০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সিনেমায় উঠছে ইতালির ‘২৭ দিনের রানী’ মারিয়া হোসের জীবন

ইতালির ইতিহাসের সেই নাটকীয় অধ্যায় এবার রূপালি পর্দায় ফিরে আসছে। ১৯৪৬ সালের মাত্র ২৭ দিনশাসনের রানী মারিয়া হোসের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র মেইস্তা (Maestà) নির্মাণ হতে যাচ্ছে, যা পরিচালনা করবেন জিনেভ্রা এলকান। বিশ্ববহুল সংবাদমাধ্যম ভ্যারায়টি জানিয়েছে, ছবিটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখবেন ইতালীয় নির্মাতা মার্কো বেলোচিও।

মারিয়া হোসেকে ইতিহাসে বিশেষভাবে ‘মে কুইন’ বা ‘২৭ দিনের রানী’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৯৪৬ সালের ৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত মাত্র ২৭ দিনের জন্য তিনি ইতালির রানীবরণ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের অস্থিরতায় এবং ফ্যাসিবাদ ও রাজতন্ত্রের সংকটে উত্তাল সময়ে যুবরাজ দ্বিতীয় উমবের্তোর পরিবার তাকে মুকুট পরিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেন। কিন্তু মাত্র ২৭ দিন পরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে ইতালীয় জনগণের বৃহৎ অংশ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র গঠনের পক্ষে সাধারণভাবে সায় দেন এবং রাজপরিবারকে দেশ ছাড়তে হয়।

চিত্তাকর্ষক এই ইতিহাসের পটভূমিও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে — তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সমাজ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা, গণজাগরণ ও রাজতন্ত্রের অবক্ষয়ের সময়কালের নানা সূক্ষ্ম দিক তুলে ধরা হবে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক সত্যতার সঙ্গে নাটকীয় আবহের সংমিশ্রণে সেই সংবেদনশীল কয়েক সপ্তাহের গল্প ক্যামেরায় পেশ করবে।

চলচ্চিত্রে মারিয়া হোসের ব্যক্তিত্বকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। তিনি ছিলেন শিক্ষা-প্রতিভাসম্পন্ন, আধুনিক ভাবমূর্তির অধিকারী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রগতিশীল চিন্তার প্ররোচক। বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বুঝে তার সহানুভূতি সাধারণ মানুষের অধিকারকামী আন্দোলনের প্রতি বেশি ঝুঁকে ছিল—এই নির্যাসই ছবিতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রস্তুতির কাজ শীঘ্রই শুরু হলেও মারিয়া হোসে, দ্বিতীয় উমবের্তো বা অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধপরবর্তী ইউরোপের রাজনৈতিক ওঠানামা ও এক রানীর সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালকে ঘিরে মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক উপাদান মিলিয়ে নির্মিত এই সিনেমা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে ইতিহাস ও চলচ্চিত্রের এক নতুন সংমিশ্রণ উপহার দেবে।

নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকারদের কাজ চালু হলে ছবিটির ক্যাস্ট, শুটিং সিডিউল ও মুক্তির সময়সূচী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানা যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সিনেমায় উঠছে ইতালির ‘২৭ দিনের রানী’ মারিয়া হোসের জীবন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ইতালির ইতিহাসের সেই নাটকীয় অধ্যায় এবার রূপালি পর্দায় ফিরে আসছে। ১৯৪৬ সালের মাত্র ২৭ দিনশাসনের রানী মারিয়া হোসের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র মেইস্তা (Maestà) নির্মাণ হতে যাচ্ছে, যা পরিচালনা করবেন জিনেভ্রা এলকান। বিশ্ববহুল সংবাদমাধ্যম ভ্যারায়টি জানিয়েছে, ছবিটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখবেন ইতালীয় নির্মাতা মার্কো বেলোচিও।

মারিয়া হোসেকে ইতিহাসে বিশেষভাবে ‘মে কুইন’ বা ‘২৭ দিনের রানী’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৯৪৬ সালের ৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত মাত্র ২৭ দিনের জন্য তিনি ইতালির রানীবরণ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের অস্থিরতায় এবং ফ্যাসিবাদ ও রাজতন্ত্রের সংকটে উত্তাল সময়ে যুবরাজ দ্বিতীয় উমবের্তোর পরিবার তাকে মুকুট পরিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেন। কিন্তু মাত্র ২৭ দিন পরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে ইতালীয় জনগণের বৃহৎ অংশ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র গঠনের পক্ষে সাধারণভাবে সায় দেন এবং রাজপরিবারকে দেশ ছাড়তে হয়।

চিত্তাকর্ষক এই ইতিহাসের পটভূমিও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে — তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সমাজ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা, গণজাগরণ ও রাজতন্ত্রের অবক্ষয়ের সময়কালের নানা সূক্ষ্ম দিক তুলে ধরা হবে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক সত্যতার সঙ্গে নাটকীয় আবহের সংমিশ্রণে সেই সংবেদনশীল কয়েক সপ্তাহের গল্প ক্যামেরায় পেশ করবে।

চলচ্চিত্রে মারিয়া হোসের ব্যক্তিত্বকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। তিনি ছিলেন শিক্ষা-প্রতিভাসম্পন্ন, আধুনিক ভাবমূর্তির অধিকারী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রগতিশীল চিন্তার প্ররোচক। বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বুঝে তার সহানুভূতি সাধারণ মানুষের অধিকারকামী আন্দোলনের প্রতি বেশি ঝুঁকে ছিল—এই নির্যাসই ছবিতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রস্তুতির কাজ শীঘ্রই শুরু হলেও মারিয়া হোসে, দ্বিতীয় উমবের্তো বা অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধপরবর্তী ইউরোপের রাজনৈতিক ওঠানামা ও এক রানীর সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালকে ঘিরে মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক উপাদান মিলিয়ে নির্মিত এই সিনেমা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে ইতিহাস ও চলচ্চিত্রের এক নতুন সংমিশ্রণ উপহার দেবে।

নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকারদের কাজ চালু হলে ছবিটির ক্যাস্ট, শুটিং সিডিউল ও মুক্তির সময়সূচী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানা যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।