোগীদের লক্ষ্য করে বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও এসব চক্রের মূলহোতারা ধরা পড়ে না, অভিযোগটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন দালালদের সরাসরি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

একনেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন

অক্সিজেন মাস্ক খুলে মারা গেলো ৭ মাসের শিশু মিনহাজ; দালাল আটক

প্রকাশিতঃ ১০:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ থাকার পরও এক দালাল শিশুর মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলার পর রংপুর থেকে আনা সাত মাসের শিশু মিনহাজের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পরিবারের তথ্যমতে, মিনহাজ কিডনি জটিলতায় ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে রংপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। হাসপাতালে শয্যা খালি হলে ভর্তি আনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এনায়েত করিম নামের এক লোক। তবে এর আগেই তিনি কাঁটাবন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকায় রাখার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীকে বের করে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এনায়েত মিনহাজের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। মাস্ক ছাড়াই প্রায় ২০ মিনিট হাসপাতালের ভিতরে শিশুটিকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তিনি। পরে ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিশুটি বাবার কোলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় বলে স্বজনরা দেখতে পান।

পর ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তে পুলিশ অভিযুক্ত এনায়েত করিমকে আটক করেছে। এনায়েত ঢামেকের একজন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অফিস সহকারী বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। একই সূত্রে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অভিযোগ ছিল—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে অর্থ দাবি।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ কাজে লাগিয়ে ঢামেকের মতো বড় হাসপাতালে প্রায় অর্ধশত দালাল সক্রিয় থাকে। তারা আইসিইউ প্রয়োজন এমন মুমূর্ষু রোগীদের লক্ষ্য করে বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও এসব চক্রের মূলহোতারা ধরা পড়ে না, অভিযোগটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন দালালদের সরাসরি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।