০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই রামিসা হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি বাতিল ঘোষণা—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক আজও খোলা, স্বাভাবিক লেনদেন চলবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ হিলবাকী ইসি জানালেন: স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার থাকবে না দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা — নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত পল্লবীর রামিসা হত্যায় প্রধান আসামি সোহেল নৃশংস স্বীকারোক্তি

ফুটবল যখন শান্তির দূত: দ্রগবার সেই অনন্য আবেদন

ফুটবল অনেক সময় কেবল খেলা থেকে বেড়ে উঠে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন ভাঙার শক্তিতে পরিণত হয়। আইভরি কোস্টে এমনই একটি মুহূর্তের নায়ক ছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা। ২০০২ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে দিয়েছিল; বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

এই ক্রান্তিকালে ফুটবলের মাধ্যমে দেশকে আবার এক করে তোলার দায়িত্ব নেন তখনকার জাতীয় দলের অধিনায়ক দ্রগবা। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে, জার্মানি বিশ্বকাপের বাছাইতে সুদানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে গোটা দেশ উল্লসিত হয়ে ওঠে। একেবারে সেই উত্তেজনার মধ্যে দ্রগবা দলকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে পৌঁছে একটি অপ্রত্যাশিত—but গভীরভাবে সফল—অভিযান শুরু করেন।

লাইভ সম্প্রচারের ক্যামেরার সামনে তিনিও এবং তার সহকর্মীরা হাঁটু গেড়ে বসেন, আর দ্রগবা দেশের বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি আবেগঘন এক অনুরোধ জানান। তিনি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনী উভয়ের কাছে শান্তি, ক্ষমা এবং নির্বাচনের ডাক দেন—নিজের কণ্ঠেই তাদের কাছে অস্ত্র নামানোর আবেদন জানান। কথাগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও প্রভাব গৌরবান্বিত: ‘‘আমরা প্রমাণ করেছি আমরা এক হতে পারি। দয়া করে অস্ত্র নামান, নির্বাচন করুন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’’

এই সরল অথচ শক্তিশালী বার্তাটি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ক্রিকেট-বা বাস্কেটবলারের বদলে একজন ফুটবলারের এই আহ্বান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মনেও ছাপ ফেলে। দ্রগবার অনুপ্রেরণায় আলোচনার টেবিলে বসার জন্য রাজি হয় বিরোধী পক্ষ এবং অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়।

পরবর্তী সময়ে দেশটি ধাপে ধাপে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগোতে থাকে। ২০০৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দ্রগবার অনুরোধে জাতীয় দলের একটি ম্যাচ বুয়াকে—যে শহরটি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিরূপে পরিচিত ছিল— আয়োজন করা হয়। ঐ ম্যাচে সবাই মিলে জাতীয় সংগীত গাওয়া ছিল একটি প্রতীকী মূহুর্ত; এটি বিভেদের পারদ স্পর্শ করে ঐক্যের সংকেত পাঠায়।

দ্রগবার একক প্রয়াস দেশটিতে সরাসরি যুদ্ধবিরতি এনে দেয়—অবশ্য বহু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে সেই ফল সম্ভব হয়। তবু একজন খেলোয়াড়ের সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও সৎ ধরনের নেতৃত্ব যে কীভাবে সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে, তা দ্রগবা স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।

আজও তিনি আইভরি কোস্টের মানুষের চোখে কেবল একজন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডই নন, বরং শান্তির এক প্রতীক। তার এই গল্প ক্রীড়াজগতের বাইরেও মানুষের হৃদয়ে ফুটবলকে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই

ফুটবল যখন শান্তির দূত: দ্রগবার সেই অনন্য আবেদন

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফুটবল অনেক সময় কেবল খেলা থেকে বেড়ে উঠে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন ভাঙার শক্তিতে পরিণত হয়। আইভরি কোস্টে এমনই একটি মুহূর্তের নায়ক ছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা। ২০০২ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে দিয়েছিল; বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

এই ক্রান্তিকালে ফুটবলের মাধ্যমে দেশকে আবার এক করে তোলার দায়িত্ব নেন তখনকার জাতীয় দলের অধিনায়ক দ্রগবা। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে, জার্মানি বিশ্বকাপের বাছাইতে সুদানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে গোটা দেশ উল্লসিত হয়ে ওঠে। একেবারে সেই উত্তেজনার মধ্যে দ্রগবা দলকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে পৌঁছে একটি অপ্রত্যাশিত—but গভীরভাবে সফল—অভিযান শুরু করেন।

লাইভ সম্প্রচারের ক্যামেরার সামনে তিনিও এবং তার সহকর্মীরা হাঁটু গেড়ে বসেন, আর দ্রগবা দেশের বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি আবেগঘন এক অনুরোধ জানান। তিনি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনী উভয়ের কাছে শান্তি, ক্ষমা এবং নির্বাচনের ডাক দেন—নিজের কণ্ঠেই তাদের কাছে অস্ত্র নামানোর আবেদন জানান। কথাগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও প্রভাব গৌরবান্বিত: ‘‘আমরা প্রমাণ করেছি আমরা এক হতে পারি। দয়া করে অস্ত্র নামান, নির্বাচন করুন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’’

এই সরল অথচ শক্তিশালী বার্তাটি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ক্রিকেট-বা বাস্কেটবলারের বদলে একজন ফুটবলারের এই আহ্বান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মনেও ছাপ ফেলে। দ্রগবার অনুপ্রেরণায় আলোচনার টেবিলে বসার জন্য রাজি হয় বিরোধী পক্ষ এবং অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়।

পরবর্তী সময়ে দেশটি ধাপে ধাপে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগোতে থাকে। ২০০৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দ্রগবার অনুরোধে জাতীয় দলের একটি ম্যাচ বুয়াকে—যে শহরটি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিরূপে পরিচিত ছিল— আয়োজন করা হয়। ঐ ম্যাচে সবাই মিলে জাতীয় সংগীত গাওয়া ছিল একটি প্রতীকী মূহুর্ত; এটি বিভেদের পারদ স্পর্শ করে ঐক্যের সংকেত পাঠায়।

দ্রগবার একক প্রয়াস দেশটিতে সরাসরি যুদ্ধবিরতি এনে দেয়—অবশ্য বহু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে সেই ফল সম্ভব হয়। তবু একজন খেলোয়াড়ের সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও সৎ ধরনের নেতৃত্ব যে কীভাবে সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে, তা দ্রগবা স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।

আজও তিনি আইভরি কোস্টের মানুষের চোখে কেবল একজন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডই নন, বরং শান্তির এক প্রতীক। তার এই গল্প ক্রীড়াজগতের বাইরেও মানুষের হৃদয়ে ফুটবলকে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।