১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

মোংলা বন্দরের অর্থবছর ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ জন্য বিশাল আকারে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করে। এছাড়াও, বন্দর কর্তৃপক্ষ লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে এক কোটি ২০ লক্ষ টনেরও বেশি পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের জন্য। এ সময়ে প্রায় ৯০০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ মোংলা বন্দরে নোরং করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিশাল ধাপ।

সংবাদ সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে মোংলা বন্দরে ১ কোটি ৪ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়ে ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়, যা এক নতুন রেকর্ড। এই সময়ে বন্দরের লাভের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা পূর্বের নির্ধারিত লক্ষ্য ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

মোংলা এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে ব্যাপক রূপান্তর ও আধুনিকীকরণের পথে। এই সময়ে শক্তিশালী আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিয়ে চলছে ব্যাপক কর্ম/design।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪৮ দিনে (১৭ আগস্ট পর্যন্ত), মোংলা বন্দরে ১০৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে এবং তারা প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডেল করেছে। এর মধ্যে আটটি জাহাজ ৫ হাজার ৩৩২ টিইইউ কনটেইনার বহন করছে। শুধু জুলাইতেই বন্দরে ৪ হাজার ৪৫৯ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল, ৫১৮টি পুরাতন গাড়ি আমদানি ও ৬.৫ লাখ টন পণ্য প্রক্রিয়াজাত হয়েছে।

বন্দরটির উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় চ্যানেল খনন, কনটেইনার টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও শুল্ক-সুবিধা ডিজিটালাইজেশন হল এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এসব উদ্যোগের ফলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হচ্ছে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও ভুটানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে এর ভূমিকা বাড়ছে।

এমপিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, অবকাঠামো পুরোপুরি চালু হলে বছরে দেড় হাজার বিদেশি জাহাজ নোঙর, এক লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল ও দুই কোটি টন সাধারণ পণ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে এবং খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক অবকাঠামো ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোংলা পুরোপুরি একটি আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে বিকশিত হবে। এর কৌশলগত অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার কারণে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, যা দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর জট কমাতে ও আঞ্চলিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।

মোংলা বন্দরে কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন ও আরো সম্প্রসারণের জন্য নিয়মিত শুল্ক ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক পরিচালনা করছে বন্দরের কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, জাহাজ নোঙর বৃদ্ধি ও বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসা উন্নয়ন স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে সফল ফলাফল দেখাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মোংলা বন্দরের অর্থবছর ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ জন্য বিশাল আকারে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করে। এছাড়াও, বন্দর কর্তৃপক্ষ লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে এক কোটি ২০ লক্ষ টনেরও বেশি পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের জন্য। এ সময়ে প্রায় ৯০০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ মোংলা বন্দরে নোরং করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিশাল ধাপ।

সংবাদ সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে মোংলা বন্দরে ১ কোটি ৪ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়ে ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়, যা এক নতুন রেকর্ড। এই সময়ে বন্দরের লাভের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা পূর্বের নির্ধারিত লক্ষ্য ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

মোংলা এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে ব্যাপক রূপান্তর ও আধুনিকীকরণের পথে। এই সময়ে শক্তিশালী আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিয়ে চলছে ব্যাপক কর্ম/design।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪৮ দিনে (১৭ আগস্ট পর্যন্ত), মোংলা বন্দরে ১০৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে এবং তারা প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডেল করেছে। এর মধ্যে আটটি জাহাজ ৫ হাজার ৩৩২ টিইইউ কনটেইনার বহন করছে। শুধু জুলাইতেই বন্দরে ৪ হাজার ৪৫৯ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল, ৫১৮টি পুরাতন গাড়ি আমদানি ও ৬.৫ লাখ টন পণ্য প্রক্রিয়াজাত হয়েছে।

বন্দরটির উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় চ্যানেল খনন, কনটেইনার টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও শুল্ক-সুবিধা ডিজিটালাইজেশন হল এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এসব উদ্যোগের ফলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হচ্ছে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও ভুটানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে এর ভূমিকা বাড়ছে।

এমপিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, অবকাঠামো পুরোপুরি চালু হলে বছরে দেড় হাজার বিদেশি জাহাজ নোঙর, এক লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল ও দুই কোটি টন সাধারণ পণ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে এবং খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক অবকাঠামো ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোংলা পুরোপুরি একটি আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে বিকশিত হবে। এর কৌশলগত অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার কারণে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, যা দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর জট কমাতে ও আঞ্চলিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।

মোংলা বন্দরে কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন ও আরো সম্প্রসারণের জন্য নিয়মিত শুল্ক ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক পরিচালনা করছে বন্দরের কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, জাহাজ নোঙর বৃদ্ধি ও বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসা উন্নয়ন স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে সফল ফলাফল দেখাচ্ছে।