০৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

প্রিন্সেস ডায়ানার রিভেঞ্জ ড্রেসের মূল্য এখন ৬ লাখ ডলার

প্রিন্সেস ডায়ানার কালো ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ এখন শুধু তাঁর ফ্যাশনের প্রতীকই নয়, তা একেবারে দৃঢ়তা ও সাহসের প্রতীক হিসেবেও চিরস্মরণীয়। সম্প্রতি এই পোশাক আবারও আলোচনায় এসেছে, কারণ গত বৃহস্পতিবার প্যারিসের মিউজে গ্রেভাঁ জাদুঘরে ওল্ডেক্সের প্রয়াত এই রাজকুমারীর নতুন করে তৈরি মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে তাকে দেখা গেছে সেই অফ শোল্ডার কালো পোশাকে, যেটি তিনি ১৯৯৪ সালে কেনসিংটন গার্ডেনসের সারপেন্টাইন গ্যালারিতে এক নৈশভোজে পরেছিলেন এবং যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।

এই বিখ্যাত পোশাকের পিছনের কাহিনী বোঝার জন্য একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের (বর্তমানে রাজার পদে আছেন তিনি) দাম্পত্যে নানা বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছিল। তিনি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, তিনি ব্রিটেনের রাজা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

১৯৯২ সালে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর এই দম্পতির বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, যা তখন থেকেই তাদের জীবনে অস্থিরতা ও উত্থান-পতনের সূচনা। ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে, ১৯৯৪ সালের ২৯ জুন, আইটিভির এক তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লস প্রকাশ করেছেন, তিনি ডায়ানার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। একই বছর, লন্ডনের সারপেন্টাইন গ্যালারিতে ভ্যানিটি ফেয়ার গালায় উপস্থিত ছিলেন ডায়ানা সেই কালো ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ পড়ে, যা তার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে রইল।

পিপল ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে, এই ডিজাইনের বিশেষজ্ঞ মিশেল টাউবারিকো বলেন, ডায়ানা যেমন শুনেছিলেন আর বিশ্ব জানত, তা তার জন্য খুবই কষ্টদায়ক ছিল। চার্লসের বিশ্বাসঘাতকতা তাকে গভীর আঘাত দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে অন্য কেউ হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ত, কিন্তু ডায়ানা দৃঢ় থাকলেন। সেই সময় তার আগের পরিকল্পনা ছিল ভ্যালেনটিনো ডিজাইন পোশাক পরার, তবে শেষ মুহূর্তে তিনি এই সাহসী কালো গাউনটি পরার সিদ্ধান্ত নেন। ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের মতে, তিন বছর ধরে সঞ্চয় করেছিলেন এই পোশাকটি, কিন্তু কখনো পরে দেখেননি।

বড় পর্দার জন্য তৈরি এই পোশাকের ডিজাইনার উইলিয়াম আইভি লং বলেন, ডায়ানা সিদ্ধান্ত নেন লড়াই করবেন, এবং সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এমন একটি পোশাক বেছে নেন, যা আগে তিনি একটু বেশি সাহসী ভেবে পরতেন। ওই পোশাক পরে তিনি জনসম্মুখে হাজির হন।

১৯৯৭ সালে, ডায়ানা তার ৭৯টি গাউন নিলামে বিক্রি করেন, যার মধ্যে ঐ ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ অন্যতম। এটি বিক্রি হয় স্কটল্যান্ডের ব্যবসায়ী গ্রায়েম ম্যাকেনজির কাছে, মূল্য হয়েছিল ২৪ হাজার ১৫০ ডলার। এই গাউন বিক্রির মাধ্যমে তিনি মোট ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেন, যা অ্যাডস ও ক্যানসারবিরোধী দাতব্য কাজে ব্যয় হয়।

২০২৩ সালে, এই পোশাক আবার নিউইয়র্কের ‘সদবিস’ নিলামে ওঠে। দরদাতাদের মধ্যে কড়া প্রতিযোগিতা চলে, শেষে এটি বিক্রি হয় ৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ডলার। এটি এখন ইতিহাসের এক অনন্য ঐতিহ্য ও সাহসের প্রতীক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

প্রিন্সেস ডায়ানার রিভেঞ্জ ড্রেসের মূল্য এখন ৬ লাখ ডলার

প্রকাশিতঃ ১২:০২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

প্রিন্সেস ডায়ানার কালো ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ এখন শুধু তাঁর ফ্যাশনের প্রতীকই নয়, তা একেবারে দৃঢ়তা ও সাহসের প্রতীক হিসেবেও চিরস্মরণীয়। সম্প্রতি এই পোশাক আবারও আলোচনায় এসেছে, কারণ গত বৃহস্পতিবার প্যারিসের মিউজে গ্রেভাঁ জাদুঘরে ওল্ডেক্সের প্রয়াত এই রাজকুমারীর নতুন করে তৈরি মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে তাকে দেখা গেছে সেই অফ শোল্ডার কালো পোশাকে, যেটি তিনি ১৯৯৪ সালে কেনসিংটন গার্ডেনসের সারপেন্টাইন গ্যালারিতে এক নৈশভোজে পরেছিলেন এবং যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।

এই বিখ্যাত পোশাকের পিছনের কাহিনী বোঝার জন্য একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের (বর্তমানে রাজার পদে আছেন তিনি) দাম্পত্যে নানা বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছিল। তিনি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, তিনি ব্রিটেনের রাজা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

১৯৯২ সালে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর এই দম্পতির বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, যা তখন থেকেই তাদের জীবনে অস্থিরতা ও উত্থান-পতনের সূচনা। ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে, ১৯৯৪ সালের ২৯ জুন, আইটিভির এক তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লস প্রকাশ করেছেন, তিনি ডায়ানার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। একই বছর, লন্ডনের সারপেন্টাইন গ্যালারিতে ভ্যানিটি ফেয়ার গালায় উপস্থিত ছিলেন ডায়ানা সেই কালো ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ পড়ে, যা তার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে রইল।

পিপল ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে, এই ডিজাইনের বিশেষজ্ঞ মিশেল টাউবারিকো বলেন, ডায়ানা যেমন শুনেছিলেন আর বিশ্ব জানত, তা তার জন্য খুবই কষ্টদায়ক ছিল। চার্লসের বিশ্বাসঘাতকতা তাকে গভীর আঘাত দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে অন্য কেউ হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ত, কিন্তু ডায়ানা দৃঢ় থাকলেন। সেই সময় তার আগের পরিকল্পনা ছিল ভ্যালেনটিনো ডিজাইন পোশাক পরার, তবে শেষ মুহূর্তে তিনি এই সাহসী কালো গাউনটি পরার সিদ্ধান্ত নেন। ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের মতে, তিন বছর ধরে সঞ্চয় করেছিলেন এই পোশাকটি, কিন্তু কখনো পরে দেখেননি।

বড় পর্দার জন্য তৈরি এই পোশাকের ডিজাইনার উইলিয়াম আইভি লং বলেন, ডায়ানা সিদ্ধান্ত নেন লড়াই করবেন, এবং সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এমন একটি পোশাক বেছে নেন, যা আগে তিনি একটু বেশি সাহসী ভেবে পরতেন। ওই পোশাক পরে তিনি জনসম্মুখে হাজির হন।

১৯৯৭ সালে, ডায়ানা তার ৭৯টি গাউন নিলামে বিক্রি করেন, যার মধ্যে ঐ ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ অন্যতম। এটি বিক্রি হয় স্কটল্যান্ডের ব্যবসায়ী গ্রায়েম ম্যাকেনজির কাছে, মূল্য হয়েছিল ২৪ হাজার ১৫০ ডলার। এই গাউন বিক্রির মাধ্যমে তিনি মোট ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেন, যা অ্যাডস ও ক্যানসারবিরোধী দাতব্য কাজে ব্যয় হয়।

২০২৩ সালে, এই পোশাক আবার নিউইয়র্কের ‘সদবিস’ নিলামে ওঠে। দরদাতাদের মধ্যে কড়া প্রতিযোগিতা চলে, শেষে এটি বিক্রি হয় ৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ডলার। এটি এখন ইতিহাসের এক অনন্য ঐতিহ্য ও সাহসের প্রতীক।