১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন বিজ্ঞানী

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই বছর নোবেল পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাগাগুচি। এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণাকে স্বীকৃতি হিসেবে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট গতকাল সোমবার এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে। স্টকহোম থেকে বার্তা সংস্থা এফপি এ খবর দিয়েছে।

তাদের আবিষ্কার ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ বিষয়ক, যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের কার্যপ্রণালী বোঝার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে কিভাবে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয় বা রক্ষা পায়। এই কার্যকলাপের কারণে অনেক রোগে আক্রান্ত না হয়ে আমরা সুস্থ থাকি।

নোবেল জুরির মতে, এই তিন বিজ্ঞানীর কাজ ইমিউন সিস্টেমের জটিলতা বুঝতে এবং কেন কেউ গুরুতর অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হয় না, তার ব্যাখ্যায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের গবেষণায় তৈরি নতুন ভিত্তিতে এখন ক্যান্সার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে, পাশাপাশি অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও এটি সহায়ক হতে পারে।

৭৪ বছর বয়সী শিমন সাগাগুচি ১৯৯৫ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। তখন অনেক গবেষক মনে করতেন, ক্ষতিকর ইমিউন কোষ ধ্বংস হয় থাইমাসে ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে সাগাগুচি দেখান যে, ইমিউন সিস্টেম আরো জটিল, এবং তিনি এমন এক নতুন শ্রেণির ইমিউন কোষ শনাক্ত করেন যা দেহকে অটোইমিউন রোগ থেকে রক্ষা করে।

অন্যদিকে, ৬৪ বছর বয়সী মেরি ব্রাঙ্কো এবং ফ্রেড রামসডেল ২০০১ সালে আরো এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন, যেখানে তারা ব্যাখ্যা করেন কেন কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ইঁদুর অটোইমিউন রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তারা দেখান যে, এই ইঁদুরের জিনে একটি মিউটেশন রয়েছে, যার নাম দিয়েছেন ‘ফক্সপ৩’। যদি মানুষের শরীরে এই জিনের সমতুল্য কোনও মিউটেশন ধরা পড়ে, তবে এটি মারাত্মক অটোইমিউন রোগ ‘আইপিইএক্স’ এর কারণ হতে পারে।

দুই বছর পরে, শিমন সাগাগুচি নিজের গবেষণার সঙ্গে এই আবিষ্কারের যোগসূত্র করেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তারা রাজার কাছ থেকে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে থাকছে একটি স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ১২ লাখ মার্কিন ডলারের পুরস্কার।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তিন ব্যক্তির খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন সপ্তাহে আরও অন্যান্য বিষয়ে যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে এ বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন বিজ্ঞানী

প্রকাশিতঃ ১০:৫৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই বছর নোবেল পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাগাগুচি। এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণাকে স্বীকৃতি হিসেবে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট গতকাল সোমবার এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে। স্টকহোম থেকে বার্তা সংস্থা এফপি এ খবর দিয়েছে।

তাদের আবিষ্কার ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ বিষয়ক, যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের কার্যপ্রণালী বোঝার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে কিভাবে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয় বা রক্ষা পায়। এই কার্যকলাপের কারণে অনেক রোগে আক্রান্ত না হয়ে আমরা সুস্থ থাকি।

নোবেল জুরির মতে, এই তিন বিজ্ঞানীর কাজ ইমিউন সিস্টেমের জটিলতা বুঝতে এবং কেন কেউ গুরুতর অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হয় না, তার ব্যাখ্যায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের গবেষণায় তৈরি নতুন ভিত্তিতে এখন ক্যান্সার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে, পাশাপাশি অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও এটি সহায়ক হতে পারে।

৭৪ বছর বয়সী শিমন সাগাগুচি ১৯৯৫ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। তখন অনেক গবেষক মনে করতেন, ক্ষতিকর ইমিউন কোষ ধ্বংস হয় থাইমাসে ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে সাগাগুচি দেখান যে, ইমিউন সিস্টেম আরো জটিল, এবং তিনি এমন এক নতুন শ্রেণির ইমিউন কোষ শনাক্ত করেন যা দেহকে অটোইমিউন রোগ থেকে রক্ষা করে।

অন্যদিকে, ৬৪ বছর বয়সী মেরি ব্রাঙ্কো এবং ফ্রেড রামসডেল ২০০১ সালে আরো এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন, যেখানে তারা ব্যাখ্যা করেন কেন কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ইঁদুর অটোইমিউন রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তারা দেখান যে, এই ইঁদুরের জিনে একটি মিউটেশন রয়েছে, যার নাম দিয়েছেন ‘ফক্সপ৩’। যদি মানুষের শরীরে এই জিনের সমতুল্য কোনও মিউটেশন ধরা পড়ে, তবে এটি মারাত্মক অটোইমিউন রোগ ‘আইপিইএক্স’ এর কারণ হতে পারে।

দুই বছর পরে, শিমন সাগাগুচি নিজের গবেষণার সঙ্গে এই আবিষ্কারের যোগসূত্র করেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তারা রাজার কাছ থেকে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে থাকছে একটি স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ১২ লাখ মার্কিন ডলারের পুরস্কার।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তিন ব্যক্তির খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন সপ্তাহে আরও অন্যান্য বিষয়ে যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে এ বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।