১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

হালুয়াঘাটে বালু নিলাম প্রত্যাহারের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বালিজোড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার তাদের বাড়িঘর রক্ষায় ব্যক্তিগত জমিতে থেকে নেওয়া বালের নিলাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে বালিজোড়ি গ্রামের একটি স্থানীয় সমাবেশে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বালিজোড়ি গ্রামের সৈয়দ সুলতান বলেন, আমাদের জমিতে তখনই অনুমতি দিয়েছিলাম যখন ডকুমেন্ট করে সেখানে বালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। তখন পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আমাদের জমিতে বালু রাখার অনুমতি লাভ করেছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমাদের বাড়িঘর নদী ভাঙন ও পানি ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ সুযোগের সুবিধা নিয়েছি। বন্যা ও বৃষ্টির সময় পানি তখন আমাদের বাড়িতে ঢোকে না। তবে কিছুদিন আগে প্রশাসন আমাদের জমিতে রাখা সেই বালু নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে যা আমরা জানাতে পারিনি এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি তিনটি নদীর মোহনায়। কংস ও খড়িয়া নদী এবং বটকালী খাল এই তিনটি জলপ্রবাহের সংযোগে আমাদের বাড়িঘরে প্রায়ই বন্যা হয়। তিন বছর আগে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে বালু রাখার অনুমতি দিয়েছিলাম, যাতে নদীর ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করা যায়। বর্তমানে এই বালু দিয়ে আমরা নদীর ভাঙন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ শোনলাম যে এই বালু নিলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম, কিন্তু জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা না করে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় হজি এমদাদ হোসেন বলেন, কখনো প্রশাসন থেকে কেউ এসে আমাদের সমস্যা শুনে বা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এখন যদি এই বালু নিয়ে যায়, তাহলে আবারো নদীর পানিতে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হবে, বাড়িঘর ধ্বসে যাবে। আমরা আশা করি উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে এই নিলাম বাতিল করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই এই নিলাম সম্পন্ন করেছি। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।