০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার সরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে ২০ দিন ধরে বন্ধ একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানা আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭ বাংলাদেশের পাশে লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

স্পেনের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, বহুমুখীকরণে সুযোগ

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার সঙ্গে সঙ্গে এবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানিকেন্দ্রিকভাবে স্পেন বাজারে বাংলাদেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে এই অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্পেনে বাংলাদেশি রপ্তানি আয় ৬.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে; যা আগের অর্থবছরে ৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে—নিটওয়্যার থেকে আয় হয়েছে ২.০৪ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন (বোনা নয় এমন) পোশাক থেকে ১.৫৬ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩.৬০ বিলিয়ন ডলার; এক বছরে এ খাতে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।

পোশাকের পাশাপাশি স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের অন্যান্য পণ্যেরও পদচিহ্ন স্পষ্ট। টেক্সটাইল পণ্যে আয় করা হয়েছে ৪৯.৭৪ মিলিয়ন ডলার, ফুটওয়্যার থেকে এসেছে ৭৮.৩৫ মিলিয়ন ডলার এবং খেলনা, গেমস ও ক্রীড়া সামগ্রী রপ্তানিতে লাভ হয়েছে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেন মোট ২১–২২ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর অবদান প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরো। ওই বছরের হিসাব অনুযায়ী স্পেনের মোট পোশাক আমদানি মূল্যের ১৫.৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে, ফলে বাংলাদেশ সেখানে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে; চীনের অংশ ছিল ১৫.০ শতাংশ। পরে এসেছে মরক্কো (৮.৪%), ইতালি (৭.৫%), তুরস্ক (৬.৬%) ও কম্বোডিয়া (৬%)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেনের মতো বড় বাজারে বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে এবং আরও বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দ্রুততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত তুলাভিত্তিক পণ্যের পাশাপাশি ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক উৎপাদন বাড়ানো, ফ্যাশননির্ভর উচ্চমূল্যের ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ডেলিভারি টাইম কমানো তখনই সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পোশাকের বাইরে স্পেন থেকে যে সব পণ্য আমদানি করা হয়—তাহলে সেগুলোর মধ্যে এমন কোনো পণ্য নির্ধারণ করে উৎপাদন ও রপ্তানি করা হলে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণ সম্ভব। এছাড়া স্পেনের খুচরা ব্র্যান্ড ও আন্তর্জাতিক রিটেইলারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব কিংবা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলাদেশি উৎপাদনশীলতা ও বাজার সংযোগ আরও বাড়বে।

স্প্যানিশ বিনিয়োগ বাড়লে শুধু মূলধনের প্রবাহ নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিপণন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও গড়ে উঠবে। স্পেন-ভিত্তিক বাঙালি প্রবাসীরাও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বাজার সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

স্পেনের ক্রেতাদের মধ্যে এখন দ্রুত সরবরাহ, টেকসই উৎপাদন ও উদ্ভাবনী পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, ব্যবসায়িক খরচ কমানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্পেনের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে স্থায়ী অংশীদারিত্ব, নতুন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পেনের বাজারে আরও বড় অংশীকারী হতে পারবে।

এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যে সীমিত সময়ের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা রয়েছে—তার যথাযথ ব্যবহার করে স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে উৎপাদনে উৎসাহিত করাও সময়োপযোগী হবে।

সংক্ষেপে, দক্ষতা বাড়ানো, পণ্য বৈচিত্রতা নিশ্চিত করা, সরবরাহ চেইন মজবুত করা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করলে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন

স্পেনের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, বহুমুখীকরণে সুযোগ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার সঙ্গে সঙ্গে এবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানিকেন্দ্রিকভাবে স্পেন বাজারে বাংলাদেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে এই অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্পেনে বাংলাদেশি রপ্তানি আয় ৬.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে; যা আগের অর্থবছরে ৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে—নিটওয়্যার থেকে আয় হয়েছে ২.০৪ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন (বোনা নয় এমন) পোশাক থেকে ১.৫৬ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩.৬০ বিলিয়ন ডলার; এক বছরে এ খাতে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।

পোশাকের পাশাপাশি স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের অন্যান্য পণ্যেরও পদচিহ্ন স্পষ্ট। টেক্সটাইল পণ্যে আয় করা হয়েছে ৪৯.৭৪ মিলিয়ন ডলার, ফুটওয়্যার থেকে এসেছে ৭৮.৩৫ মিলিয়ন ডলার এবং খেলনা, গেমস ও ক্রীড়া সামগ্রী রপ্তানিতে লাভ হয়েছে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেন মোট ২১–২২ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর অবদান প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরো। ওই বছরের হিসাব অনুযায়ী স্পেনের মোট পোশাক আমদানি মূল্যের ১৫.৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে, ফলে বাংলাদেশ সেখানে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে; চীনের অংশ ছিল ১৫.০ শতাংশ। পরে এসেছে মরক্কো (৮.৪%), ইতালি (৭.৫%), তুরস্ক (৬.৬%) ও কম্বোডিয়া (৬%)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেনের মতো বড় বাজারে বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে এবং আরও বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দ্রুততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত তুলাভিত্তিক পণ্যের পাশাপাশি ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক উৎপাদন বাড়ানো, ফ্যাশননির্ভর উচ্চমূল্যের ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ডেলিভারি টাইম কমানো তখনই সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পোশাকের বাইরে স্পেন থেকে যে সব পণ্য আমদানি করা হয়—তাহলে সেগুলোর মধ্যে এমন কোনো পণ্য নির্ধারণ করে উৎপাদন ও রপ্তানি করা হলে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণ সম্ভব। এছাড়া স্পেনের খুচরা ব্র্যান্ড ও আন্তর্জাতিক রিটেইলারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব কিংবা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলাদেশি উৎপাদনশীলতা ও বাজার সংযোগ আরও বাড়বে।

স্প্যানিশ বিনিয়োগ বাড়লে শুধু মূলধনের প্রবাহ নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিপণন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও গড়ে উঠবে। স্পেন-ভিত্তিক বাঙালি প্রবাসীরাও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বাজার সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

স্পেনের ক্রেতাদের মধ্যে এখন দ্রুত সরবরাহ, টেকসই উৎপাদন ও উদ্ভাবনী পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, ব্যবসায়িক খরচ কমানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্পেনের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে স্থায়ী অংশীদারিত্ব, নতুন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পেনের বাজারে আরও বড় অংশীকারী হতে পারবে।

এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যে সীমিত সময়ের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা রয়েছে—তার যথাযথ ব্যবহার করে স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে উৎপাদনে উৎসাহিত করাও সময়োপযোগী হবে।

সংক্ষেপে, দক্ষতা বাড়ানো, পণ্য বৈচিত্রতা নিশ্চিত করা, সরবরাহ চেইন মজবুত করা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করলে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।