০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঢাকায় বুয়েটের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন

ঢাকা শহরে পরিবেশ ও সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) তৈরি করেছেন একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ই-রিকশা। এই নতুন তিন চাকার ই-রিকশার পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন শনিবার সকালে ঢাকার উভয় পার্শ্বের সদরঘাটে ঢাকামুখী নাগরিকদের জন্য একান্ত স্বাগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হয়। প্রথম ধাপে উদ্যোগটি ঢাকের পশ্চিমের আফতাবনগর এবং পূর্বের জিগাতলা এলাকায় চালু করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যানজট কমানো, পরিবেশের ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন হ্রাস ও রিকশা চলাচলের নিয়মনীতি সুচারুরূপে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সহ সরকারের কর্মকর্তা ও নগরপ্রতিষ্ঠানকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই ই-রিকশা সাধারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক এবং নিরাপদ। বুয়েটের প্রকৌশলী দলের তৈরি এই ই-রিকশার ডিজাইনে উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম ও গতি নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে। এই ই-রিকশায় ব্যবহৃত হয়েছে ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি, যা এক চার্জে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। পাইলটিং পর্যায়ে ব্রেকিং সক্ষমতা, যাত্রীর আরাম ও চালকের নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আদিলুর রহমান খান জানান, ঢাকার বাস্তবতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবা যাচ্ছে না, এবং এই প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পুরো শহরজুড়ে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে।

সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ই-রিকশাগুলিতে আধুনিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে, রিকশাগুলো নির্ধারিত এলাকা বা মূল সড়ক থেকে বাইরে প্রবেশ করবে না। দৌতেলি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, কত রিকশা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে চলাচল করবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীসেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে সব বিদ্যমান প্যাডেল ও অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশাকে এই আধুনিক ই-রিকশায় রূপান্তর করা।

নিরাপত্তার জন্য চালকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় উত্তরা ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২৪ হাজার রিকশাচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। উত্তরা ও দক্ষিণের প্রশাসকেরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষিত চালকরাই নির্ধারিত এলাকায় এই যানচলাচল করতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে আফতাবনগর, ধানমন্ডি ও মতিঝিলে এই নতুন ই-রিকশার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই পাইলট প্রকল্পের সফলতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যবান হওয়ায় ভবিষ্যতে পুরো ঢাকায় এই পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঢাকায় বুয়েটের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা শহরে পরিবেশ ও সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) তৈরি করেছেন একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ই-রিকশা। এই নতুন তিন চাকার ই-রিকশার পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন শনিবার সকালে ঢাকার উভয় পার্শ্বের সদরঘাটে ঢাকামুখী নাগরিকদের জন্য একান্ত স্বাগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হয়। প্রথম ধাপে উদ্যোগটি ঢাকের পশ্চিমের আফতাবনগর এবং পূর্বের জিগাতলা এলাকায় চালু করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যানজট কমানো, পরিবেশের ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন হ্রাস ও রিকশা চলাচলের নিয়মনীতি সুচারুরূপে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সহ সরকারের কর্মকর্তা ও নগরপ্রতিষ্ঠানকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই ই-রিকশা সাধারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক এবং নিরাপদ। বুয়েটের প্রকৌশলী দলের তৈরি এই ই-রিকশার ডিজাইনে উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম ও গতি নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে। এই ই-রিকশায় ব্যবহৃত হয়েছে ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি, যা এক চার্জে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। পাইলটিং পর্যায়ে ব্রেকিং সক্ষমতা, যাত্রীর আরাম ও চালকের নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আদিলুর রহমান খান জানান, ঢাকার বাস্তবতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবা যাচ্ছে না, এবং এই প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পুরো শহরজুড়ে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে।

সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ই-রিকশাগুলিতে আধুনিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে, রিকশাগুলো নির্ধারিত এলাকা বা মূল সড়ক থেকে বাইরে প্রবেশ করবে না। দৌতেলি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, কত রিকশা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে চলাচল করবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীসেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে সব বিদ্যমান প্যাডেল ও অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশাকে এই আধুনিক ই-রিকশায় রূপান্তর করা।

নিরাপত্তার জন্য চালকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় উত্তরা ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২৪ হাজার রিকশাচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। উত্তরা ও দক্ষিণের প্রশাসকেরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষিত চালকরাই নির্ধারিত এলাকায় এই যানচলাচল করতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে আফতাবনগর, ধানমন্ডি ও মতিঝিলে এই নতুন ই-রিকশার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই পাইলট প্রকল্পের সফলতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যবান হওয়ায় ভবিষ্যতে পুরো ঢাকায় এই পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।