ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অভিযোগ করেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও স্থায়ী সংসদীয় কমিটি গঠনের সময়ে কার্যপ্রণালি বিধি এবং দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘিত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংসদের জবাবদিহি দুর্বল করছে এবং সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। এসব কথা টিআইবি মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী কমিটি, বাছাই কমিটি বা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ প্রসঙ্গে কোনোই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের প্রস্তাবিত জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি। সাধারণত সংসদ সদস্যদের বিলের অনুলিপি আগেভাগে দেওয়া হয়; কিন্তু এই বিলের ক্ষেত্রে কপি বিল উত্থাপনের ঠিক আগে দেওয়া হয়—ফলে সদস্যরা পর্যালোচনার যথেষ্ট সময় পাননি এবং বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে।
টিআইবি আরও বলছে, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’—এই দুই বিলও পূর্বঘোষণা ছাড়া সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে আনা হয়েছে। আর বিরোধীর আপত্তি উপেক্ষা করে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত অনুমোদন করা হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘এ ধরনের একতরফা আইন প্রণয়নের ফলে বর্তমান সংসদ ও কর্তৃত্ববাদী সময়ের সংসদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়—সেই প্রশ্ন উঠছে।’’
টিআইবি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮-এর চেতনার বিপরীতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে, যা স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি করে এবং কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন করবে।
সংস্থার মতে, নব্বইয়ের পরকার সংসদীয় চর্চায় এমন নজির নেই। বিতর্কিত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটির সদস্য বা সভাপতি করলে সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা, সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
টিআইবি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে, জুলাই জাতীয় সংসদে সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের হাতে তুলে দেয়ার অঙ্গীকার ছিল। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলের মধ্যে বণ্টনের কথা ছিল। সেই হিসেবে প্রায় ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি বলে টিআইবি দাবি করেছে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার ফলে শুধু জাতীয় সংসদের অঙ্গীকারেই না, ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে টিআইবি ভবিষ্যতে ঘোষিত নীতির আলোকে সব সংসদীয় কমিটি গঠনের বিকল্প চাওয়া করেছে।
টিআইবি বলেছে, সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদের আলোকে সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে দ্রুত একটি পৃথক আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে উল্লিখিত চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদেরও যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























