০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন এবং চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের বাণিজ্যচুক্তির ফলে দেশের ওপর নির্দিষ্ট উৎস থেকে পণ্য আমদানির চাপ বাড়বে, অনেক সময় সেগুলো বাস্তবে প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে যে পণ্যগুলো পেতে পারি, সেগুলোও নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আনতে বাধ্য করা হতে পারে। ফলত অর্থনীতিতে অযৌক্তিক ব্যয় বাড়বে এবং বাজার ব্যবস্থায় বিকৃতি বিরাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো দেশের স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব। চুক্তির শর্তাভুক্তির ফলে বাংলাদেশ নিজের বাণিজ্যনীতি, কোন দেশ থেকে কী কেনা হবে বা না কেনা হবে—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না; বরং নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থ ও নির্দেশনার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

ডা. হারুন-অর-রশীদ বক্তব্যে বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। বর্তমানে দেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে তা তুলনামূলক নমনীয় পেটেন্ট নীতির ফলে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু চুক্তিতে মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত কঠোর শর্ত আরোপ হলে স্থানীয় কোম্পানিগুলো জেনেরিক ওষুধ সহজে উৎপাদন করতে পারবে না, যা জনগণের কাছে ওষুধের জোড়ালো ও সাশ্রয়ী সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় ছোট ও কুটির শিল্প ধ্বংসের পাশাপাশি পোল্ট্রি খাতকে ধসিয়ে দেবে এবং গরিব জনগণের রুটি-রুজির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করার মাধ্যমে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না, তাই বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করা উচিত।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, দেশের সার্বভৌম ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে مقدم্য না করে কোন বিদেশি দিকনির্দেশনার তাবেদারি করে ভবিষ্যত গড়া যাবে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন এবং চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের বাণিজ্যচুক্তির ফলে দেশের ওপর নির্দিষ্ট উৎস থেকে পণ্য আমদানির চাপ বাড়বে, অনেক সময় সেগুলো বাস্তবে প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে যে পণ্যগুলো পেতে পারি, সেগুলোও নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আনতে বাধ্য করা হতে পারে। ফলত অর্থনীতিতে অযৌক্তিক ব্যয় বাড়বে এবং বাজার ব্যবস্থায় বিকৃতি বিরাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো দেশের স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব। চুক্তির শর্তাভুক্তির ফলে বাংলাদেশ নিজের বাণিজ্যনীতি, কোন দেশ থেকে কী কেনা হবে বা না কেনা হবে—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না; বরং নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থ ও নির্দেশনার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

ডা. হারুন-অর-রশীদ বক্তব্যে বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। বর্তমানে দেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে তা তুলনামূলক নমনীয় পেটেন্ট নীতির ফলে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু চুক্তিতে মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত কঠোর শর্ত আরোপ হলে স্থানীয় কোম্পানিগুলো জেনেরিক ওষুধ সহজে উৎপাদন করতে পারবে না, যা জনগণের কাছে ওষুধের জোড়ালো ও সাশ্রয়ী সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় ছোট ও কুটির শিল্প ধ্বংসের পাশাপাশি পোল্ট্রি খাতকে ধসিয়ে দেবে এবং গরিব জনগণের রুটি-রুজির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করার মাধ্যমে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না, তাই বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করা উচিত।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, দেশের সার্বভৌম ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে مقدم্য না করে কোন বিদেশি দিকনির্দেশনার তাবেদারি করে ভবিষ্যত গড়া যাবে না।