১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।