০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে आज প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আবারও হরমুজ পার পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু; সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ২১,৪৬৭ সময় টেলিভিশন ১৬ বছরে: সঠিক সংবাদ ও বস্তুনিষ্ঠতায় অঙ্গীকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: ভারত প্রক্রিয়া গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে হজযাত্রীদের খাদেম আমরা; সেবা করতে না পারলে পদত্যাগ করা উচিত: ধর্মমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, চারটি ট্যাংকার আগামীকাল ও রবিবার পৌঁছাবে চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি

আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতেই বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা নোঙর তোলা শুরু করেছিল। তবে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনী রেডিও বার্তায় জাহাজটিকে ফেরত যেতে নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে জাহাজটি আবার পারস্য উপসাগরে নিরাপদ স্থানে ফিরে যাচ্ছে।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর পেয়ে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দেওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান থেকে পার হওয়ার অনুমতি না পেয়ে ফেরতির নির্দেশ আসে। তাই আমরা পূর্ববর্তী নোঙর স্থানে, অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফিরে যাচ্ছি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিকেলে জানিয়ে ছিলেন যে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং রাত তিনটার দিকে প্রণালি অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল।

সমুদ্র চলাচল পর্যবেক্ষণকারী মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা দেয়ার পর পরিসরে আটকে থাকা অনেক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে এবং শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে প্রণালির দিকে এগোছিল। কিন্তু রাত পৌনে ১টার দিকে একই ওয়েবসাইটে দেখা যায় তারা আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও ছিল।

বিএসসির তথ্যানুযায়ী, এমভি বাংলার জয়যাত্রা ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে নোঙর করে আছে এবং সেখানে একটি বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু তখনও হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

জাহাজটিতে সৌদি আরবের রাস আল-খাইর বন্দরে থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়েছিল, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে পাঠানো হবে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবার এবং পরে দ্বিতীয় দফায়ও প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি পারস্য উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করছিল। শুক্রবার ছিল তৃতীয় চেষ্টা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও ফিরে আসতে হলো।

এখন জাহাজটি পারস্য উপসাগরে নিরাপদে নোঙরে রয়েছে এবং বিএসসি ও ক্যাপ্টেনের তত্ত্বাবধানে ফের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতেই বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা নোঙর তোলা শুরু করেছিল। তবে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনী রেডিও বার্তায় জাহাজটিকে ফেরত যেতে নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে জাহাজটি আবার পারস্য উপসাগরে নিরাপদ স্থানে ফিরে যাচ্ছে।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর পেয়ে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দেওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান থেকে পার হওয়ার অনুমতি না পেয়ে ফেরতির নির্দেশ আসে। তাই আমরা পূর্ববর্তী নোঙর স্থানে, অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফিরে যাচ্ছি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিকেলে জানিয়ে ছিলেন যে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং রাত তিনটার দিকে প্রণালি অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল।

সমুদ্র চলাচল পর্যবেক্ষণকারী মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা দেয়ার পর পরিসরে আটকে থাকা অনেক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে এবং শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে প্রণালির দিকে এগোছিল। কিন্তু রাত পৌনে ১টার দিকে একই ওয়েবসাইটে দেখা যায় তারা আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও ছিল।

বিএসসির তথ্যানুযায়ী, এমভি বাংলার জয়যাত্রা ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে নোঙর করে আছে এবং সেখানে একটি বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু তখনও হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

জাহাজটিতে সৌদি আরবের রাস আল-খাইর বন্দরে থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়েছিল, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে পাঠানো হবে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবার এবং পরে দ্বিতীয় দফায়ও প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি পারস্য উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করছিল। শুক্রবার ছিল তৃতীয় চেষ্টা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও ফিরে আসতে হলো।

এখন জাহাজটি পারস্য উপসাগরে নিরাপদে নোঙরে রয়েছে এবং বিএসসি ও ক্যাপ্টেনের তত্ত্বাবধানে ফের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছে।