০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন হাসিনাসহ আরো কয়েকজন নেতা

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় ঘটে বিডিআর বিদ্রোহ, যেখানে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনার পর দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট পৃথক রায় দিয়েছেন, যার নিশ্চয়তা এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় থাকছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটিতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সূত্র জানিয়েছেন যে, তদন্তের সময় কিছু নতুন নাম পুলিশের নজরে এসেছে, যাদের আগে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদের মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ বেশ কিছু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর নাম। আইন অনুযায়ী, নতুন এই নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্র জানিয়েছে যে, হত্যা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যা দেশের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। ২০১৩ সালে আদালত এই মামলায় রায় ঘোষণা করে, যেখানে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনের বিভিন্ন সময়ের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২৭৮ জনের খালাস হয়। রায়ের আগে চার আসামি মারা যান। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ, যেখানে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

২০২০ সালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আরও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ২২৮ জনকে বিভিন্ন সাজা দেয়া হয় এবং ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এই রায়ের আগে ১৫ জনসহ মোট ৬১ জন আসামি মারা গেছেন।

আদালত থেকে জানানো হয়েছে যে, হত্যা মামলার হাইকোর্টের দণ্ডের বিরুদ্ধে ২২৬ জনের পক্ষে ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, খালাসপ্রাপ্ত ও সাজা কম পাওয়া ৮৩ জনের বিরুদ্ধে ২০টি লিভ টু আপিল হয়েছে, যা শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। এই আপিলগুলো আপিল বিভাগের টেবিলে রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই আপিলগুলো কার্যতালিকায় রেজিস্ট্রি হয়েছে।

প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে আপিলের সারাংশ জমা দিয়েছে। শুনানি শিগগির শুরু হবে। তারা প্রস্তুত এবং কার্যতালিকায় রয়েছে। আপিল বিভাগ এ বিষয়ে দ্রুত শুনানি করবে বলে আশা করা যায়।

অপরদিকে, বিস্ফোরক আইনে করা মামলার সাক্ষী সংখ্যা ১,৩৩৬৪. এখন পর্যন্ত ৩০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামি ৮৩৪ জনের মধ্যে এখনো ৫৯ জন মারা গেছেন, ২০ জন পলাতক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খালাসপ্রাপ্ত আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত অনেকের জামিন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত বিচার চাই। আদালত যেন দ্রুত রায় দিয়ে এই মামলার সমাপ্তি ঘটায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে ধাপে ধাপে অন্যান্য রেসমেন্ডেশনের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, একটি স্বনির্ধারিত তদন্ত কমিশন ইতোপূর্বে গঠন করা হয়েছে, যার রিপোর্ট ও সুপারিশ এখনো কার্যকর হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘পিলখানার ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সময় এখন নয়। তবে বোঝা যায় যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর অপতৎপরতা ছিল। বিভিন্ন অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রচার চালানো হলেও, জনগণের কাছে এখন সে সব স্পষ্ট।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন হাসিনাসহ আরো কয়েকজন নেতা

প্রকাশিতঃ ১০:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় ঘটে বিডিআর বিদ্রোহ, যেখানে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনার পর দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট পৃথক রায় দিয়েছেন, যার নিশ্চয়তা এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় থাকছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটিতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সূত্র জানিয়েছেন যে, তদন্তের সময় কিছু নতুন নাম পুলিশের নজরে এসেছে, যাদের আগে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদের মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ বেশ কিছু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর নাম। আইন অনুযায়ী, নতুন এই নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্র জানিয়েছে যে, হত্যা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যা দেশের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। ২০১৩ সালে আদালত এই মামলায় রায় ঘোষণা করে, যেখানে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনের বিভিন্ন সময়ের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২৭৮ জনের খালাস হয়। রায়ের আগে চার আসামি মারা যান। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ, যেখানে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

২০২০ সালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আরও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ২২৮ জনকে বিভিন্ন সাজা দেয়া হয় এবং ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এই রায়ের আগে ১৫ জনসহ মোট ৬১ জন আসামি মারা গেছেন।

আদালত থেকে জানানো হয়েছে যে, হত্যা মামলার হাইকোর্টের দণ্ডের বিরুদ্ধে ২২৬ জনের পক্ষে ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, খালাসপ্রাপ্ত ও সাজা কম পাওয়া ৮৩ জনের বিরুদ্ধে ২০টি লিভ টু আপিল হয়েছে, যা শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। এই আপিলগুলো আপিল বিভাগের টেবিলে রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই আপিলগুলো কার্যতালিকায় রেজিস্ট্রি হয়েছে।

প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে আপিলের সারাংশ জমা দিয়েছে। শুনানি শিগগির শুরু হবে। তারা প্রস্তুত এবং কার্যতালিকায় রয়েছে। আপিল বিভাগ এ বিষয়ে দ্রুত শুনানি করবে বলে আশা করা যায়।

অপরদিকে, বিস্ফোরক আইনে করা মামলার সাক্ষী সংখ্যা ১,৩৩৬৪. এখন পর্যন্ত ৩০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামি ৮৩৪ জনের মধ্যে এখনো ৫৯ জন মারা গেছেন, ২০ জন পলাতক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খালাসপ্রাপ্ত আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত অনেকের জামিন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত বিচার চাই। আদালত যেন দ্রুত রায় দিয়ে এই মামলার সমাপ্তি ঘটায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে ধাপে ধাপে অন্যান্য রেসমেন্ডেশনের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, একটি স্বনির্ধারিত তদন্ত কমিশন ইতোপূর্বে গঠন করা হয়েছে, যার রিপোর্ট ও সুপারিশ এখনো কার্যকর হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘পিলখানার ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সময় এখন নয়। তবে বোঝা যায় যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর অপতৎপরতা ছিল। বিভিন্ন অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রচার চালানো হলেও, জনগণের কাছে এখন সে সব স্পষ্ট।’