১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

এনইআইআর বাতিল নয়, পুনর্গঠন চান মোবাইল ব্যবসায়ীরা

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রকল্পের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের মোবাইল বাজারে নতুন সিন্ডিকেট গঠন করার অপপ্রয়াস চলছে বলে অভিযোগ উল্লেখ করেছে মোবাইল ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ। সংগঠনের দাবি, দেশের মোট মোবাইল ব্যবসায়ীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে মাত্র ৩০ শতাংশ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।

তারা জানান, মোবাইল ব্যবসায়ীরা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিল করতে চান না। বরং তারা চাইছেন, একটি একবছর সময় হিসেবে নেওয়া হোক এই সিস্টেমটি পুনর্গঠন ও বাস্তবায়নের জন্য, এবং এর 전에 একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হোক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিজনেস ফোরামের সভাপতি আরিফুর রহমান, শাহ আলম বোখারীসহ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রেস কনফারেন্স ভণ্ডুল করার জন্য বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি সাধারণ সম্পাদক পিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার মধ্যে কেবল এই সংবাদ সম্মেলন ঠেকানোর জন্যই তাকে আটক করা হয়। তাদের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন কিছু ব্র্যান্ড ও বাজার নিয়ন্ত্রক স্বার্থগোষ্ঠী।

এক ব্যবসায়ী নেতা প্রকাশ করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় সেই সিন্ডিকেটই আমাদের সাধারণ সম্পাদককে টার্গেট করেছে। মোবাইল ব্যবসায়ীরা এক পক্ষ থেকে বলেন, তারা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে নয়। বরং এক বছর সময় নিয়ে সিস্টেমটি পুনর্গঠন ও বাস্তবায়নের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার বলে মনে করেন।

আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী বৈধভাবে আনা মোবাইল ফোনের বিক্রি সীমিত হলে লাখো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলছেন, এনইআইআর চালুর ফলে প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি পাবে, যা মোবাইলের দামে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সৃষ্টি করবে। ফলে সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, দর্জি, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরও জানান, গ্রে মার্কেটে কম দামে ভালো কনফিগারেশনের মোবাইল পাওয়ায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন উপকৃত হয়েছে। তবে, ভবিষ্যতের জন্য যখন এই আইনে নির্ভরশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে, তখন মোবাইল ফোনের দাম বেড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা অনড়। মাত্র ১৮ জনের লাইসেন্সের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টাও অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে তারা মনে করেন।

সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমানে দেশের মোবাইল বাজারের মূল নিয়ন্ত্রণ কিছু মাত্র ১৮ জন লাইসেন্সধারীর হাতে কেন্দ্রীভূত। তাদের দাবি, ২০ কোটির বেশি মানুষের দেশে এত অল্পসংখ্যক ব্যক্তির হাতে মোবাইল ব্যবসার লাইসেন্স থাকা অযৌক্তিক। বাজারে প্রতিযোগিতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে লাইসেন্সের সংখ্যা অন্তত পাঁচ হাজারে উন্নীত করতে হবে।

অবশেষে, নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে এনইআইআর বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরাসরি কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা বলছেন, জনগণ ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে। সতর্ক করে তারা বলেন, জনগণকে উত্তেজিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে, তিনি বলেন, গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

এনইআইআর বাতিল নয়, পুনর্গঠন চান মোবাইল ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিতঃ ১১:৫১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রকল্পের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের মোবাইল বাজারে নতুন সিন্ডিকেট গঠন করার অপপ্রয়াস চলছে বলে অভিযোগ উল্লেখ করেছে মোবাইল ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ। সংগঠনের দাবি, দেশের মোট মোবাইল ব্যবসায়ীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে মাত্র ৩০ শতাংশ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।

তারা জানান, মোবাইল ব্যবসায়ীরা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিল করতে চান না। বরং তারা চাইছেন, একটি একবছর সময় হিসেবে নেওয়া হোক এই সিস্টেমটি পুনর্গঠন ও বাস্তবায়নের জন্য, এবং এর 전에 একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হোক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিজনেস ফোরামের সভাপতি আরিফুর রহমান, শাহ আলম বোখারীসহ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রেস কনফারেন্স ভণ্ডুল করার জন্য বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি সাধারণ সম্পাদক পিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার মধ্যে কেবল এই সংবাদ সম্মেলন ঠেকানোর জন্যই তাকে আটক করা হয়। তাদের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন কিছু ব্র্যান্ড ও বাজার নিয়ন্ত্রক স্বার্থগোষ্ঠী।

এক ব্যবসায়ী নেতা প্রকাশ করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় সেই সিন্ডিকেটই আমাদের সাধারণ সম্পাদককে টার্গেট করেছে। মোবাইল ব্যবসায়ীরা এক পক্ষ থেকে বলেন, তারা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে নয়। বরং এক বছর সময় নিয়ে সিস্টেমটি পুনর্গঠন ও বাস্তবায়নের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার বলে মনে করেন।

আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী বৈধভাবে আনা মোবাইল ফোনের বিক্রি সীমিত হলে লাখো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলছেন, এনইআইআর চালুর ফলে প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি পাবে, যা মোবাইলের দামে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সৃষ্টি করবে। ফলে সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, দর্জি, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরও জানান, গ্রে মার্কেটে কম দামে ভালো কনফিগারেশনের মোবাইল পাওয়ায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন উপকৃত হয়েছে। তবে, ভবিষ্যতের জন্য যখন এই আইনে নির্ভরশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে, তখন মোবাইল ফোনের দাম বেড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা অনড়। মাত্র ১৮ জনের লাইসেন্সের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টাও অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে তারা মনে করেন।

সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমানে দেশের মোবাইল বাজারের মূল নিয়ন্ত্রণ কিছু মাত্র ১৮ জন লাইসেন্সধারীর হাতে কেন্দ্রীভূত। তাদের দাবি, ২০ কোটির বেশি মানুষের দেশে এত অল্পসংখ্যক ব্যক্তির হাতে মোবাইল ব্যবসার লাইসেন্স থাকা অযৌক্তিক। বাজারে প্রতিযোগিতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে লাইসেন্সের সংখ্যা অন্তত পাঁচ হাজারে উন্নীত করতে হবে।

অবশেষে, নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে এনইআইআর বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরাসরি কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা বলছেন, জনগণ ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে। সতর্ক করে তারা বলেন, জনগণকে উত্তেজিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে, তিনি বলেন, গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।