বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের ইস্পাত শিল্পকে ঘরের বাইরে বড় সংকটে ফেলেছে। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) জানিয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে প্রতি টন রড উৎপাদনের খরচ কমপক্ষে ১ হাজার ৭৮৫ টাকা বাড়বে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে প্রতি টনে অতিরিক্ত ব্যয়সংস্থান ৩ হাজার ৫৬০ টাকাও পৌঁছাতে পারে — যা শেষ পর্যন্ত রডের মূল্য বাড়াতে বাধ্য করবে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ নেতারা বিদ্যুতের এই বৃদ্ধি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব নয়। তাদের শর্তে শিল্পগুলোই আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাজার প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাস পাবে।
বেড়েই চলা বিদ্যুতের পরিমাণ ছাড়াও, ইস্পাত খাত ইতিমধ্যে নির্মাণ খাতের মন্দা, ডলারের সঙ্কট, উচ্চ সুদহার এবং কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতার মতো বহু সমস্যা নিয়ে জর্জরিত। বিএসএমএ বলেছে, দেশের প্রায় ১৯০টি স্টিল ও রি-রোলিং মিলের মোট জেনারেট করা উৎপাদনক্ষমতা ১ কোটি ২২ লাখ টন হলেও বর্তমান চাহিদাবঞ্চিত বাজারে কারখানাগুলো তাদের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে পারছে।
বিএসএমএ নেতারা দৃঢ়ভাবে মনে করেন যে বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত অদক্ষতা ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা উৎপাদনশীল শিল্পে চাপিয়ে দিয়ে টেকসই সমাধান আনা সম্ভব নয়। বিশেষ করে ইস্পাত কারখানাগুলো সরাসরি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করলেও ডিমান্ড চার্জ এবং অন্যান্য মাশুলের মাধ্যমে শিল্পের উপর নিয়মিত আর্থিক বোঝা বাড়ছে। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা এবং শিল্পবান্ধব শর্তারোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
চলতি মাসেই পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে গড়ে ১৬ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএমএ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আগামী বাজেটে এনবিআর যদি এই খাতে নতুন করে কর আরোপ করে, তবে রডের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। এর ফলে শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতা, বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়বে এবং বেকারত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
সংগঠনটি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যে—উদ্যোক্তাদের সাথে তৎকালীন আলোচনা করে বিদ্যুত ও অন্যান্য খরচের বৃদ্ধি মোকাবেলায় সহজলভ্য সমাধান করা হোক। নতুবা এই খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























