১০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সরকারের ঘোষণা: নির্বাচনের পর দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত হবে চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারাকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা, জরুরি সভার আহ্বান চট্টগ্রাম বন্দর: শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষোভের মুখে নৌ উপদেষ্টা ভোটের দিন ও ছুটির সময় মেট্রোরেল সচল থাকবে; কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে আমান আযমীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই সর্বশেষ গবেষণা: ৪৮% আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পছন্দ বিএনপি

শর্ত পূরণ না হলে আল নাসর ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন রোনালদো

সৌদি আরবের ফুটবল জগতে বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রধান ভুমিকা পালন করছেন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সম্প্রতি তিনি তাঁর বর্তমান ক্লাব আল নাসর এবং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) এর কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্লাবের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে, রোনালদো নিজেই আগামী জুন মাসে ক্লাব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। মূলত, আল হিলাল ক্লাবের পক্ষ থেকে নীতিগত সুবিধা লাভ এবং আল নাসরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার অভিযোগে রোনালদো এর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

রোনালদোর এই অসন্তোষের প্রথম প্রকাশ ঘটে এরেক্তিতে, যখন তিনি গত সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে খেলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর মূল অভিযোগ হলো, পিআইএফ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আল নাসরের শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে আল হিলালকে বড় বড় সাইনিংয়ে সহায়তা করছে। বিশেষ করে, ফরাসি তারকা করিম বেনজেমাকে আল ইত্তিহাদ থেকে আল হিলালে যাওয়ার_processটি রোনালদো খুবই আপত্তিজনক বলে মনে করছেন। তাঁর মতে, এই ধরণের পদক্ষেপ সরাসরি শিরোপা লড়াইয়ে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং আল হিলালকে একচেটিয়া সুবিধা দিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়াও, পিঅইএফ আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং সিইও জোসে সেমেদোকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোনালদো মনে করেন, এর ফলে ক্লাবের প্রশাসনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দলে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি ব্যয় সংকোচন নীতির জন্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ক্লাবের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে এবং দলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার দাবি মানা না হলে, তিনি আর মাঠে নামবেন না।

২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রোনালদো কোনও বড় শিরোপা জিততে পারেননি, তবে তিনি অ্যাকাউন্টে রেখেছেন ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর সুযোগ। যদিও চুক্তিতে ৫ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে করছে, তিনি ক্লাব ছাড়তে অনড় হতে পারেন। সৌদি প্রো লিগের কর্তৃপক্ষ এবং আল নাসর নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকাকে হারাতে চাই না বলে জানিয়ে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য, গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো তারকাদের দলে নেয়ার ব্যাপারে জোরালো প্রত্যাশাও ব্যক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, আল হিলালের পক্ষ থেকে রোনালদোর এই অভিযোগগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। সিইও এসতেভে কালজাদা বলেছেন, তাঁদের মূলত ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষক ও প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালের আর্থিক সহায়তায় স্কোয়াডটি শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং এতে অন্য কোনও ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে, রোনালদোর হুমকির ফলে শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পিআইএফ এবং আল নাসর কি বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে পারেন কি না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপ খুবই ইতিবাচক: ট্রাম্প

শর্ত পূরণ না হলে আল নাসর ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন রোনালদো

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবের ফুটবল জগতে বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রধান ভুমিকা পালন করছেন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সম্প্রতি তিনি তাঁর বর্তমান ক্লাব আল নাসর এবং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) এর কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্লাবের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে, রোনালদো নিজেই আগামী জুন মাসে ক্লাব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। মূলত, আল হিলাল ক্লাবের পক্ষ থেকে নীতিগত সুবিধা লাভ এবং আল নাসরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার অভিযোগে রোনালদো এর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

রোনালদোর এই অসন্তোষের প্রথম প্রকাশ ঘটে এরেক্তিতে, যখন তিনি গত সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে খেলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর মূল অভিযোগ হলো, পিআইএফ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আল নাসরের শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে আল হিলালকে বড় বড় সাইনিংয়ে সহায়তা করছে। বিশেষ করে, ফরাসি তারকা করিম বেনজেমাকে আল ইত্তিহাদ থেকে আল হিলালে যাওয়ার_processটি রোনালদো খুবই আপত্তিজনক বলে মনে করছেন। তাঁর মতে, এই ধরণের পদক্ষেপ সরাসরি শিরোপা লড়াইয়ে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং আল হিলালকে একচেটিয়া সুবিধা দিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়াও, পিঅইএফ আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং সিইও জোসে সেমেদোকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোনালদো মনে করেন, এর ফলে ক্লাবের প্রশাসনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দলে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি ব্যয় সংকোচন নীতির জন্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ক্লাবের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে এবং দলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার দাবি মানা না হলে, তিনি আর মাঠে নামবেন না।

২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রোনালদো কোনও বড় শিরোপা জিততে পারেননি, তবে তিনি অ্যাকাউন্টে রেখেছেন ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর সুযোগ। যদিও চুক্তিতে ৫ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে করছে, তিনি ক্লাব ছাড়তে অনড় হতে পারেন। সৌদি প্রো লিগের কর্তৃপক্ষ এবং আল নাসর নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকাকে হারাতে চাই না বলে জানিয়ে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য, গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো তারকাদের দলে নেয়ার ব্যাপারে জোরালো প্রত্যাশাও ব্যক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, আল হিলালের পক্ষ থেকে রোনালদোর এই অভিযোগগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। সিইও এসতেভে কালজাদা বলেছেন, তাঁদের মূলত ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষক ও প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালের আর্থিক সহায়তায় স্কোয়াডটি শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং এতে অন্য কোনও ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে, রোনালদোর হুমকির ফলে শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পিআইএফ এবং আল নাসর কি বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে পারেন কি না।