০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

হামাস গাজার পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী ও প্রতিরোধ সংগঠন হামাস গাজায় শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে এবং এই সম্প্রদায়ের মূল শক্তি হিসেবে পুনরায় নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে। তারা এখন পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বলে দাবি করছি Sicherheits সংস্থাগুলো। এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, হামাস তাদের প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও পুলিশ বাহিনী পুনরায় মোতায়েনের মাধ্যমে গাজার প্রায় সব অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মার্কিন পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ডেকে আনছে। ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল-১৩ এর সূত্র অনুযায়ী, তারা মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছে যে হামাস গাজার প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে। এরই জেরে গাজার ২৫টি পৌরসভার মধ্যে ১৩টি ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং হামাসের বাহিনী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এছাড়া ‘আরব ৪৮’ ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন যে হামাস গাজায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ফিরে পেয়েছে এবং তাদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে। গত সপ্তাহে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবার পর থেকে গাজায় হামাসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। অস্ত্রবিরতি স্থিতিশীল হওয়ার পর থেকে হামাস সদস্যরা রাস্তা ও নিরাপত্তা দায়িত্বে ফিরে এসেছে, পুলিশি কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং অপরাধ দমন করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, হামাসের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধ ও লুটপাটে কিছুটা কমতি এসেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির বিষয়। গাজার ব্যবসায়ী হাজিম সারুর বলেছেন, “নিরাপত্তার জন্য আমরা ভুগেছি—চুরি, মারামারি আর আইনশৃঙ্খলার অবনতি। হামাস ছাড়া এই পরিস্থিতি সমাধান সম্ভব নয়, তাই মানুষ তাদের সমর্থন করে।” অন্যদিকে, মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা ২৫ নভেম্বর কায়রোতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় হলো গাজার অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়। এই বৈঠকে মিসর ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান এবং কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনা চলাকালে এই দেশগুলো যৌথভাবে গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। অপরদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বেপরোয়াভাবে আরও দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শেষ শুক্রবার উত্তর জেনিন শহরে এক ভবন অবরুদ্ধ করে, সেখানে থাকা নিরস্ত্র দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ২৬ বছর বয়সী মনতাসির আবদুল্লাহ ও ৩৭ বছর বয়সী ইউসুফ আসাসা। ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, তারা নিরস্ত্র অবস্থায় আত্মসমর্পণ করতে চাইছিল, কিন্তু দখলদার বাহিনী কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য তাদের কাছে গিয়ে গুলি করে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এই ঘটনায় দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অত্র এলাকায় অভিযোগ করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ড ঠাণ্ডা মাথার হত্যা। এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দাপ্তরিক নথিতে মূলত পশ্চিমতীরে ইতিহাসের অন্যতম বড় ভূমি দখলের পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোমান যুগের ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। এটি ইসরায়েলি সরকারের আমলে পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থান দখলের ধাপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল বলছে, এই দখলের মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিম তীরের বড় অংশের জমি দখল করে সেখানে ঐতিহাসিক স্থাপনা নিজেদের মালিকানায় নিতে। এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনি নেতারা উল্লেখ করেছেন, এই পরিকল্পনাগুলোর বিরোধিতা করতে তাঁদের ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল সহ ষড়যন্ত্র ও সহিংসতা কমানোর জন্য চাপ বাড়ানোর পর এইসব পরিকল্পনা চলমান থাকলেও, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলিদের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

হামাস গাজার পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী ও প্রতিরোধ সংগঠন হামাস গাজায় শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে এবং এই সম্প্রদায়ের মূল শক্তি হিসেবে পুনরায় নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে। তারা এখন পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বলে দাবি করছি Sicherheits সংস্থাগুলো। এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, হামাস তাদের প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও পুলিশ বাহিনী পুনরায় মোতায়েনের মাধ্যমে গাজার প্রায় সব অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মার্কিন পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ডেকে আনছে। ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল-১৩ এর সূত্র অনুযায়ী, তারা মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছে যে হামাস গাজার প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে। এরই জেরে গাজার ২৫টি পৌরসভার মধ্যে ১৩টি ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং হামাসের বাহিনী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এছাড়া ‘আরব ৪৮’ ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন যে হামাস গাজায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ফিরে পেয়েছে এবং তাদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে। গত সপ্তাহে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবার পর থেকে গাজায় হামাসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। অস্ত্রবিরতি স্থিতিশীল হওয়ার পর থেকে হামাস সদস্যরা রাস্তা ও নিরাপত্তা দায়িত্বে ফিরে এসেছে, পুলিশি কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং অপরাধ দমন করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, হামাসের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধ ও লুটপাটে কিছুটা কমতি এসেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির বিষয়। গাজার ব্যবসায়ী হাজিম সারুর বলেছেন, “নিরাপত্তার জন্য আমরা ভুগেছি—চুরি, মারামারি আর আইনশৃঙ্খলার অবনতি। হামাস ছাড়া এই পরিস্থিতি সমাধান সম্ভব নয়, তাই মানুষ তাদের সমর্থন করে।” অন্যদিকে, মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা ২৫ নভেম্বর কায়রোতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় হলো গাজার অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়। এই বৈঠকে মিসর ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান এবং কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনা চলাকালে এই দেশগুলো যৌথভাবে গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। অপরদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বেপরোয়াভাবে আরও দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শেষ শুক্রবার উত্তর জেনিন শহরে এক ভবন অবরুদ্ধ করে, সেখানে থাকা নিরস্ত্র দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ২৬ বছর বয়সী মনতাসির আবদুল্লাহ ও ৩৭ বছর বয়সী ইউসুফ আসাসা। ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, তারা নিরস্ত্র অবস্থায় আত্মসমর্পণ করতে চাইছিল, কিন্তু দখলদার বাহিনী কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য তাদের কাছে গিয়ে গুলি করে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এই ঘটনায় দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অত্র এলাকায় অভিযোগ করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ড ঠাণ্ডা মাথার হত্যা। এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দাপ্তরিক নথিতে মূলত পশ্চিমতীরে ইতিহাসের অন্যতম বড় ভূমি দখলের পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোমান যুগের ঐতিহাসিক স্থাপনা দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। এটি ইসরায়েলি সরকারের আমলে পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থান দখলের ধাপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল বলছে, এই দখলের মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিম তীরের বড় অংশের জমি দখল করে সেখানে ঐতিহাসিক স্থাপনা নিজেদের মালিকানায় নিতে। এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনি নেতারা উল্লেখ করেছেন, এই পরিকল্পনাগুলোর বিরোধিতা করতে তাঁদের ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল সহ ষড়যন্ত্র ও সহিংসতা কমানোর জন্য চাপ বাড়ানোর পর এইসব পরিকল্পনা চলমান থাকলেও, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলিদের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।