১১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা চেয়ে আইনি নোটিশ

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একযোগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অনলাইনে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

নোটিশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় রাতের অন্ধকারে জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতক হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনবরত কান্না, বমি, শ্বাসকষ্টসহ দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটে এবং একই সময়ে কয়েকজন প্রসূত মা-ও অসুস্থ হন। অভিযোগ আছে যে, এমন চরম সংকটে থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবা, পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক চিকিত্সা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং দ্রুততার তেমনই অভাব দেখা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনকভাবে সংকটাপন্ন নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কেন্দ্রে পাঠানো বা রেফার করা হয়নি বা বিলম্ব করা হয়েছে। এর ফলে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যু ঘটে, যা সমাজে গভীর শোক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

আইনি নোটিশে ঘটনার মাধ্যমে দেশের হাসপাতালগুলোতে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা দক্ষতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টিগোচর দুর্বলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সুরক্ষায় কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েই নোটিশে পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে নোটিশে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে—

১) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২) ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

৩) দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নির্দেশিকা বা প্রটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

৪) প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সেবার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। নোটিশটি মূলত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার ধারাবাহিকতা ও দায়প্রমাণের ক্ষেত্রেই যে কোনো প্রকার অবহেলা থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে দায়িত্বশীলদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার নিশ্চয়তা দেয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা চেয়ে আইনি নোটিশ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একযোগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অনলাইনে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

নোটিশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় রাতের অন্ধকারে জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতক হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনবরত কান্না, বমি, শ্বাসকষ্টসহ দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটে এবং একই সময়ে কয়েকজন প্রসূত মা-ও অসুস্থ হন। অভিযোগ আছে যে, এমন চরম সংকটে থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবা, পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক চিকিত্সা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং দ্রুততার তেমনই অভাব দেখা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনকভাবে সংকটাপন্ন নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কেন্দ্রে পাঠানো বা রেফার করা হয়নি বা বিলম্ব করা হয়েছে। এর ফলে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যু ঘটে, যা সমাজে গভীর শোক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

আইনি নোটিশে ঘটনার মাধ্যমে দেশের হাসপাতালগুলোতে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা দক্ষতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টিগোচর দুর্বলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সুরক্ষায় কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েই নোটিশে পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে নোটিশে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে—

১) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২) ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

৩) দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নির্দেশিকা বা প্রটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

৪) প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সেবার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। নোটিশটি মূলত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার ধারাবাহিকতা ও দায়প্রমাণের ক্ষেত্রেই যে কোনো প্রকার অবহেলা থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে দায়িত্বশীলদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার নিশ্চয়তা দেয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।