০৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাংলাদেশের ওষুধ ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবসে প্রধানমন্ত্রী: টিকে থাকতে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন অপরিহার্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আনসার-ভিডিপির ভূমিকা শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৪০ দেশে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যাংক সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সুশাসন অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ছয় দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ আগস্ট আসছে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ — ইউরোপে দৃশ্যমান কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারত থেকে ৯১ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ও ৪টি মাছ ধরা নৌকা দেশে ফিরেছে পল্লবী কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ইরান হুঁশিয়ারি: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মিত্রদের তেল-গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার হুমকি

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি দেশের জ্বালানী স্থাপনায় নতুন করে আঘাত হয়, তৎক্ষণাৎ ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তার মিত্রদের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি জানিয়েছে তেহরান। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেকোনো জ্বালানি কোম্পানিকে এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। এ পদক্ষেপকে ইরান জানিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টার জবাব হিসেবে নেওয়া হয়েছে — যা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।

চরিত্রগত উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার সিরিজ। বেশ কয়েক দিনের সংঘাতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মাহশাহর এলাকায় অবস্থিত একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে, লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বন্দর নগরী হাইফার একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা। যদিও ওই স্থানে এপ্রিলে ইতোমধ্যে একবার আঘাত পৌঁছেছিল, তবু সাম্প্রতিক অভিযানগুলো বাণিজ্যিক ও শিল্প অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্য করে সংঘাতকে সামরিক পর্যায়ে আরও তীব্র করেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ইসরায়েল গত রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুত্‌ে বড় ধরনের অভিযান চালায়, যা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্ত হয়েছে। ওই অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান উত্তরের দিকে অন্তত দশটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে জানা গেছে। তারপর সোমবার সকালে উত্তরোত্তর উত্তেজনা বাড়তে থাকলে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরান, ইসফাহানসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পুনরায় পাল্টা হানায় নামে — দাবি করেছে ও পরিপ্রেক্ষিতেও আশঙ্কা বাড়ায়।

এই দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও যুক্ত হয়েছে। সোমবার ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইয়েমেন থেকে হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং তার এক ঘণ্টার মধ্যে ইরান থেকেও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি খাতের ওপর আক্রমণ চললে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো স্থানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের অংশীদারিত্বযুক্ত তেল-এন্ড-গ্যাস প্ল্যান্ট ও স্থাপনা ধ্বংস করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানীর সরবরাহে বিঘ্ন পড়ার আশঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এখন বাস্তব সংকটে পরিণত হতে পারে। কূটনৈতিক বলমাত্রা বাড়ানো এবং উত্তেজনা নিবারণের চেষ্টা না হলে, অঞ্চলটি আরও বড় বিস্তৃত সংঘাতে বাঁক নেবে — যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও পড়বে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তা এখন তাৎপর্যপূর্ণ; আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও সংযমই সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবসে প্রধানমন্ত্রী: টিকে থাকতে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন অপরিহার্য

ইরান হুঁশিয়ারি: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মিত্রদের তেল-গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার হুমকি

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি দেশের জ্বালানী স্থাপনায় নতুন করে আঘাত হয়, তৎক্ষণাৎ ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তার মিত্রদের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি জানিয়েছে তেহরান। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেকোনো জ্বালানি কোম্পানিকে এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। এ পদক্ষেপকে ইরান জানিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টার জবাব হিসেবে নেওয়া হয়েছে — যা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।

চরিত্রগত উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার সিরিজ। বেশ কয়েক দিনের সংঘাতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মাহশাহর এলাকায় অবস্থিত একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে, লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বন্দর নগরী হাইফার একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা। যদিও ওই স্থানে এপ্রিলে ইতোমধ্যে একবার আঘাত পৌঁছেছিল, তবু সাম্প্রতিক অভিযানগুলো বাণিজ্যিক ও শিল্প অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্য করে সংঘাতকে সামরিক পর্যায়ে আরও তীব্র করেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ইসরায়েল গত রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুত্‌ে বড় ধরনের অভিযান চালায়, যা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্ত হয়েছে। ওই অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান উত্তরের দিকে অন্তত দশটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে জানা গেছে। তারপর সোমবার সকালে উত্তরোত্তর উত্তেজনা বাড়তে থাকলে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরান, ইসফাহানসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পুনরায় পাল্টা হানায় নামে — দাবি করেছে ও পরিপ্রেক্ষিতেও আশঙ্কা বাড়ায়।

এই দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও যুক্ত হয়েছে। সোমবার ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইয়েমেন থেকে হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং তার এক ঘণ্টার মধ্যে ইরান থেকেও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি খাতের ওপর আক্রমণ চললে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো স্থানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের অংশীদারিত্বযুক্ত তেল-এন্ড-গ্যাস প্ল্যান্ট ও স্থাপনা ধ্বংস করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানীর সরবরাহে বিঘ্ন পড়ার আশঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এখন বাস্তব সংকটে পরিণত হতে পারে। কূটনৈতিক বলমাত্রা বাড়ানো এবং উত্তেজনা নিবারণের চেষ্টা না হলে, অঞ্চলটি আরও বড় বিস্তৃত সংঘাতে বাঁক নেবে — যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও পড়বে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তা এখন তাৎপর্যপূর্ণ; আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও সংযমই সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ।