স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘোষণা করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের ঈদে ছুটি চলবে না। শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার কথা জানান এবং সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ সার্কুলার পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন যে এ সিদ্ধান্ত মূলত রোগের বিস্তার রোধ এবং তৎপর প্রতিক্রিয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে।
ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই কোনো শিশুকে শতভাগ নিরাপদ বলা কঠিন। কলেরার উদাহরণ টেনে তিনি বুঝিয়েছেন, যখন কোনো ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তখন সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। তিনি যোগ করেন, “যদি ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ক্ষেত্র বিশেষে সমস্যা বাড়তে পারে; আমি এতটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি না — আমি বিজ্ঞানী নই।” এই মন্তব্য মূলত বর্তমান প্রাদুর্ভাবের মাত্রা বিবেচনা করে করা হয়েছে।
ঈদের সময় সংক্রমণ রোধে বিশেষভাবে অভিভাবকদের প্রতি মন্ত্রীর আবেদন—আক্রান্ত শিশুদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বা জনাকীর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তিনি হামকে ‘খুবই সংক্রামক’ বলে অভিহিত করে বলেন, শ্বাস-প্রশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ঈদের ছুটিতে বাস-ট্রেন ভ্রমণ ও জনসমাগমের মাধ্যমে সুস্থ শিশুরা রোগীদের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এবং জমায়েত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























