১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর হাজারো মানুষ, ভাঙলে দুর্ভোগ

নাটোরের সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের সোনাবইডাঙ্গার পানাউল্লা খালের দুই তীরের বাসিন্দারা প্রতিদিনই একটি নাজুক বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করেন। বর্ষাকালে খাল পারাপারের একমাত্র পথ হওয়ায় শিশু ও বয়স্কসহ হাজারো মানুষই এই সাঁকো ব্যবহার করেন।

স্থানীয়রা জানায়, নৌকা দিয়ে যাতায়াত করাও সব সময় সম্ভব নয়। মাঝি-মাল্লারা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি দিতে পারেন না, ফলে নৌকায় নির্ভরশীলতা কম। চরম প্রয়োজনে ২০১০ সালে গ্রামস্বার্থে গ্রামের লোকজনই অর্থ যোগায় বানিয়ে দেয় বাঁশের সাঁকো; এরপর থেকে প্রতিবার বর্ষায় মেরামত করে ব্যবহার চালিয়ে এসেছে বাসিন্দারা।

সোনাবইডাঙ্গার বাসিন্দা নীল রতন বলেন, “হাজারো মানুষের চলাচলের এই সাঁকো ভেঙে পড়লে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বেশ কয়েকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস মাপজোখ করেছে, কিন্তু ব্রিজটি এখনও নির্মাণ হয়নি।”

গোপেন্দ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমআর হোসনে আরা জানান, কয়েকদিন আগে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় গ্রামের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। “স্কুল খুললে শিক্ষার্থীরা নিয়ে আসা-নেওয়ায় বড় কষ্টের মুখে পড়বে। দ্রুত স্থায়ী কোনো সেতু না হলে পড়াশোনাই বিঘ্নিত হবে,” তিনি আরও বলেন এবং উপজেলা প্রশাসনের তৎপর সহায়তা কামনা করেন।

৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, “বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ। সবাই নৌকায় উঠতে পারে না, বিশেষত ছোট শিশুরা ও বৃদ্ধরা। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন ও যোগাযোগ করেছি, মাপজোখও হয়েছে, তবু কাজ শুরু হয়নি।”

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুমার বলেন, বিষয়টি তারও জানা আছে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ মাপজোখ ও সয়েল টেস্ট করেছে এবং নথিভুক্ত পরিকল্পনা আছে। “ব্রিজ নির্মাণ হলে এখানকার লোকালয়ে দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে,” তিনি যোগ করেন।

স্থানীয়রা এখন দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন, যাতে বর্ষাকালে স্কুলজীবি শিশুসহ সবার নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর হাজারো মানুষ, ভাঙলে দুর্ভোগ

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

নাটোরের সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের সোনাবইডাঙ্গার পানাউল্লা খালের দুই তীরের বাসিন্দারা প্রতিদিনই একটি নাজুক বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করেন। বর্ষাকালে খাল পারাপারের একমাত্র পথ হওয়ায় শিশু ও বয়স্কসহ হাজারো মানুষই এই সাঁকো ব্যবহার করেন।

স্থানীয়রা জানায়, নৌকা দিয়ে যাতায়াত করাও সব সময় সম্ভব নয়। মাঝি-মাল্লারা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি দিতে পারেন না, ফলে নৌকায় নির্ভরশীলতা কম। চরম প্রয়োজনে ২০১০ সালে গ্রামস্বার্থে গ্রামের লোকজনই অর্থ যোগায় বানিয়ে দেয় বাঁশের সাঁকো; এরপর থেকে প্রতিবার বর্ষায় মেরামত করে ব্যবহার চালিয়ে এসেছে বাসিন্দারা।

সোনাবইডাঙ্গার বাসিন্দা নীল রতন বলেন, “হাজারো মানুষের চলাচলের এই সাঁকো ভেঙে পড়লে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বেশ কয়েকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস মাপজোখ করেছে, কিন্তু ব্রিজটি এখনও নির্মাণ হয়নি।”

গোপেন্দ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমআর হোসনে আরা জানান, কয়েকদিন আগে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় গ্রামের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। “স্কুল খুললে শিক্ষার্থীরা নিয়ে আসা-নেওয়ায় বড় কষ্টের মুখে পড়বে। দ্রুত স্থায়ী কোনো সেতু না হলে পড়াশোনাই বিঘ্নিত হবে,” তিনি আরও বলেন এবং উপজেলা প্রশাসনের তৎপর সহায়তা কামনা করেন।

৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, “বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ। সবাই নৌকায় উঠতে পারে না, বিশেষত ছোট শিশুরা ও বৃদ্ধরা। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন ও যোগাযোগ করেছি, মাপজোখও হয়েছে, তবু কাজ শুরু হয়নি।”

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুমার বলেন, বিষয়টি তারও জানা আছে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ মাপজোখ ও সয়েল টেস্ট করেছে এবং নথিভুক্ত পরিকল্পনা আছে। “ব্রিজ নির্মাণ হলে এখানকার লোকালয়ে দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে,” তিনি যোগ করেন।

স্থানীয়রা এখন দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন, যাতে বর্ষাকালে স্কুলজীবি শিশুসহ সবার নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।