১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

বাংলাদেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভাষ্যকার-গায়ক ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন ডালিয়া নওশীন। গত ২৭ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসসেবা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত তিনি এই যুগান্তকারী সংগ্রাম হেরে হারিয়ে গেলেন না-ফেরার দেশে।

প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন ও প্রথিতযশা নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ব্যক্তিগত জীবনে ডালিয়া নওশীন দু’সন্তানের জননী ছিলেন; তাঁর দুই সন্তান বর্তমানে যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে বসবাস করছেন। তিনি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা।

ডালিয়া নওশীন বাংলাদেশের সংগীত ও ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সক্রিয় কণ্ঠ হিসেবে তার গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। নজরুলসংগীতের শুদ্ধ চর্চা ও প্রসারে তার অবদান ছিল অনবদ্য—সংগীত শিক্ষা ও প্রযোজনায় তিনি বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

সংগীতে দীর্ঘদিনের সাধনা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ২০২০ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শোক ব্যক্ত করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

ডালিয়া নওশীনের সুর, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের স্মৃতি দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে। তাঁর সেই অব্যাহত গান ও নিবেদিত জীবন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভাষ্যকার-গায়ক ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন ডালিয়া নওশীন। গত ২৭ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসসেবা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত তিনি এই যুগান্তকারী সংগ্রাম হেরে হারিয়ে গেলেন না-ফেরার দেশে।

প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন ও প্রথিতযশা নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ব্যক্তিগত জীবনে ডালিয়া নওশীন দু’সন্তানের জননী ছিলেন; তাঁর দুই সন্তান বর্তমানে যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে বসবাস করছেন। তিনি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা।

ডালিয়া নওশীন বাংলাদেশের সংগীত ও ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সক্রিয় কণ্ঠ হিসেবে তার গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। নজরুলসংগীতের শুদ্ধ চর্চা ও প্রসারে তার অবদান ছিল অনবদ্য—সংগীত শিক্ষা ও প্রযোজনায় তিনি বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

সংগীতে দীর্ঘদিনের সাধনা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ২০২০ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শোক ব্যক্ত করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

ডালিয়া নওশীনের সুর, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের স্মৃতি দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে। তাঁর সেই অব্যাহত গান ও নিবেদিত জীবন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।