০২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে आज প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

মরক্কোতে ‘জেন জি’ বিক্ষোভে সহিংসতা, হাজারেরও বেশি অভিযুক্ত

মরক্কোতে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘জেন জি’ নামের বিক্ষোভ এখন দেশের একটি বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার রূপ নিয়েছে। প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিতে শুরু হলেও, কিছু সময়ে তা সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। এর ফলে সরকার ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন মামলার ব্যবস্থা শুরু করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের কঠোর পদক্ষেপের নিন্দা জানালেও, দেশটির সরকার বলছে—আইনের দৃষ্টিতে তারা সঠিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি মরক্কো সরকার জানিয়েছে, সহিংস ‘জেন জি’ বিক্ষোভের ঘটনার মধ্যে মোট ২৪৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৪৭৩ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে, আর তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—বিদ্রোহে অংশ নেওয়া, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, সরকারি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা, এবং অপরাধে উসকানি দেওয়া। সরকার বলছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতার জবাবে তারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল ‘জেনজি ২১২’ নামক একটি তরুণ সংগঠনের উদ্যোগে। সংগঠনটি সরকারের ভিন্নধর্মী বাজেট বরাদ্দ এবং সরকারি সেবা সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাদের দাবি ছিল—সরকার বেশি অর্থ ব্যয়ে খেলাধুলার অবকাঠামো নির্মাণে মনোযোগ দেয়, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান যেন অবহেলিত। তরুণদের এই আন্দোলন দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও, কিছু শহরে তা সহিংস রূপ নিলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

অভাবনায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য সংগঠকরা অনুরোধ জানালেও, কিছু এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘর্ষের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন নিহত হন, বহু মানুষ আহত হন এবং দোকান ও যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাসাব্লাঙ্কা, মারাকেশসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ আইনের মধ্যে থেকেই হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে, সরকারের এই দমন-পীড়ন অযৌক্তিক ও বেআইনি। মরক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস (AMDH) এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রেপ্তারগুলো ‘এলোমেলো ও অযৌক্তিক’। অন্যদিকে, ‘জেনজি ২১২’ সংগঠনটি তাদের সকল সদস্য ও সমর্থকের মুক্তির জন্য দাবি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সহযোগী পরিচালক হানান সালাহ বলেন, “তরুণদের ন্যায্য দাবির ওপর দমননীতি চাপিয়ে দেয়া যায় না।” তিনি মরক্কো সরকারের তরুণ প্রজন্মের শান্তিপূর্ণ কণ্ঠস্বর শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশিষ্ট র‌্যাপার হামজা রায়েদ, যিনি তরুণদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, তমাপ্রকাশের জন্য গ্রেফতার হয়েছেন। গত মাসে কাসাব্লাঙ্কা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার গানে প্রায়ই রাজনৈতিক অন্যায়, দুর্নীতি এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের কথা উঠে আসে।

এদিকে, গত সোমবার রাজধানী রাবাতের আদালতে তিনজন অভিযুক্ত হাজির হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান ও অপরাধে উসকানি। জানা গেছে, তারা জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে প্রতিবাদসূচক স্লোগান মুদ্রণ করেছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। সংযুক্ত তথ্যসূত্র: সিএনএন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মরক্কোতে ‘জেন জি’ বিক্ষোভে সহিংসতা, হাজারেরও বেশি অভিযুক্ত

প্রকাশিতঃ ১২:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

মরক্কোতে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘জেন জি’ নামের বিক্ষোভ এখন দেশের একটি বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার রূপ নিয়েছে। প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিতে শুরু হলেও, কিছু সময়ে তা সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। এর ফলে সরকার ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন মামলার ব্যবস্থা শুরু করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের কঠোর পদক্ষেপের নিন্দা জানালেও, দেশটির সরকার বলছে—আইনের দৃষ্টিতে তারা সঠিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি মরক্কো সরকার জানিয়েছে, সহিংস ‘জেন জি’ বিক্ষোভের ঘটনার মধ্যে মোট ২৪৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৪৭৩ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে, আর তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—বিদ্রোহে অংশ নেওয়া, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, সরকারি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা, এবং অপরাধে উসকানি দেওয়া। সরকার বলছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতার জবাবে তারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল ‘জেনজি ২১২’ নামক একটি তরুণ সংগঠনের উদ্যোগে। সংগঠনটি সরকারের ভিন্নধর্মী বাজেট বরাদ্দ এবং সরকারি সেবা সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাদের দাবি ছিল—সরকার বেশি অর্থ ব্যয়ে খেলাধুলার অবকাঠামো নির্মাণে মনোযোগ দেয়, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান যেন অবহেলিত। তরুণদের এই আন্দোলন দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও, কিছু শহরে তা সহিংস রূপ নিলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

অভাবনায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য সংগঠকরা অনুরোধ জানালেও, কিছু এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘর্ষের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন নিহত হন, বহু মানুষ আহত হন এবং দোকান ও যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাসাব্লাঙ্কা, মারাকেশসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ আইনের মধ্যে থেকেই হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে, সরকারের এই দমন-পীড়ন অযৌক্তিক ও বেআইনি। মরক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস (AMDH) এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রেপ্তারগুলো ‘এলোমেলো ও অযৌক্তিক’। অন্যদিকে, ‘জেনজি ২১২’ সংগঠনটি তাদের সকল সদস্য ও সমর্থকের মুক্তির জন্য দাবি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সহযোগী পরিচালক হানান সালাহ বলেন, “তরুণদের ন্যায্য দাবির ওপর দমননীতি চাপিয়ে দেয়া যায় না।” তিনি মরক্কো সরকারের তরুণ প্রজন্মের শান্তিপূর্ণ কণ্ঠস্বর শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশিষ্ট র‌্যাপার হামজা রায়েদ, যিনি তরুণদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, তমাপ্রকাশের জন্য গ্রেফতার হয়েছেন। গত মাসে কাসাব্লাঙ্কা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার গানে প্রায়ই রাজনৈতিক অন্যায়, দুর্নীতি এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের কথা উঠে আসে।

এদিকে, গত সোমবার রাজধানী রাবাতের আদালতে তিনজন অভিযুক্ত হাজির হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান ও অপরাধে উসকানি। জানা গেছে, তারা জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে প্রতিবাদসূচক স্লোগান মুদ্রণ করেছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। সংযুক্ত তথ্যসূত্র: সিএনএন।