০২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

সিইসির ঘোষণা: তফসিলের আগে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা সর্বোচ্চ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি জানান, তফসিলের ঘোষণা পর কোথাও যদি অনিয়মের ঘটনা ঘটে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কড়া পদক্ষেপ নেবে এবং সব ধরনের অসাধু চর্চা কঠোরভাবে দমন করা হবে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এই সংলাপে পঞ্চদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সিইসি জানান, এই নির্বাচন নিয়ে ইসি প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসেছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি দল উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। তবে এটা মেনে নেওয়া যায় না যে, দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তারপর সহিংসতা বা অনিয়মের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।”তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা শহরে পোস্টার নিষিদ্ধের পরও বিভিন্ন দল নিজেরা পোস্টার লাগানো বন্ধ করেনি, যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ নিয়ে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী, সকল দলকে তাদের নিজ নিজ পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এক সময় বিভিন্ন চাপের মুখে পড়েও নির্বাচন কমিশন সৎভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “বিশেষ পরিস্থিতি ও সরকারের পক্ষ থেকে চাপ আসছে, যা আমাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাব।”সিইসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বল, এটি একটি বড় বিপদ। তিনি বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমরা এই বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। সোশ্যাল মিডিয়া যেন প্রভাব না ফেলে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সংলাপে অংশ নেন ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সেখানে আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল- তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী ও দলের প্রস্তুতি, আচরণবিধি মানা, অঙ্গীকারনামা সম্পাদন, প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান, নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ, ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ, এআই এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বির্জন, লিঙ্গ, বর্ণ ও ধর্মের মধ্যে বৈষম্য এড়ানো, ও ধর্মীয় উপসনালয়কে ভোট প্রচারণার কাজে ব্যবহার না করার বিষয়টি ছিল মূল আলোচনা।আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) আরও ১২টি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, মূলত এই দিন সকাল ও বিকেল সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি জানান, এই সংলাপের লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দায়িত্ব ও দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে, যেন নির্বিঘ্নে ও ন্যায্যভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

সিইসির ঘোষণা: তফসিলের আগে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা সর্বোচ্চ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি জানান, তফসিলের ঘোষণা পর কোথাও যদি অনিয়মের ঘটনা ঘটে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কড়া পদক্ষেপ নেবে এবং সব ধরনের অসাধু চর্চা কঠোরভাবে দমন করা হবে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এই সংলাপে পঞ্চদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সিইসি জানান, এই নির্বাচন নিয়ে ইসি প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসেছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি দল উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। তবে এটা মেনে নেওয়া যায় না যে, দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তারপর সহিংসতা বা অনিয়মের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।”তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা শহরে পোস্টার নিষিদ্ধের পরও বিভিন্ন দল নিজেরা পোস্টার লাগানো বন্ধ করেনি, যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ নিয়ে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী, সকল দলকে তাদের নিজ নিজ পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এক সময় বিভিন্ন চাপের মুখে পড়েও নির্বাচন কমিশন সৎভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “বিশেষ পরিস্থিতি ও সরকারের পক্ষ থেকে চাপ আসছে, যা আমাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাব।”সিইসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বল, এটি একটি বড় বিপদ। তিনি বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমরা এই বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। সোশ্যাল মিডিয়া যেন প্রভাব না ফেলে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সংলাপে অংশ নেন ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সেখানে আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল- তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী ও দলের প্রস্তুতি, আচরণবিধি মানা, অঙ্গীকারনামা সম্পাদন, প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান, নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ, ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ, এআই এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বির্জন, লিঙ্গ, বর্ণ ও ধর্মের মধ্যে বৈষম্য এড়ানো, ও ধর্মীয় উপসনালয়কে ভোট প্রচারণার কাজে ব্যবহার না করার বিষয়টি ছিল মূল আলোচনা।আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) আরও ১২টি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, মূলত এই দিন সকাল ও বিকেল সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি জানান, এই সংলাপের লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দায়িত্ব ও দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে, যেন নির্বিঘ্নে ও ন্যায্যভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।