০৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি মহাসড়ক হবে ১৮ ফুট: ১,০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

সরকার পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাঙামাটি (মানিকছড়ি)–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ককে প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ওই প্রকল্পটি অনুমোদন করে করেছে; ব্যয় ধরা হয়েছে ১,০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ১২ ফুট চওড়ার এক লেন সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া দুই লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি নতুনকরণ করা হবে। কাজের মধ্যে রয়েছে ৮৫টি নতুন কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যমান ১৩টি কালভার্ট সম্প্রসারণ। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য প্রায় ৮০ হাজারটি গাছ রোপণেরও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে তিন বছরের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এবং সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সংকীর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পথ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকির কারণ ছিল। সড়কটি প্রশস্ত ও মানসম্মত হলে যানজট ও দুর্ঘটনা দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে — বিশেষ করে সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ হবে।

প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী ট্রাকচালক অজয় আসাম বলেন, “সড়কটি বড় হলে আমরা নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারব। দুর্ঘটনাও কমবে। যোগাযোগ ভালো হলে এলাকার উন্নয়নও দ্রুত হবে।” আর অটোরিকশাচালক মো. মিজান জানান, “এখানে অনেক উঁচু নিচু ও তীক্ষ্ণ বাঁক আছে। সড়ক প্রশস্ত হলে জনজীবন অনেক স্বস্তিকর হবে।”

রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “প্রায় সাড়ে এবার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন অত্যন্ত সরু; তীক্ষ্ণ বাঁক ও পাহাড়ি ঢালে ভরা। ভারী যানবাহনের চলাচলে দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটত। অনেকেই এই সড়ক নিয়ে আঁতকে থাকত।” নানিয়ারচর উপজেলার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান voegen: “চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটি অনেকটা উপেক্ষিত ছিল। এখন প্রশস্তকরণ হবে শুনে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, “রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। বর্তমান প্রস্থ মাত্র ১২ ফুট হওয়ায় যান চলাচলে ঝুঁকি ছিল। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে একনেকে ১,০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে যাবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

প্রকল্প শুরু হলে তাত্ক্ষণিকভাবে স্থানীয়ভাবে নির্মাণসংক্রান্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সড়ক-সংযোগের উন্নতি পার্বত্যাঞ্চলের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি মহাসড়ক হবে ১৮ ফুট: ১,০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সরকার পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাঙামাটি (মানিকছড়ি)–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ককে প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ওই প্রকল্পটি অনুমোদন করে করেছে; ব্যয় ধরা হয়েছে ১,০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ১২ ফুট চওড়ার এক লেন সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া দুই লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি নতুনকরণ করা হবে। কাজের মধ্যে রয়েছে ৮৫টি নতুন কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যমান ১৩টি কালভার্ট সম্প্রসারণ। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য প্রায় ৮০ হাজারটি গাছ রোপণেরও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে তিন বছরের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এবং সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সংকীর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পথ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকির কারণ ছিল। সড়কটি প্রশস্ত ও মানসম্মত হলে যানজট ও দুর্ঘটনা দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে — বিশেষ করে সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ হবে।

প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী ট্রাকচালক অজয় আসাম বলেন, “সড়কটি বড় হলে আমরা নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারব। দুর্ঘটনাও কমবে। যোগাযোগ ভালো হলে এলাকার উন্নয়নও দ্রুত হবে।” আর অটোরিকশাচালক মো. মিজান জানান, “এখানে অনেক উঁচু নিচু ও তীক্ষ্ণ বাঁক আছে। সড়ক প্রশস্ত হলে জনজীবন অনেক স্বস্তিকর হবে।”

রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “প্রায় সাড়ে এবার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন অত্যন্ত সরু; তীক্ষ্ণ বাঁক ও পাহাড়ি ঢালে ভরা। ভারী যানবাহনের চলাচলে দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটত। অনেকেই এই সড়ক নিয়ে আঁতকে থাকত।” নানিয়ারচর উপজেলার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান voegen: “চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটি অনেকটা উপেক্ষিত ছিল। এখন প্রশস্তকরণ হবে শুনে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, “রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। বর্তমান প্রস্থ মাত্র ১২ ফুট হওয়ায় যান চলাচলে ঝুঁকি ছিল। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে একনেকে ১,০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে যাবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

প্রকল্প শুরু হলে তাত্ক্ষণিকভাবে স্থানীয়ভাবে নির্মাণসংক্রান্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সড়ক-সংযোগের উন্নতি পার্বত্যাঞ্চলের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।