১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অমর একুশে: চিরগৌরব ও আত্মপরিচয়ের দিন প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের ফোনালাপ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি ইসির এনআইডি সংশোধনের জন্য জরুরি ৩ নির্দেশনা বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে স্পাইসজেটের নিষেধাজ্ঞা আরোপ দাবি ও আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা কখনো বরদাশত করা হবে না: র‍্যাব ডিজি তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনালাপ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানালেন

অমর একুশে স্মরণে ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রদর্শনীটি চলছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে দেখানো হয় কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)। বাংলা চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক রূপকের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত এই ছবিটি একটি পরিবারের ভেতরের দমন-বঞ্চনার বিস্তৃত চিত্রের মাধ্যমে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের প্রতীকী প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলে। পরিচালকের নিখুঁত আবহ, চরিত্রচিত্র ও ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার শাসনব্যবস্থার নির্মমতা এবং জনগণের প্রতিবাদী চেতনা সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। ছবির আবহ আরও শক্তিশালী করেছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচিত অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।

শুটিং চলাকালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে জহির রায়হানকে ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হয়েছিল; পরে প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়—এই ইতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছবিটির প্রতিপাদ্যকে আরও তীব্র করে তোলে। ছবিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ গুণী শিল্পীরা, যাদের অবদান ছবিটির শক্তিশালী সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দ্বিতীয় দিন, শনিবার, দর্শকদের জন্য দেখানো হয়েছে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’ (১৯৮১)। চলচ্চিত্রটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে উপস্থাপন করে; পারিবারিক কাহিনীর ফ্রেমের মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ অনেকে।

আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নির্মাণের সংখ্যা এখনও সীমিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসাভিমুখ গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো পৌঁছে দেয়া এবং ভাষা-আন্দোলনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করাই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি গত দুই দিনজুড়ে অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন আবহ ও উচ্ছ্বাস দিয়েছে।

প্রদর্শনীটি উৎসাহী দর্শকরা বিনামূল্যে দেখতে পাচ্ছেন; যারা ইতিহাসভিত্তিক সিনেমা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সুদৃঢ় করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দরকারি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন

অমর একুশে স্মরণে ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

প্রকাশিতঃ ০৩:২১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রদর্শনীটি চলছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে দেখানো হয় কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)। বাংলা চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক রূপকের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত এই ছবিটি একটি পরিবারের ভেতরের দমন-বঞ্চনার বিস্তৃত চিত্রের মাধ্যমে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের প্রতীকী প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলে। পরিচালকের নিখুঁত আবহ, চরিত্রচিত্র ও ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার শাসনব্যবস্থার নির্মমতা এবং জনগণের প্রতিবাদী চেতনা সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। ছবির আবহ আরও শক্তিশালী করেছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচিত অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।

শুটিং চলাকালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে জহির রায়হানকে ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হয়েছিল; পরে প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়—এই ইতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছবিটির প্রতিপাদ্যকে আরও তীব্র করে তোলে। ছবিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ গুণী শিল্পীরা, যাদের অবদান ছবিটির শক্তিশালী সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দ্বিতীয় দিন, শনিবার, দর্শকদের জন্য দেখানো হয়েছে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’ (১৯৮১)। চলচ্চিত্রটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে উপস্থাপন করে; পারিবারিক কাহিনীর ফ্রেমের মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ অনেকে।

আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নির্মাণের সংখ্যা এখনও সীমিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসাভিমুখ গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো পৌঁছে দেয়া এবং ভাষা-আন্দোলনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করাই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি গত দুই দিনজুড়ে অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন আবহ ও উচ্ছ্বাস দিয়েছে।

প্রদর্শনীটি উৎসাহী দর্শকরা বিনামূল্যে দেখতে পাচ্ছেন; যারা ইতিহাসভিত্তিক সিনেমা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সুদৃঢ় করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দরকারি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।