০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সিইসির ঘোষণা: তফসিলের আগে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা সর্বোচ্চ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি জানান, তফসিলের ঘোষণা পর কোথাও যদি অনিয়মের ঘটনা ঘটে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কড়া পদক্ষেপ নেবে এবং সব ধরনের অসাধু চর্চা কঠোরভাবে দমন করা হবে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এই সংলাপে পঞ্চদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সিইসি জানান, এই নির্বাচন নিয়ে ইসি প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসেছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি দল উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। তবে এটা মেনে নেওয়া যায় না যে, দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তারপর সহিংসতা বা অনিয়মের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।”তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা শহরে পোস্টার নিষিদ্ধের পরও বিভিন্ন দল নিজেরা পোস্টার লাগানো বন্ধ করেনি, যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ নিয়ে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী, সকল দলকে তাদের নিজ নিজ পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এক সময় বিভিন্ন চাপের মুখে পড়েও নির্বাচন কমিশন সৎভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “বিশেষ পরিস্থিতি ও সরকারের পক্ষ থেকে চাপ আসছে, যা আমাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাব।”সিইসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বল, এটি একটি বড় বিপদ। তিনি বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমরা এই বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। সোশ্যাল মিডিয়া যেন প্রভাব না ফেলে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সংলাপে অংশ নেন ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সেখানে আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল- তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী ও দলের প্রস্তুতি, আচরণবিধি মানা, অঙ্গীকারনামা সম্পাদন, প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান, নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ, ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ, এআই এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বির্জন, লিঙ্গ, বর্ণ ও ধর্মের মধ্যে বৈষম্য এড়ানো, ও ধর্মীয় উপসনালয়কে ভোট প্রচারণার কাজে ব্যবহার না করার বিষয়টি ছিল মূল আলোচনা।আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) আরও ১২টি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, মূলত এই দিন সকাল ও বিকেল সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি জানান, এই সংলাপের লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দায়িত্ব ও দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে, যেন নির্বিঘ্নে ও ন্যায্যভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সিইসির ঘোষণা: তফসিলের আগে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা সর্বোচ্চ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি জানান, তফসিলের ঘোষণা পর কোথাও যদি অনিয়মের ঘটনা ঘটে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কড়া পদক্ষেপ নেবে এবং সব ধরনের অসাধু চর্চা কঠোরভাবে দমন করা হবে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এই সংলাপে পঞ্চদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সিইসি জানান, এই নির্বাচন নিয়ে ইসি প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসেছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি দল উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। তবে এটা মেনে নেওয়া যায় না যে, দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তারপর সহিংসতা বা অনিয়মের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।”তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা শহরে পোস্টার নিষিদ্ধের পরও বিভিন্ন দল নিজেরা পোস্টার লাগানো বন্ধ করেনি, যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ নিয়ে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী, সকল দলকে তাদের নিজ নিজ পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এক সময় বিভিন্ন চাপের মুখে পড়েও নির্বাচন কমিশন সৎভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “বিশেষ পরিস্থিতি ও সরকারের পক্ষ থেকে চাপ আসছে, যা আমাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাব।”সিইসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বল, এটি একটি বড় বিপদ। তিনি বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমরা এই বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। সোশ্যাল মিডিয়া যেন প্রভাব না ফেলে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সংলাপে অংশ নেন ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সেখানে আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল- তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী ও দলের প্রস্তুতি, আচরণবিধি মানা, অঙ্গীকারনামা সম্পাদন, প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান, নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ, ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ, এআই এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বির্জন, লিঙ্গ, বর্ণ ও ধর্মের মধ্যে বৈষম্য এড়ানো, ও ধর্মীয় উপসনালয়কে ভোট প্রচারণার কাজে ব্যবহার না করার বিষয়টি ছিল মূল আলোচনা।আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) আরও ১২টি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, মূলত এই দিন সকাল ও বিকেল সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি জানান, এই সংলাপের লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দায়িত্ব ও দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে, যেন নির্বিঘ্নে ও ন্যায্যভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।