০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার দেশে ভোক্তা পর্যায়ের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছেন। তফাতে প্রতিটি জ্বালানীর দাম এককভাবে বেড়ে গেলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর ধারাবাহিক লম্বা লাইনের দৃশ্য বদলায়নি। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বাড়তি মূল্যে তেল কিনতে আসা মানুষের চাপের ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ প্রতীক্ষা আগের মতোই বারবার চোখে পড়ছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশেষ করে মিরপুর-14, মহাখালী, রমনা ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ত যানজটপূর্ণ এলাকাগুলোতে যানবাহনের সারি কখনও ক্লান্তিকরভাবে সড়ক অতিক্রম করে মূল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে; যা নগরের স্বাভাবিক ট্রাফিককে বিশৃঙ্খল করে দিচ্ছে। সরেজমিনে মিরপুর-14 নম্বরে এক ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা যান সারি দেখা গেছে, যেখানে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং গণপরিবহনের উপস্থিতি সব মিলছে।

রমনায় চিত্রটা আলাদা ধাঁচের; সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও বাইকের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। মতিঝিলে কিছু পাম্পে ডিজিটালভাবে শৃঙ্খলা আনার নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ‘করিম অ্যান্ড সন্স’ ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পয়েন্টে ‘ফুয়েল পাস’ ছাড়া বাইক চালকদের তেল দেওয়া হচ্ছে না—নতুন নিয়মে অনভ্যস্ত চালকদের জন্য এটি বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গতকাল দেওয়া প্রজ্ঞাপনের পরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। অকটেনের দাম লিটারপ্রতি 20 টাকা বাড়িয়ে 140 টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; পেট্রোলের দাম 19 টাকা বাড়ে লিটারপ্রতি 135 টাকা; ডিজেলের দাম 15 টাকা বাড়িয়ে 115 টাকা; এবং কেরোসিনের দাম 18 টাকা বাড়িয়ে 130 টাকা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের 1 ফেব্রুয়ারি তাও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

পাম্পে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা চালকরা ক্ষোভ ও ক্লান্তির কথা জানালেন। বাসচালক সেলিম বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে আমি একদিন তেল নিয়ে শট চালাই, পরের দিন গাড়ি চালাই। দাম বাড়লে কিন্তু লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি যদি কমত, তা হলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম। সাত-আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো সহ্য করা যায় না।”

ফুড ডেলিভারি কর্মী মনির জানান, মোটরসাইকেল চালানোই তার পরিবারের একমাত্র আয়। তিনি বললেন, “অকটেন যে কেউ দামই বাড়াক, আমার কাছে তা সংগ্রহ করাই বাধ্যতামূলক। বাইক বন্ধ হয়ে গেলে পুরো পরিবারের রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে।”

নীতিনির্ধারকরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করা এবং সরবরাহ সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন; তবু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে এই বাড়তি খরচকে বড় বোঝা হিসেবে দেখে বিশ্লেষকরা। তারা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উচ্চ মূল্যের পরও পাম্পে ব্যস্ততা মূলত জ্বালানির তীব্র চাহিদা ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দুর্বলতার প্রতিনিধিত্ব করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি কেটে যাবে না এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই ধৈর্য-সহনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি

তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার দেশে ভোক্তা পর্যায়ের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছেন। তফাতে প্রতিটি জ্বালানীর দাম এককভাবে বেড়ে গেলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর ধারাবাহিক লম্বা লাইনের দৃশ্য বদলায়নি। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বাড়তি মূল্যে তেল কিনতে আসা মানুষের চাপের ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ প্রতীক্ষা আগের মতোই বারবার চোখে পড়ছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশেষ করে মিরপুর-14, মহাখালী, রমনা ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ত যানজটপূর্ণ এলাকাগুলোতে যানবাহনের সারি কখনও ক্লান্তিকরভাবে সড়ক অতিক্রম করে মূল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে; যা নগরের স্বাভাবিক ট্রাফিককে বিশৃঙ্খল করে দিচ্ছে। সরেজমিনে মিরপুর-14 নম্বরে এক ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা যান সারি দেখা গেছে, যেখানে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং গণপরিবহনের উপস্থিতি সব মিলছে।

রমনায় চিত্রটা আলাদা ধাঁচের; সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও বাইকের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। মতিঝিলে কিছু পাম্পে ডিজিটালভাবে শৃঙ্খলা আনার নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ‘করিম অ্যান্ড সন্স’ ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পয়েন্টে ‘ফুয়েল পাস’ ছাড়া বাইক চালকদের তেল দেওয়া হচ্ছে না—নতুন নিয়মে অনভ্যস্ত চালকদের জন্য এটি বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গতকাল দেওয়া প্রজ্ঞাপনের পরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। অকটেনের দাম লিটারপ্রতি 20 টাকা বাড়িয়ে 140 টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; পেট্রোলের দাম 19 টাকা বাড়ে লিটারপ্রতি 135 টাকা; ডিজেলের দাম 15 টাকা বাড়িয়ে 115 টাকা; এবং কেরোসিনের দাম 18 টাকা বাড়িয়ে 130 টাকা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের 1 ফেব্রুয়ারি তাও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

পাম্পে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা চালকরা ক্ষোভ ও ক্লান্তির কথা জানালেন। বাসচালক সেলিম বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে আমি একদিন তেল নিয়ে শট চালাই, পরের দিন গাড়ি চালাই। দাম বাড়লে কিন্তু লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি যদি কমত, তা হলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম। সাত-আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো সহ্য করা যায় না।”

ফুড ডেলিভারি কর্মী মনির জানান, মোটরসাইকেল চালানোই তার পরিবারের একমাত্র আয়। তিনি বললেন, “অকটেন যে কেউ দামই বাড়াক, আমার কাছে তা সংগ্রহ করাই বাধ্যতামূলক। বাইক বন্ধ হয়ে গেলে পুরো পরিবারের রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে।”

নীতিনির্ধারকরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করা এবং সরবরাহ সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন; তবু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে এই বাড়তি খরচকে বড় বোঝা হিসেবে দেখে বিশ্লেষকরা। তারা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উচ্চ মূল্যের পরও পাম্পে ব্যস্ততা মূলত জ্বালানির তীব্র চাহিদা ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দুর্বলতার প্রতিনিধিত্ব করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি কেটে যাবে না এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই ধৈর্য-সহনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে।