০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

পাট খাতের ভুলের পুনরাবৃত্তি বস্ত্র খাতে হবে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশের পাট শিল্প অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি আশ্বাস দেন যে, পাট খাতে যে ভুলগুলো হয়েছিল, সেই ভুল পুনরাবৃত্তি আবার যেন বস্ত্র খাতে না হয়।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘পাট শিল্পে অতীতে অদক্ষতা, অযোগ্যতা, দুর্বৃত্তায়ন এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এই শিল্পের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। ভুয়া স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, যাদের সাথে বাস্তবতার মিল ছিল না। প্রয়োজনীয় কিছু অর্জন না করে শুধুই স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ‘আমরা অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সবাই মিলে বাস্তবতা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবো। আবেগ বা অহেতুক সিদ্ধান্তে না গিয়ে, কর্মবন্টন ও পরিকল্পনা বাস্তবসম্মতভাবে নেবো।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে আয়োজিত ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে ‘রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রেইনভেনশন: ক্রিয়েটিং স্কিল্ড প্রফেশনালস ফর দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে সংগঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট সচিব বিলকিস জাহান রিমি। এবারের জাতীয় বস্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘বস্ত্র শিল্পের প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি’।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের বস্ত্র খাত এখন আর শুধু একটি শিল্প নয়, বরং দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। এই শিল্পের মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য রেখেছি, বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিল্প, একাডেমিয়া এবং নীতিনির্ধারকদের একত্রে কাজ করতে হবে। সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে পৃথিবীর বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিশ্ববাজারে টিকে থাকায় দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে থাকুক ক্রুড অয়েল, আর আমাদের আছে ১৮ কোটি মানবসম্পদ। এই মানবসম্পদকে দক্ষ করে তুলতে পারলে, বস্ত্র শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত opens হবে।

পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এক বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তৈরি একটি রিভলভিং ফান্ডের মাধ্যমে ১৬০০ এর বেশি উদ্যোক্তার সহায়তা করা হচ্ছে। এই ফান্ড থেকে পাটপণ্য কিনে পুনরায় বিক্রি করে সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এবারের বাণিজ্য মেলায় ১০ লাখ পাটের ব্যাগ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটের ব্যাগকে আবার মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

পাট খাতের ভুলের পুনরাবৃত্তি বস্ত্র খাতে হবে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশের পাট শিল্প অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি আশ্বাস দেন যে, পাট খাতে যে ভুলগুলো হয়েছিল, সেই ভুল পুনরাবৃত্তি আবার যেন বস্ত্র খাতে না হয়।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘পাট শিল্পে অতীতে অদক্ষতা, অযোগ্যতা, দুর্বৃত্তায়ন এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এই শিল্পের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। ভুয়া স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, যাদের সাথে বাস্তবতার মিল ছিল না। প্রয়োজনীয় কিছু অর্জন না করে শুধুই স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ‘আমরা অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সবাই মিলে বাস্তবতা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবো। আবেগ বা অহেতুক সিদ্ধান্তে না গিয়ে, কর্মবন্টন ও পরিকল্পনা বাস্তবসম্মতভাবে নেবো।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে আয়োজিত ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে ‘রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রেইনভেনশন: ক্রিয়েটিং স্কিল্ড প্রফেশনালস ফর দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে সংগঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট সচিব বিলকিস জাহান রিমি। এবারের জাতীয় বস্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘বস্ত্র শিল্পের প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি’।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের বস্ত্র খাত এখন আর শুধু একটি শিল্প নয়, বরং দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। এই শিল্পের মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য রেখেছি, বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিল্প, একাডেমিয়া এবং নীতিনির্ধারকদের একত্রে কাজ করতে হবে। সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে পৃথিবীর বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিশ্ববাজারে টিকে থাকায় দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে থাকুক ক্রুড অয়েল, আর আমাদের আছে ১৮ কোটি মানবসম্পদ। এই মানবসম্পদকে দক্ষ করে তুলতে পারলে, বস্ত্র শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত opens হবে।

পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এক বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তৈরি একটি রিভলভিং ফান্ডের মাধ্যমে ১৬০০ এর বেশি উদ্যোক্তার সহায়তা করা হচ্ছে। এই ফান্ড থেকে পাটপণ্য কিনে পুনরায় বিক্রি করে সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এবারের বাণিজ্য মেলায় ১০ লাখ পাটের ব্যাগ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটের ব্যাগকে আবার মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।