০৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বগুড়ায় মাটিডালীতে ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা

বগুড়া শহরের মাটিডালী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাম ফাহিম হাসান (১৯)। তিনি বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ফাহিম মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাহিম মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় নামের এক যুবক হঠাৎ তার ওপর হামলা করে। হামলাকারী তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে বারোটার দিকে ফাহিমের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত তনয় অনেক দিন ধরেই ফাহিমের পরিবারের সঙ্গে বৈরী; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তনয় ফাহিমের বোনকে বিয়ে করার চেষ্টা করছিল এবং পরিবার রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে দফায় দফায় বিবাদ ও ব্যক্তিগত অশান্তি লেগে ছিল। নিহতের নিকটাত্মীয় মো. সেতু মিয়া জানান, ‘‘এর আগে তনয় আমাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তখনও হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত ছিল।’’ পরিবার ও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত শত্রুতার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘এই দমনাত্মক, বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি — ফাঁসি — দেওয়া হোক।’’

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযুক্ত তনয় বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের অনুপস্থিতিতে বা আরও তথ্যের জন্য পুলিশ ঘটনার পরিসংখ্যান ও ঘটনার সূত্রাবলী ক্রমাগত যাচাই করছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বগুড়ায় মাটিডালীতে ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিতঃ ০৩:২২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়া শহরের মাটিডালী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাম ফাহিম হাসান (১৯)। তিনি বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ফাহিম মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাহিম মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় নামের এক যুবক হঠাৎ তার ওপর হামলা করে। হামলাকারী তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে বারোটার দিকে ফাহিমের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত তনয় অনেক দিন ধরেই ফাহিমের পরিবারের সঙ্গে বৈরী; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তনয় ফাহিমের বোনকে বিয়ে করার চেষ্টা করছিল এবং পরিবার রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে দফায় দফায় বিবাদ ও ব্যক্তিগত অশান্তি লেগে ছিল। নিহতের নিকটাত্মীয় মো. সেতু মিয়া জানান, ‘‘এর আগে তনয় আমাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তখনও হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত ছিল।’’ পরিবার ও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত শত্রুতার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘এই দমনাত্মক, বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি — ফাঁসি — দেওয়া হোক।’’

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযুক্ত তনয় বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের অনুপস্থিতিতে বা আরও তথ্যের জন্য পুলিশ ঘটনার পরিসংখ্যান ও ঘটনার সূত্রাবলী ক্রমাগত যাচাই করছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।