০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গে ৭৩ জন ভর্তি, সদর হাসপাতালে ৫৮ জন

লক্ষ্মীপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৭৩জন রোগী ভর্তি আছেন; এর মধ্যে সদর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছে ৫৮জন। শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে হাসপাতালে মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানায় রাখা হয়েছে বলে দেখা গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে জেলার সদরসহ পাঁচটি সরকারি হাসপাতালেই হামের উপসর্গ নিয়ে মোট প্রায় ৪১১ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং পরীক্ষায় মোট ১৯জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। রামগঞ্জে আক্রান্ত এক শিশুকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নেয়া হলে সে মারা গেছে।

বর্তমানে রোগীদের বিভাগ অনুযায়ী অবস্থান হলো: সদর হাসপাতাল ৫৮জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৬জন, রায়পুর ৭জন ও রামগতি ২জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো হাম শনাক্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

সদর হাসপাতাল আনুগত্যমূলকভাবে ১০০ শয্যার হলেও প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৩৫০জন রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সংকটের সমস্যা লেগেই থাকে। এখন চোখে পড়ার মতোভাবে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে সাজানো বিছানায় প্রদান করা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। যেসব শিশুকে পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি বা বমিভাব দেখা যায় তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা শিশুশস্ত্র বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সাধারণত চার মাস থেকে এগারো মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও বড় শিশুও ঝুঁকির বাইরে নয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেছেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; যারা ভর্তি আছেন তাদের অধিকাংশই আতঙ্ক মুক্ত এবং নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে; টিকাদান কার্যক্রম সচল রয়েছে, তাই শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিভাবকদের সাবধান থাকতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন বলেন, সদর হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সদরসহ চারটি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৩জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো হাম শনাক্ত হয়নি।

জেলা স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের টিকাদান নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গে ৭৩ জন ভর্তি, সদর হাসপাতালে ৫৮ জন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৭৩জন রোগী ভর্তি আছেন; এর মধ্যে সদর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছে ৫৮জন। শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে হাসপাতালে মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানায় রাখা হয়েছে বলে দেখা গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে জেলার সদরসহ পাঁচটি সরকারি হাসপাতালেই হামের উপসর্গ নিয়ে মোট প্রায় ৪১১ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং পরীক্ষায় মোট ১৯জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। রামগঞ্জে আক্রান্ত এক শিশুকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নেয়া হলে সে মারা গেছে।

বর্তমানে রোগীদের বিভাগ অনুযায়ী অবস্থান হলো: সদর হাসপাতাল ৫৮জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৬জন, রায়পুর ৭জন ও রামগতি ২জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো হাম শনাক্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

সদর হাসপাতাল আনুগত্যমূলকভাবে ১০০ শয্যার হলেও প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৩৫০জন রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সংকটের সমস্যা লেগেই থাকে। এখন চোখে পড়ার মতোভাবে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে সাজানো বিছানায় প্রদান করা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। যেসব শিশুকে পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি বা বমিভাব দেখা যায় তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা শিশুশস্ত্র বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সাধারণত চার মাস থেকে এগারো মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও বড় শিশুও ঝুঁকির বাইরে নয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেছেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; যারা ভর্তি আছেন তাদের অধিকাংশই আতঙ্ক মুক্ত এবং নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে; টিকাদান কার্যক্রম সচল রয়েছে, তাই শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিভাবকদের সাবধান থাকতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন বলেন, সদর হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সদরসহ চারটি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৩জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো হাম শনাক্ত হয়নি।

জেলা স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের টিকাদান নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।