০৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পতেঙ্গা টার্মিনাল: নতুন এসটিএস ক্রেন পেয়ে পূর্ণ সক্ষমতার পথে

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) বড় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মুখে দাঁড়িয়েছে। টার্মিনালটি পরিচালনায় থাকা সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) জানিয়েছে, প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের চারটি আধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন এলে টার্মিনাল আগামী জুলাই থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালাতে পারবে। ওই ক্রেনগুলো এই শিপিং হাবের জন্য এক বড় মাইলফলক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরএসজিটি ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)-র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব ক্রেন নিয়ে জাহাজ ‘এমভি ল্যান হাই হং ইউন’ বর্তমানে টার্মিনালে ভেড়ার অপেক্ষায় আছে। নিরাপদ খালাস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা টার্মিনালের আশপাশে চলাচলকারী সব ধরনের জাহাজ—কোস্টার, ট্যাঙ্কার, মাছ ধরার ট্রলারসহ—কে জেটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে এবং কর্ণফুলী চ্যানেলের পূর্ব দিক দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে।

চীনের ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’ তৈরি করা এসব ক্রেন টার্মিনালের জাহাজ হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরএসজিটি এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলারে ১৪টি রাবার-টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল, যা ইতিমধ্যেই কার্যক্রমে যোগ দিয়ে টার্মিনালের ভিত গঠন করেছে।

আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘এই ক্রেনগুলো টার্মিনালের জন্য বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক। এগুলো আমাদের ক্রমবর্ধমান কনটেইনার ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা আরও মজবুত করবে।’

অভিন্ন সক্ষমতা ও নকশা: নতুন এসটিএস ক্রেনগুলো ১৬ সারি কনটেইনার বহনকারী বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে; বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বেশিরভাগ জাহাজ ১২–১৩ সারির। প্রতিটি ক্রেন একক অপারেশনে ৪০ টন, টুইন-লিফট মোডে ৪৫ টন এবং বিশেষায়িত কার্গোতে ৬০ টন পর্যন্ত ওজন তোলার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া এসব ক্রেন চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে নির্মিত।

পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতা: নতুন ক্রেনগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমে আসবে এবং জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আরএসজিটি জানিয়েছে। রেল ট্র্যাকে চলমান এই চারটি ক্রেন একসঙ্গে দুটি জাহাজে কাজ করতে পারবে, ফলে জাহাজ জেটিতে ভেড়ার পর খালাস কার্যক্রম দ্রুত শুরু হয়ে ৩–৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ক্ষমতা এবং গতিবিধি: পতেঙ্গা টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪৫০,০০০ টিইইউ (TEU)। তবে ২০২৫ সালে এখানে কেবল ১৫৪,৫৬৪ টিইইউ এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডেল করা হয়েছে—যা মূল সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। ২০২৫ সালে রপ্তানি ছিল ৯৩,৩৪০ টিইইউ এবং আমদানি ৬১,২২৪ টিইইউ। বছরের শুরুতে আমদানি কনটেইনার স্ক্যানিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় কার্যক্রম কিছুটা স্থবির ছিল; পরে আরএসজিটি নিজস্ব অর্থায়নে মে মাসে ৩ মিলিয়ন ডলারে স্ক্যানার স্থাপন করলে গতি ফিরে আসে। এর পর গত বছর আগস্টে টার্মিনালটি রেকর্ড ২৪,৫৯৯ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সৈয়দ আরিফ সারোয়ার জানান, ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছরে তারা অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিনিয়োগ করেছে যাতে আগামী ২০ বছরের জন্য টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এসটিএস ক্রেনগুলি যুক্ত হলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টার্মিনালটি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২২ বছরের ইজারা চুক্তির মাধ্যমে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটি-র কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তারা ২০২৪ সালের জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পতেঙ্গা টার্মিনাল: নতুন এসটিএস ক্রেন পেয়ে পূর্ণ সক্ষমতার পথে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) বড় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মুখে দাঁড়িয়েছে। টার্মিনালটি পরিচালনায় থাকা সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) জানিয়েছে, প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের চারটি আধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন এলে টার্মিনাল আগামী জুলাই থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালাতে পারবে। ওই ক্রেনগুলো এই শিপিং হাবের জন্য এক বড় মাইলফলক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরএসজিটি ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)-র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব ক্রেন নিয়ে জাহাজ ‘এমভি ল্যান হাই হং ইউন’ বর্তমানে টার্মিনালে ভেড়ার অপেক্ষায় আছে। নিরাপদ খালাস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা টার্মিনালের আশপাশে চলাচলকারী সব ধরনের জাহাজ—কোস্টার, ট্যাঙ্কার, মাছ ধরার ট্রলারসহ—কে জেটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে এবং কর্ণফুলী চ্যানেলের পূর্ব দিক দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে।

চীনের ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’ তৈরি করা এসব ক্রেন টার্মিনালের জাহাজ হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরএসজিটি এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলারে ১৪টি রাবার-টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল, যা ইতিমধ্যেই কার্যক্রমে যোগ দিয়ে টার্মিনালের ভিত গঠন করেছে।

আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘এই ক্রেনগুলো টার্মিনালের জন্য বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক। এগুলো আমাদের ক্রমবর্ধমান কনটেইনার ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা আরও মজবুত করবে।’

অভিন্ন সক্ষমতা ও নকশা: নতুন এসটিএস ক্রেনগুলো ১৬ সারি কনটেইনার বহনকারী বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে; বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বেশিরভাগ জাহাজ ১২–১৩ সারির। প্রতিটি ক্রেন একক অপারেশনে ৪০ টন, টুইন-লিফট মোডে ৪৫ টন এবং বিশেষায়িত কার্গোতে ৬০ টন পর্যন্ত ওজন তোলার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া এসব ক্রেন চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে নির্মিত।

পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতা: নতুন ক্রেনগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমে আসবে এবং জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আরএসজিটি জানিয়েছে। রেল ট্র্যাকে চলমান এই চারটি ক্রেন একসঙ্গে দুটি জাহাজে কাজ করতে পারবে, ফলে জাহাজ জেটিতে ভেড়ার পর খালাস কার্যক্রম দ্রুত শুরু হয়ে ৩–৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ক্ষমতা এবং গতিবিধি: পতেঙ্গা টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪৫০,০০০ টিইইউ (TEU)। তবে ২০২৫ সালে এখানে কেবল ১৫৪,৫৬৪ টিইইউ এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডেল করা হয়েছে—যা মূল সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। ২০২৫ সালে রপ্তানি ছিল ৯৩,৩৪০ টিইইউ এবং আমদানি ৬১,২২৪ টিইইউ। বছরের শুরুতে আমদানি কনটেইনার স্ক্যানিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় কার্যক্রম কিছুটা স্থবির ছিল; পরে আরএসজিটি নিজস্ব অর্থায়নে মে মাসে ৩ মিলিয়ন ডলারে স্ক্যানার স্থাপন করলে গতি ফিরে আসে। এর পর গত বছর আগস্টে টার্মিনালটি রেকর্ড ২৪,৫৯৯ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সৈয়দ আরিফ সারোয়ার জানান, ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছরে তারা অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিনিয়োগ করেছে যাতে আগামী ২০ বছরের জন্য টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এসটিএস ক্রেনগুলি যুক্ত হলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টার্মিনালটি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২২ বছরের ইজারা চুক্তির মাধ্যমে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটি-র কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তারা ২০২৪ সালের জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।