০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।