০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।