ইতালির ইতিহাসের এক নাটকীয় অধ্যায় এবার জীবন্ত হবে সিনেমায়। মারিয়া হোসের সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর প্রভাবশালী রাজত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র ‘মেইস্তা’ (Maestà)। ছবিটির মুখ্য পরিচালনা করছেন জিনেভ্রা এলকান; চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখবেন ইতালির প্রখ্যাত নির্মাতা মার্কো বেলোচিও—জিনেভ্রা আলকানের উদ্যোগের খবর প্রথমপ্রকাশ করেছে বিশ্ববিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি।
১৯৪৬ সালের মে-জুনে মাত্র ২৭ দিনই ইতালির রানির মর্যাদায় ছিলেন মারিয়া হোসে। সেই তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের ইতিহাসি পরিস্ফুটন ও পটভূমি নিয়েই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু হবে—একদিকে রাজপ্রতিষ্ঠানের মুকুট ধারণ, অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণকারী গণভোট ও রাজতন্ত্রের অবসান। তৎকালীন ইউরোপ ও ইতালির রাজনৈতিক অস্থিরতা, ফ্যাসিবাদী অতীত থেকে বেরিয়ে আসার সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা—এসবই মিলিয়ে এই গল্পের নাটকীয়তা তৈরি করে।
চলচ্চিত্রে মারিয়া হোসের ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হবে। তিনি ছিলেন শিক্ষিত, আধুনিক ভাবনায় মেলে এমন একজন রাজতন্ত্রের সদস্য, যিনি জনমানুষের কষ্ট-আকাঙ্ক্ষার প্রতিই সহানুভূতিশীল ছিলেন। বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চিত ছিল, সে বাস্তবতাও মারিয়া নিজের চোখে দেখেছেন—এটাই ছবির এক আবেগঘন তিমির প্রধান কাহিনি। পরিচালক জিনেভ্রা এলকান বলেন, ‘‘এই সিনেমায় ১৯৪৬ সালের সেই সংবেদনশীল কয়েক সপ্তাহকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করা হবে—যখন মারিয়া হোসে একদিকে রানির দায়িত্ব নিলেন, অন্যদিকে রাজতন্ত্রের দীর্ঘ অধ্যায়ের এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু সচেতন সমাপ্তিও প্রত্যক্ষ করলেন।’’
ঐতিহাসিক সত্যতা এবং নাটকীয় আবহ মিলিয়ে তৈরি হতে যাওয়া ‘মেইস্তা’-র নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা। তবে মারিয়া হোসে, দ্বিতীয় উমবের্তো বা অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন—এ সম্পর্কে নির্মাতারা এখনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জানায়নি। ইতিহাস ও ব্যক্তিগত আবেগের সংমিশ্রণে গড়া এই গল্পটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের নরম মোড়ক খুলে দেখাবে, বলছে সিনেমা বিশ্লেষকরা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























