ডেঙ্গু পরিস্থিতির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস নেমেছে সমন্বিত ও কড়াকড়ি পদক্ষেপে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলায় দ্রুত ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু করা হবে—মুখ্য লক্ষ্য মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু বিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদন অনুযায়ী মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পর্যন্ত চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৬ জনে, যা পুরো বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদের মধ্যে ৮৪৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন, ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১১ জন।
উপজেলাভিত্তিক হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে: পিরোজপুর সদর ৪৩৮ জন (ভর্তি ২৩), নেছারাবাদ ১৬৪ জন (ভর্তি ৭), ভাণ্ডারিয়া ১৪৯ জন (ভর্তি ৭), কাউখালী ৬৩ জন (ভর্তি ৪), নাজিরপুর ৫৫ জন (ভর্তি ৬) এবং মঠবাড়িয়া ২৭ জন (ভর্তি ২)। ইন্দুরকানী উপজেলায় এখনও কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেলা তথ্য অফিস জানায়, অভিযানে স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। যুবকেরা গঠিত টিমগুলো হটস্পট এলাকায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, লার্ভা নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে।
আক্রান্ত রোধে রিস্ক কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট (RCCE) কর্মসূচির অধীনে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকারি দফতর, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মিলে বিশেষ সংলাপও অনুষ্ঠিত করছে। বিদ্যালয়-কলেজ পর্যায়ে অভিভাবক ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে থেকে জেলা তথ্য অফিস মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও সড়ক প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। জনসমাগম স্থলে প্রজেক্টরে প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বিশেষ ভিডিও বার্তা এবং জেলা তথ্য অফিস তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করছে।
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বিত কমিটি নিয়মিত বৈঠকে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। প্রতিরোধ কার্যক্রমকে গণমুখী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে তিনটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্ভে ও ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে লার্ভিসাইড প্রয়োগসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলকে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জ্বর-চিহ্নপাওয়া ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়কে নিজ নিজ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকভাবে অংশ নিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ রাখা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























