০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ড. খলিলুর রহমান জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪ প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা

সরকার প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নতুন এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে বিএমইটি কার্ড রাখার প্রয়োজন হবে না। ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন,’ তিনি বলেন।

মন্ত্রী জানান, শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরাই নয়—ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও অবস্থানরত যেকোনো বাংলাদেশি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কার্ডটি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কী কী সুবিধা পাবে, সেগুলো এখনও চূড়ান্ত করা হয় নি বলে মন্ত্রী জানান। রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতি সহজ করা, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং মুদ্রাসংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে—এসব নিয়ে এখনই কর্মসুচি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে কথা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভূমি অফিস বা হাসপাতালে গেলে যেন বিশেষ অগ্রাধিকার পান, সেই ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে।

একই সময় প্রবাসীদের দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয় ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ গত ০১ জুন জারি করা হয় এবং সেলের কার্যক্রম ০২ জুন থেকেই শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন; শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর বিস্তারিত পদ্ধতিও প্রকাশ করা হবে।

এই সেলটি পাঁচ সদস্যের, মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম সচিব আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেলে আইন, কল্যাণ, সেবা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতারণা ও তদবিরে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী সতর্ক করেছেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যেসব এজেন্সি অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে। একই সঙ্গে বিএমইটি ক্লিয়ার্যান্স পাওয়া সত্ত্বেও যে কর্মীরা আটকা পড়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চস্তরের যোগাযোগ চলছে যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের বিশেষ বিবেচনায় পুনরায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় বা সময়সীমা বাড়ানো যায়। তিনি যোগ করেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রকে পিছু হটতে দেওয়া হবে না; অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএমইটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সরকার প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নতুন এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে বিএমইটি কার্ড রাখার প্রয়োজন হবে না। ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন,’ তিনি বলেন।

মন্ত্রী জানান, শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরাই নয়—ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও অবস্থানরত যেকোনো বাংলাদেশি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কার্ডটি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কী কী সুবিধা পাবে, সেগুলো এখনও চূড়ান্ত করা হয় নি বলে মন্ত্রী জানান। রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতি সহজ করা, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং মুদ্রাসংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে—এসব নিয়ে এখনই কর্মসুচি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে কথা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভূমি অফিস বা হাসপাতালে গেলে যেন বিশেষ অগ্রাধিকার পান, সেই ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে।

একই সময় প্রবাসীদের দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয় ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ গত ০১ জুন জারি করা হয় এবং সেলের কার্যক্রম ০২ জুন থেকেই শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন; শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর বিস্তারিত পদ্ধতিও প্রকাশ করা হবে।

এই সেলটি পাঁচ সদস্যের, মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম সচিব আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেলে আইন, কল্যাণ, সেবা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতারণা ও তদবিরে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী সতর্ক করেছেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যেসব এজেন্সি অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে। একই সঙ্গে বিএমইটি ক্লিয়ার্যান্স পাওয়া সত্ত্বেও যে কর্মীরা আটকা পড়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চস্তরের যোগাযোগ চলছে যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের বিশেষ বিবেচনায় পুনরায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় বা সময়সীমা বাড়ানো যায়। তিনি যোগ করেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রকে পিছু হটতে দেওয়া হবে না; অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএমইটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।