১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ছয় মাসে সারাদেশে ৪০৪ ধর্ষণ; নির্যাতন বেড়েছে ৫৬%

দেশে গত ছয় মাসে মোট ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে—এদের মধ্যে ২৩৮ জন শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

এই তথ্য জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেন বলেছে, আগামীপর্যন্ত ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২। অর্থাৎ এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ছয় মাসে ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়েছে।

যৌতুকের নামে নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত, ৮ জন আহত এবং ৩ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৩২০ নারী নিহত হয়েছেন, ২১১ জন আহত এবং ১৪৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।

এইচআরএসএস জানিয়েছে, একই সময়ে ১,০৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; তাদের মধ্যে ৩০৫ জন নিহত হয়েছে। ৭৭২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচরণে পড়েছেন। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৭৩ জন, যার মধ্যে নিহত হয়েছিল ১৩২ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই তথ্যগুলো দেশের ১৬টি মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন—এসব সমস্যা সমাধান করা না হলে মানুষের মৌলিক অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ ও মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

রিপোর্টটির তথ্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ দেখায় এবং তৎপরতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ছয় মাসে সারাদেশে ৪০৪ ধর্ষণ; নির্যাতন বেড়েছে ৫৬%

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

দেশে গত ছয় মাসে মোট ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে—এদের মধ্যে ২৩৮ জন শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

এই তথ্য জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেন বলেছে, আগামীপর্যন্ত ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২। অর্থাৎ এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ছয় মাসে ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়েছে।

যৌতুকের নামে নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত, ৮ জন আহত এবং ৩ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৩২০ নারী নিহত হয়েছেন, ২১১ জন আহত এবং ১৪৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।

এইচআরএসএস জানিয়েছে, একই সময়ে ১,০৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; তাদের মধ্যে ৩০৫ জন নিহত হয়েছে। ৭৭২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিচরণে পড়েছেন। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৭৩ জন, যার মধ্যে নিহত হয়েছিল ১৩২ জন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই তথ্যগুলো দেশের ১৬টি মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন—এসব সমস্যা সমাধান করা না হলে মানুষের মৌলিক অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ ও মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

রিপোর্টটির তথ্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ দেখায় এবং তৎপরতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে।