১১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে ফিরতে শুরু করেছে

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমছিল। তবে সেপ্টেম্বর মাসে সেই প্রবণতায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের সংখ্যা ৪০টি বাড়ে। পাশাপাশি, স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বাজারে আরও সক্রিয় হয়েছেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সিডিবিএলের তথ্য বলছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিদেশি ও প্রবাসীদের নামে সক্রিয় বিও হিসাব ছিল ৪৩ হাজার ৭৬১টি। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮০১টিতে। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনও কম, যেখানে অক্টোবরে ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। অর্থাৎ, এক বছরে এই হিসাব কমেছে ১১ হাজার ৭১১টি।

অন্যদিকে, দেশি বিনিয়োগকারীরাও মাসের ব্যবধানে শেয়ার বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আগস্টে দেশের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৪টি, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫টিতে দাঁড়ায়। এক মাসে এ সংখ্যা বাড়ে ৬ হাজার ৫৯১টি। তবে চলতি বছরের শুরুতে বিও হিসাবের মোট সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ২২৭টিতে। এর অর্থ, নয় মাসে এই হিসাবের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩২৪টি।

বিনিয়োগকারীর ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে পুরুষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৫৭৮টি, আর নারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৪৯টি। এছাড়াও, কোম্পানির হিসাব বেড়েছে ১৯৯টি, একক নামে বেড়েছে ৬ হাজার ২৩০টি এবং যৌথ নামে বেড়েছে ১ হাজার ৪০৮টি।

তবে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লেও, বাজারের সূচক ও মূলধন অনুযায়ী তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। আগস্টের শেষের দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫৯৪ পয়েন্ট, যা সেপ্টেম্বরে কমে ৫ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এক মাসের মধ্যে সূচক ১৭৯ পয়েন্ট কমেছে।

এছাড়াও, বাজারের মূলধন হ্রাস পেয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ, মূলধন কমেছে প্রায় ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

লেনদেনের দিক থেকেও বাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে। একসময় যেখানে দৈনিক হাজার কোটি টাকার উপরে লেনদেন হত, এখন তা হ্রাস পেয়ে ৬০০ কোটির কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শেষ ১৫ কার্যদিবসে কোন দিনই লেনদেন হাজার কোটি টাকার বেশি হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ে যদিও তা বাজারের জন্য ইতিবাচক সূচক। তবে মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি, যার ফলে সূচক ও মূলধনের পতন বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে ফিরতে শুরু করেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমছিল। তবে সেপ্টেম্বর মাসে সেই প্রবণতায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের সংখ্যা ৪০টি বাড়ে। পাশাপাশি, স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বাজারে আরও সক্রিয় হয়েছেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সিডিবিএলের তথ্য বলছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিদেশি ও প্রবাসীদের নামে সক্রিয় বিও হিসাব ছিল ৪৩ হাজার ৭৬১টি। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮০১টিতে। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনও কম, যেখানে অক্টোবরে ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। অর্থাৎ, এক বছরে এই হিসাব কমেছে ১১ হাজার ৭১১টি।

অন্যদিকে, দেশি বিনিয়োগকারীরাও মাসের ব্যবধানে শেয়ার বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আগস্টে দেশের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৪টি, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫টিতে দাঁড়ায়। এক মাসে এ সংখ্যা বাড়ে ৬ হাজার ৫৯১টি। তবে চলতি বছরের শুরুতে বিও হিসাবের মোট সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ২২৭টিতে। এর অর্থ, নয় মাসে এই হিসাবের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩২৪টি।

বিনিয়োগকারীর ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে পুরুষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৫৭৮টি, আর নারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৪৯টি। এছাড়াও, কোম্পানির হিসাব বেড়েছে ১৯৯টি, একক নামে বেড়েছে ৬ হাজার ২৩০টি এবং যৌথ নামে বেড়েছে ১ হাজার ৪০৮টি।

তবে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লেও, বাজারের সূচক ও মূলধন অনুযায়ী তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। আগস্টের শেষের দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫৯৪ পয়েন্ট, যা সেপ্টেম্বরে কমে ৫ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এক মাসের মধ্যে সূচক ১৭৯ পয়েন্ট কমেছে।

এছাড়াও, বাজারের মূলধন হ্রাস পেয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ, মূলধন কমেছে প্রায় ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

লেনদেনের দিক থেকেও বাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে। একসময় যেখানে দৈনিক হাজার কোটি টাকার উপরে লেনদেন হত, এখন তা হ্রাস পেয়ে ৬০০ কোটির কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শেষ ১৫ কার্যদিবসে কোন দিনই লেনদেন হাজার কোটি টাকার বেশি হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ে যদিও তা বাজারের জন্য ইতিবাচক সূচক। তবে মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি, যার ফলে সূচক ও মূলধনের পতন বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।