০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ত্রিশালে ইউএনওর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ দিলেন অসহায় হেনা রানী

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দপ্তরিক শৈলীর বাইরে মানবিকতায় এক উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ কতটা গভীর হতে পারে, সেটাই প্রতিফলিত হলো এই ঘটনায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ জুলাই) বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হেনা রানী আচার্য্য ইউএনওর কার্যালয়ে এসেছিলেন। কথা বলতে বলতে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হেনার জীবনটা সহজ ছিল না—অনেক আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন, দুই কন্যাসন্তানকে বিবাহ দিলেও তারা এখন দারিদ্র্যের কষ্টে জর্জরিত। ভাঙা ঘরে একান্ত একাকী দিন কাটছিল তার।

১৯৭৫ সালে এসএসসি পাশ করা হেনা রানী গর্ব ও আত্মসম্মানের জন্য কখনও অন্যের কাছে হাত পাতেননি; সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রুত হার্টে স্টেন্ট বসাতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য না থাকায় নানা দ্বারের আশায় ঘুরে, শেষ আশ্বাস নিয়ে তিনি এসেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।

আরাফাত সিদ্দিকী হেনা রানীর আর্ত আবেদন উপেক্ষা করতে পারেননি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং অফিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা শুরু করেছেন।

সহায়তা পেয়ে আবেগঘন হেনা রানী তার আসন থেকে উঠে ইউএনওর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ জানান। মুহূর্তের মধ্যে কক্ষটি স্তব্ধ হয়ে যায়; উপস্থিত সবাই আবেগে নিমজ্জিত হন এবং ইউএনওর চোখেও জল ওঠে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘‘পেশাগত দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি আমাদের এক সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। হেনা রানীর এই আশীর্বাদ আমার জীবনের এক অমূল্য প্রাপ্তি।’’ তিনি আরও অনুরোধ করেন যে সমাজে যারা সক্ষম ও মানবিক, তারা প্রত্যেকে তাদের অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

এই ঘটনার মাধ্যমে ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের মানবিক দিক এবং এক সাধারণ মানুষের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—উভয়কেই ফুটে উঠেছে। আশা করা যায়, হেনা রাণীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য আরও সহযোগিতা মিলবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ত্রিশালে ইউএনওর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ দিলেন অসহায় হেনা রানী

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দপ্তরিক শৈলীর বাইরে মানবিকতায় এক উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ কতটা গভীর হতে পারে, সেটাই প্রতিফলিত হলো এই ঘটনায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ জুলাই) বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হেনা রানী আচার্য্য ইউএনওর কার্যালয়ে এসেছিলেন। কথা বলতে বলতে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হেনার জীবনটা সহজ ছিল না—অনেক আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন, দুই কন্যাসন্তানকে বিবাহ দিলেও তারা এখন দারিদ্র্যের কষ্টে জর্জরিত। ভাঙা ঘরে একান্ত একাকী দিন কাটছিল তার।

১৯৭৫ সালে এসএসসি পাশ করা হেনা রানী গর্ব ও আত্মসম্মানের জন্য কখনও অন্যের কাছে হাত পাতেননি; সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রুত হার্টে স্টেন্ট বসাতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য না থাকায় নানা দ্বারের আশায় ঘুরে, শেষ আশ্বাস নিয়ে তিনি এসেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।

আরাফাত সিদ্দিকী হেনা রানীর আর্ত আবেদন উপেক্ষা করতে পারেননি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং অফিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা শুরু করেছেন।

সহায়তা পেয়ে আবেগঘন হেনা রানী তার আসন থেকে উঠে ইউএনওর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ জানান। মুহূর্তের মধ্যে কক্ষটি স্তব্ধ হয়ে যায়; উপস্থিত সবাই আবেগে নিমজ্জিত হন এবং ইউএনওর চোখেও জল ওঠে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘‘পেশাগত দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি আমাদের এক সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। হেনা রানীর এই আশীর্বাদ আমার জীবনের এক অমূল্য প্রাপ্তি।’’ তিনি আরও অনুরোধ করেন যে সমাজে যারা সক্ষম ও মানবিক, তারা প্রত্যেকে তাদের অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

এই ঘটনার মাধ্যমে ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের মানবিক দিক এবং এক সাধারণ মানুষের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—উভয়কেই ফুটে উঠেছে। আশা করা যায়, হেনা রাণীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য আরও সহযোগিতা মিলবে।