১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

শুক্রবার শিল্পকলায় ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’—৪৪তম মঞ্চায়ন

ঢাকার প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল ঢাকা পদাতিক তাদের ৩৮তম প্রযোজনার ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ নাটকটি ৪৪তম মঞ্চায়নের জন্য প্রস্তুত। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এই বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

নাটকটি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক মাস্টারদা সূর্যসেনের রূপায়ণ, তাঁর প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক অধ্যায়কে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে। ইতিহাসভিত্তিক কাহিনী, তীক্ষ্ণ সংলাপ এবং পরিপাটি নির্মাণশৈলীর কারণে এটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নাট্যাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মূল রচনা ও প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর প্রয়াণের পর নবনির্দেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রথিতযশা অভিনেতা ও পরিচালক নাদের চৌধুরী, যিনি নাটকটির কিছু অংশে প্রয়োজনমতো অলঙ্করণ ও মঞ্চ-নির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। নাদের চৌধুরী নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মাস্টারদা সূর্যসেনকেও নিজ হাতেে অভিনয় করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড় পরিচয় গড়তে এই নাটকটি দেখাটা জরুরি।

নাটকে প্রায় ৪০টি চরিত্রে ঘটনাপ্রবাহ সাজানো হয়েছে। কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, তারকেশ্বর দস্তিদার, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন এবং ব্রিটিশ উকিল সহ অনেকে ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের ভূমিকায় দেখা যাবে। নাটকের কর্মদলের তালিকায় অভিনয়ে আছেন মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, হাসনাহেনা শিল্পী, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, রবিউল মিলটন প্রমুখ।

পটভূমি ও আলোকসজ্জা নিয়ে কাজ করেছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনা করেছেন আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন শ্যামল হাসান।

২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর পেশাদারী মঞ্চায়নের ধারাবাহিকতায় দেশ-বিদেশে এটি প্রশংসা কুড়িয়েছে; ভারতের দিল্লিতে এর দুটি সফল আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীও হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে অর্জিত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নাটকটিকে ইতিহাসভিত্তিক প্রযোজনার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শুধু নাট্যপ্রেমীদের নয়, ইতিহাসে আগ্রহী তরুণ-প্রজন্মও ইতিহাসের সে অধ্যায়টি বোঝার জন্য মঞ্চায়নটি দেখতে পারবেন—এমনটাই এই প্রযোজনা নিশ্চিত করতে চায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দলে ফিরেই আইসিসির জুনের মাসসেরা মনোনয়ন পেলেন মোসাদ্দেক

শুক্রবার শিল্পকলায় ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’—৪৪তম মঞ্চায়ন

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকার প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল ঢাকা পদাতিক তাদের ৩৮তম প্রযোজনার ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ নাটকটি ৪৪তম মঞ্চায়নের জন্য প্রস্তুত। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এই বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

নাটকটি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক মাস্টারদা সূর্যসেনের রূপায়ণ, তাঁর প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক অধ্যায়কে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে। ইতিহাসভিত্তিক কাহিনী, তীক্ষ্ণ সংলাপ এবং পরিপাটি নির্মাণশৈলীর কারণে এটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নাট্যাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মূল রচনা ও প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর প্রয়াণের পর নবনির্দেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রথিতযশা অভিনেতা ও পরিচালক নাদের চৌধুরী, যিনি নাটকটির কিছু অংশে প্রয়োজনমতো অলঙ্করণ ও মঞ্চ-নির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। নাদের চৌধুরী নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মাস্টারদা সূর্যসেনকেও নিজ হাতেে অভিনয় করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড় পরিচয় গড়তে এই নাটকটি দেখাটা জরুরি।

নাটকে প্রায় ৪০টি চরিত্রে ঘটনাপ্রবাহ সাজানো হয়েছে। কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, তারকেশ্বর দস্তিদার, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন এবং ব্রিটিশ উকিল সহ অনেকে ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের ভূমিকায় দেখা যাবে। নাটকের কর্মদলের তালিকায় অভিনয়ে আছেন মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, হাসনাহেনা শিল্পী, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, রবিউল মিলটন প্রমুখ।

পটভূমি ও আলোকসজ্জা নিয়ে কাজ করেছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনা করেছেন আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন শ্যামল হাসান।

২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর পেশাদারী মঞ্চায়নের ধারাবাহিকতায় দেশ-বিদেশে এটি প্রশংসা কুড়িয়েছে; ভারতের দিল্লিতে এর দুটি সফল আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীও হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে অর্জিত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নাটকটিকে ইতিহাসভিত্তিক প্রযোজনার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শুধু নাট্যপ্রেমীদের নয়, ইতিহাসে আগ্রহী তরুণ-প্রজন্মও ইতিহাসের সে অধ্যায়টি বোঝার জন্য মঞ্চায়নটি দেখতে পারবেন—এমনটাই এই প্রযোজনা নিশ্চিত করতে চায়।