প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা ও আন্তর্জাতিক কাজে তাদের সরাসরি রপ্তানি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ঢাকায় ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তিনি নিশ্চিত করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ যেসব ইউরোপীয় দেশে বাংলাদেশের অত্যন্ত দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে, তেমন দেশগুলোর বাংলাদেশের কোনো স্থায়ী ভিসা সেন্টার এখনও নেই। তাই ওই দেশগুলোর ভিসা সেন্টার দ্রুত ঢাকায় স্থাপন করার জন্য সরকার জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এ উদ্যোগ সফল হলে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা তৃতীয় দেশের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমান কূটনৈতিক ও কর্মবাজার কৌশলের এক অংশ হিসাবে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প ও নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এই লক্ষ্যে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া ইতিমধ্যে তাদের সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রথাগত কর্মবাজারগুলো পুনরায় সচল করার জন্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষত ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলতে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বল্পমেয়াদি মৌসুমি কর্মী প্রেরণের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।
জাপানের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বিশেষ একটি ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের অধীনে জাপানে কর্মী পাঠায় নিয়োজিত ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টিরও বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)কে একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে—যাতে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার মান বাড়ানো যায় এবং প্রেরণের প্রক্রিয়া গতিশীল করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি বছরের ৫ ও ২৪ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে; যেখানে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় সচল করা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদি নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা দ্রুত পাঠানোর কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমন্তে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশি কর্মীর জন্য বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং মধ্যস্থতাকারী হটলাইনের ঝামেলা কমিয়ে প্রক্রিয়াগুলোকে সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ করবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























