০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ফুটবল যখন শান্তির দূত: দ্রগবার সেই অনন্য আবেদন

ফুটবল অনেক সময় কেবল খেলা থেকে বেড়ে উঠে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন ভাঙার শক্তিতে পরিণত হয়। আইভরি কোস্টে এমনই একটি মুহূর্তের নায়ক ছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা। ২০০২ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে দিয়েছিল; বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

এই ক্রান্তিকালে ফুটবলের মাধ্যমে দেশকে আবার এক করে তোলার দায়িত্ব নেন তখনকার জাতীয় দলের অধিনায়ক দ্রগবা। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে, জার্মানি বিশ্বকাপের বাছাইতে সুদানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে গোটা দেশ উল্লসিত হয়ে ওঠে। একেবারে সেই উত্তেজনার মধ্যে দ্রগবা দলকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে পৌঁছে একটি অপ্রত্যাশিত—but গভীরভাবে সফল—অভিযান শুরু করেন।

লাইভ সম্প্রচারের ক্যামেরার সামনে তিনিও এবং তার সহকর্মীরা হাঁটু গেড়ে বসেন, আর দ্রগবা দেশের বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি আবেগঘন এক অনুরোধ জানান। তিনি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনী উভয়ের কাছে শান্তি, ক্ষমা এবং নির্বাচনের ডাক দেন—নিজের কণ্ঠেই তাদের কাছে অস্ত্র নামানোর আবেদন জানান। কথাগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও প্রভাব গৌরবান্বিত: ‘‘আমরা প্রমাণ করেছি আমরা এক হতে পারি। দয়া করে অস্ত্র নামান, নির্বাচন করুন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’’

এই সরল অথচ শক্তিশালী বার্তাটি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ক্রিকেট-বা বাস্কেটবলারের বদলে একজন ফুটবলারের এই আহ্বান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মনেও ছাপ ফেলে। দ্রগবার অনুপ্রেরণায় আলোচনার টেবিলে বসার জন্য রাজি হয় বিরোধী পক্ষ এবং অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়।

পরবর্তী সময়ে দেশটি ধাপে ধাপে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগোতে থাকে। ২০০৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দ্রগবার অনুরোধে জাতীয় দলের একটি ম্যাচ বুয়াকে—যে শহরটি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিরূপে পরিচিত ছিল— আয়োজন করা হয়। ঐ ম্যাচে সবাই মিলে জাতীয় সংগীত গাওয়া ছিল একটি প্রতীকী মূহুর্ত; এটি বিভেদের পারদ স্পর্শ করে ঐক্যের সংকেত পাঠায়।

দ্রগবার একক প্রয়াস দেশটিতে সরাসরি যুদ্ধবিরতি এনে দেয়—অবশ্য বহু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে সেই ফল সম্ভব হয়। তবু একজন খেলোয়াড়ের সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও সৎ ধরনের নেতৃত্ব যে কীভাবে সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে, তা দ্রগবা স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।

আজও তিনি আইভরি কোস্টের মানুষের চোখে কেবল একজন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডই নন, বরং শান্তির এক প্রতীক। তার এই গল্প ক্রীড়াজগতের বাইরেও মানুষের হৃদয়ে ফুটবলকে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ফুটবল যখন শান্তির দূত: দ্রগবার সেই অনন্য আবেদন

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফুটবল অনেক সময় কেবল খেলা থেকে বেড়ে উঠে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন ভাঙার শক্তিতে পরিণত হয়। আইভরি কোস্টে এমনই একটি মুহূর্তের নায়ক ছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা। ২০০২ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে দিয়েছিল; বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

এই ক্রান্তিকালে ফুটবলের মাধ্যমে দেশকে আবার এক করে তোলার দায়িত্ব নেন তখনকার জাতীয় দলের অধিনায়ক দ্রগবা। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে, জার্মানি বিশ্বকাপের বাছাইতে সুদানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে গোটা দেশ উল্লসিত হয়ে ওঠে। একেবারে সেই উত্তেজনার মধ্যে দ্রগবা দলকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে পৌঁছে একটি অপ্রত্যাশিত—but গভীরভাবে সফল—অভিযান শুরু করেন।

লাইভ সম্প্রচারের ক্যামেরার সামনে তিনিও এবং তার সহকর্মীরা হাঁটু গেড়ে বসেন, আর দ্রগবা দেশের বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি আবেগঘন এক অনুরোধ জানান। তিনি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনী উভয়ের কাছে শান্তি, ক্ষমা এবং নির্বাচনের ডাক দেন—নিজের কণ্ঠেই তাদের কাছে অস্ত্র নামানোর আবেদন জানান। কথাগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও প্রভাব গৌরবান্বিত: ‘‘আমরা প্রমাণ করেছি আমরা এক হতে পারি। দয়া করে অস্ত্র নামান, নির্বাচন করুন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’’

এই সরল অথচ শক্তিশালী বার্তাটি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ক্রিকেট-বা বাস্কেটবলারের বদলে একজন ফুটবলারের এই আহ্বান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মনেও ছাপ ফেলে। দ্রগবার অনুপ্রেরণায় আলোচনার টেবিলে বসার জন্য রাজি হয় বিরোধী পক্ষ এবং অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়।

পরবর্তী সময়ে দেশটি ধাপে ধাপে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগোতে থাকে। ২০০৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দ্রগবার অনুরোধে জাতীয় দলের একটি ম্যাচ বুয়াকে—যে শহরটি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিরূপে পরিচিত ছিল— আয়োজন করা হয়। ঐ ম্যাচে সবাই মিলে জাতীয় সংগীত গাওয়া ছিল একটি প্রতীকী মূহুর্ত; এটি বিভেদের পারদ স্পর্শ করে ঐক্যের সংকেত পাঠায়।

দ্রগবার একক প্রয়াস দেশটিতে সরাসরি যুদ্ধবিরতি এনে দেয়—অবশ্য বহু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে সেই ফল সম্ভব হয়। তবু একজন খেলোয়াড়ের সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও সৎ ধরনের নেতৃত্ব যে কীভাবে সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে, তা দ্রগবা স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।

আজও তিনি আইভরি কোস্টের মানুষের চোখে কেবল একজন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডই নন, বরং শান্তির এক প্রতীক। তার এই গল্প ক্রীড়াজগতের বাইরেও মানুষের হৃদয়ে ফুটবলকে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।