১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কোচিং সেন্টারের সামনে অপহরণচেষ্টা, পঞ্চম শ্রেণির তাহরিম পালিয়ে বাঁচলেন

নওগাঁর শহরে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। নাম জানা যায় তাহরিম তাওবা—সে কোচিং সেন্টার ‘পাঠশালা স্ট্যাডি কেয়ার একাডেমি’-র ছাত্রী। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে নিজ বুদ্ধিতে মুক্তি পেয়ে তাহরিম একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। ঘটনায় ভ terrified পরিবার এবং স্থানীয়রা ভীতি ও উদ্বেগে আছেন। পরিবার গতকাল শুক্রবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় এজাহার করেছে।

ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)। তাহরিমের বাবা মোরশেদুল আলম জানিয়েছেন, সকালে সকাল ৭টার দিকে মেয়েকে কোচিংয়ে রেখে আসেন তিনি। পরে সকাল ৯টার দিকে মেয়েকে নিতে গেলে মেয়েকে কোচিংয়ে পাওয়া যায়নি। শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন তিনি কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে এবং ফিরে আসেনি।

কী ঘটেছিল তা জানতে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করার পরে এক মোবাইল ফোন কল আসে—তাহরিমকে শহরের দয়ালের মোড় এলাকার একটি বাড়িতে রাখা আছে। ওই খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে কাঁপছে চেহারায় ফিরে পান তার বাবা। পরে পরিবারের কাছে জানতে পারেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তাহরিম নিজে ঘটনার বর্ণনায় বলেন, “কলমের কালি হয়ে যাওয়ায় কলম কিনতে বাইরে বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ এক মাইক্রোবাস এসে আমার সামনে থামল। মাইক্রো থেকে একজন নেমে পেছন থেকে আমার চোখে রুমাল চাপিয়ে আমাকে গাড়িতে তোলা হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি আমাকে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে এসেছে; সেখানে জানালা-দরজা ছিল না। এক সময় ওই লোক ফোনে কথা বলতে বলতেই সে বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠে, তখন সুযোগ দেখে আমি দৌড়ে পালাই। অনেক দৌড়ানোর পর একটি বাড়ির গেট খোলা দেখে সেই বাড়িতে ঢুকি এবং বাড়ির লোকরা আমার বাবার নম্বর জানিয়ে বাবাকে খবর দেয়। এরপর বাবা এসে আমাকে নিয়ে যায়।” তার বর্ণনা অনুযায়ী অপহরণচেষ্টাকারীদের একজনের মাথায় সামান্য টাক ঢাকা অংশ ছিল।

তাহরিম যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, “আমার মেয়ের ফোনে অনেক ভীত কণ্ঠে ঘটনা বলে। বাড়ি ফিরে দেখি আমার মা ও স্ত্রী মেয়েটিকে বিছানায় বসিয়ে রেখেছে, মেয়েটি ভয়ে কাঁপছিল। কথা বললে মেয়েটি বলে দেয় যে কাউকে কাটিয়ে তাকে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে মাইক্রোতে তোলা হয়েছিল। আমরা মেয়েটির বাবার সাথে যোগাযোগ করি এবং বাবাকে খবর দিই; পরে বাবা এসে মেয়েটিকে নিয়ে যান।”

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এখনও অভিযোগে নামজাদা কেউ ধরা পড়েনি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন; ঘটনার দ্রুত এবং সুষ্ঠু অনুসন্ধান দাবি করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কোচিং সেন্টারের সামনে অপহরণচেষ্টা, পঞ্চম শ্রেণির তাহরিম পালিয়ে বাঁচলেন

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর শহরে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। নাম জানা যায় তাহরিম তাওবা—সে কোচিং সেন্টার ‘পাঠশালা স্ট্যাডি কেয়ার একাডেমি’-র ছাত্রী। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে নিজ বুদ্ধিতে মুক্তি পেয়ে তাহরিম একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। ঘটনায় ভ terrified পরিবার এবং স্থানীয়রা ভীতি ও উদ্বেগে আছেন। পরিবার গতকাল শুক্রবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় এজাহার করেছে।

ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)। তাহরিমের বাবা মোরশেদুল আলম জানিয়েছেন, সকালে সকাল ৭টার দিকে মেয়েকে কোচিংয়ে রেখে আসেন তিনি। পরে সকাল ৯টার দিকে মেয়েকে নিতে গেলে মেয়েকে কোচিংয়ে পাওয়া যায়নি। শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন তিনি কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে এবং ফিরে আসেনি।

কী ঘটেছিল তা জানতে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করার পরে এক মোবাইল ফোন কল আসে—তাহরিমকে শহরের দয়ালের মোড় এলাকার একটি বাড়িতে রাখা আছে। ওই খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে কাঁপছে চেহারায় ফিরে পান তার বাবা। পরে পরিবারের কাছে জানতে পারেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তাহরিম নিজে ঘটনার বর্ণনায় বলেন, “কলমের কালি হয়ে যাওয়ায় কলম কিনতে বাইরে বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ এক মাইক্রোবাস এসে আমার সামনে থামল। মাইক্রো থেকে একজন নেমে পেছন থেকে আমার চোখে রুমাল চাপিয়ে আমাকে গাড়িতে তোলা হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি আমাকে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে এসেছে; সেখানে জানালা-দরজা ছিল না। এক সময় ওই লোক ফোনে কথা বলতে বলতেই সে বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠে, তখন সুযোগ দেখে আমি দৌড়ে পালাই। অনেক দৌড়ানোর পর একটি বাড়ির গেট খোলা দেখে সেই বাড়িতে ঢুকি এবং বাড়ির লোকরা আমার বাবার নম্বর জানিয়ে বাবাকে খবর দেয়। এরপর বাবা এসে আমাকে নিয়ে যায়।” তার বর্ণনা অনুযায়ী অপহরণচেষ্টাকারীদের একজনের মাথায় সামান্য টাক ঢাকা অংশ ছিল।

তাহরিম যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, “আমার মেয়ের ফোনে অনেক ভীত কণ্ঠে ঘটনা বলে। বাড়ি ফিরে দেখি আমার মা ও স্ত্রী মেয়েটিকে বিছানায় বসিয়ে রেখেছে, মেয়েটি ভয়ে কাঁপছিল। কথা বললে মেয়েটি বলে দেয় যে কাউকে কাটিয়ে তাকে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে মাইক্রোতে তোলা হয়েছিল। আমরা মেয়েটির বাবার সাথে যোগাযোগ করি এবং বাবাকে খবর দিই; পরে বাবা এসে মেয়েটিকে নিয়ে যান।”

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এখনও অভিযোগে নামজাদা কেউ ধরা পড়েনি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন; ঘটনার দ্রুত এবং সুষ্ঠু অনুসন্ধান দাবি করছেন।